চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের নতুন ভবনে করোনা প্রি-আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুতের পথে

 মোঃরাশেদ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ ইতিমধ্যে সরকারী ব্যবস্থাপনায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট করোনা ওয়ার্ড তৈরির প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে দিয়েছে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ)। অল্প কদিনের মধ্যেই চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে করোনা প্রি-আইসোলেশন ওয়ার্ড সম্পূর্ণভাবে চালু করা সম্ভব হবে। বর্তমান হাসপাতাল হতে সম্পূর্ণ আলাদা ইউনিটটি এবং ইহা হাসপাতালের নতুন ভবনে স্থাপিত হচ্ছে। ৫৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সেবা বর্ধিত করার লক্ষ্যে নির্মিত এই নতুন ভবনকে করোনা ভাইরাসের মহামারী মোকাবেলায় হাসপাতাল পরিচালনা পরিষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক করোনা ওয়ার্ড তৈরি করা হচ্ছে। করোনা মোকাবেলায় এই সাহসী উদ্যোগ বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে এক ঝাক ডাক্তার, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ পরিচালকবৃন্দ।
গত ১৫ মে এই চলমান কার্যক্রম পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম ১০ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এম এ লতিফ ও সরকার দলীয় সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা কেন্দ্রীয় পরিষদ (স্বাচিব) এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা: আ ম ম মিনহাজুর রহমান। এসময় উপস্থিত ছিলেন হাসপাতাল কার্যনির্বাহী কমিটি ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোরশেদ হোসেন, ট্রেজারার রেজাউল করিম আজাদ, ইসি মেম্বার ও করোনা ওয়ার্ড বাস্তবায়ন কমিটির উপদেষ্টা ইন্জিনিয়ার মোঃ জাবেদ আবছার চৌধুরী ও আহসান উল্লাহ। সাথে ছিলেন হাসপাতালের পরিচালক (প্রশাসন) ডাক্তার নুরুল হক, উপ পরিচালক (প্রশাসন) ডাক্তার এ কে এম আশরাফুল করিম ও উপ-পরিচালক (ফাইন্যান্স) মনজুর আলম, সহকারী পরিচালক ডাক্তার আবু সাঈদ, ডাক্তার ফাহিম রেজা, ডাক্তার কামাল হোসেন জুয়েল, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শ্রী অনুরূপ সহ নির্মাণ কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। স্থানীয় সংসদ সদস্য এম এ লতিফ ও চিকিৎসক নেতা ডা: আ ম ম মিনহাজুর রহমান পরিদর্শনকালে ১৬ তলা (প্রতিটি ফ্লোর ৫০ হাজার বর্গফুট) বিশিষ্ট নব নির্মিত এই ভবনের অবকাঠামোগত সুযোগ সুবিধা দেখে করোনা মোকাবেলায় চট্টগ্রামবাসীর জন্য এই হাসপাতালের বেশ দারুন সুযোগ আছে বলে মতামত ব্যক্ত করেন।
এসময় কার্য্যনির্বাহী কমিটিও সরকারের সহযোগীতা থাকলে মানবিক বিবেচনায় করোনা মোকাবেলায় চট্টগ্রামবাসীর পাশে থাকবে বলে বলেন। এসময় স্থানীয় সংসদ সদস্য হাসপাতালের জন্য দুইটি ডিজইনফেক্টান্ট চেম্বার, দুইটি ভেন্টিলেটর প্রদানের ঘোষনা দেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে চিকিৎসক নার্স স্বাস্থ্যকর্মীরা যে অবদান রেখে যাচ্ছেন তার জন্য স্থানীয় এমপি সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। অতীতের মতো ভবিষ্যতেও মা ও শিশু হাসপাতালের কার্যক্রমের সাহসিকতার সাথে চিকিৎসক-নার্স স্বাস্থ্যকর্মীদের চলমান সেবা কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান হাসপাতাল পরিচালনা কমিটি। স্বাচিব কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আ ম ম মিনহাজুর রহমান হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক, ইন্টার্ন ডক্টরস ও স্বাস্থ্য কর্মীদের জন্য N 95 , KN 95 মাস্ক, সার্জিক্যাল মাস্কসহ আরো কিছু উপহার সামগ্রি মাননীয় এমপি মহোদয়ের উপস্থিতিতে হাসপাতালে প্রদান করেন।
উল্ল্যেখ্য যে, গত কিছুদিনের মধ্যে পৃথক পৃথক ভাবে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, চট্টগ্রামের সিভিল সার্জেন ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের একটি প্রতিনিধিদল হাসপাতাল পরিদর্শনে আসেন। হাসপাতালের নবনির্মিত ভবন ও সেবা কার্যক্রমসহ হাসপাতালের সার্বিক অবস্থা দেখে সন্তোষজনক বলে মতামত দেন। পরবর্তীতে পবিত্র ঈদুল ফিতর সহ প্রতিটি দিন হাসপাতালে আগত রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত রাখার লক্ষ্যে সকল বিভাগে কার্যরত সহকারি রেজিস্টার গণের সাথে কার্যনির্বাহী কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম মোরশেদ হোসেন এর সভাপতিত্বে পর্যালোচনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে উপস্থিত ছিলেন পরিচালনা পরিষদের সদস্য (ডোনার) ইঞ্জিনিয়ার মোঃ জাবেদ আবছার চৌধুরী, মেডিসিন বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডাক্তার শেখ হাসান মামুন, ইউরোলজি বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডাক্তার সাইফুদ্দিন সিদ্দিকী সুজা, প্যাথলজি বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডাক্তার রাজিয়া সুলতানা, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডাক্তার নাহিদা সুলতানা, শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের প্রফেসর ডাক্তার মাহমুদ চৌধুরী আরজু, প্রফেসর ডাক্তার ওয়াজির আহমদ, প্রফেসর ডাক্তার রেজাউল করিম, অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডাক্তার অলক নন্দী এবং অনকোলজি বিভাগের প্রধান সহকারি প্রফেসর ডাক্তার শেফাতুজজাহান মানতার জয় হোক।