চট্টগ্রাম বিভাগীয় রেলওয়ে কর্মকর্তাদের চাঁদপুর পরিদর্শন

 মোহাম্মদ বিপ্লব সরকার, চাঁদপুর প্রতিনিধি: ‘আনন্দ ভ্রমণ আর নিরাপদ জীবন’ বাংলাদেশ রেলওয়ে যোগাযোগ। কিন্তু দূর-দূরান্ত থেকে আসা যাত্রীদের জন্য বিশ্রামাগার ও কেন্টিন না থাকায় চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, গত ১০ আগস্ট অন লাইন নিউজ পোটাল ক্রাইম এ্যাকশন ২৪ ডট কমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।ঐ সংবাদের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার চট্টগ্রাম ববিভাহিয় রেলওয়ের একটি প্রতিনিধি দল চাঁদপুর পরিদর্শনে আসেন। তেমনি লোকবলের অভাবে ভেঙ্গে পড়ছে চাঁদপুর রেলওয়ে স্টেশনের কার্যক্রম। চাঁদপুর রেলওয়ে নানা অনিয়ম আর জনবল সংকটে রেলওয়ে ব্যবস্থা ভেঙ্গে পরছে। চট্টগ্রাম বিভাগিয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডি আর এম)মোঃ সাদেকুর রহমান বলেন, চাঁদপুর রেলওয়ে যে সব সমস্যা আপনার তুলে ধরেছেন তা যুক্তি সম্পন্ন।আমরা সরকারের কর্মচারী চাইলেই কোনো সিদ্ধান্ত আমরা নিতে পারিনা।

রাস্ট্রিয় সিদ্ধান্তই মুল সিদ্ধান্ত।বর্তমান সরকার ডিজিটাল প্রদ্ধতিতে দেশ পরিচালনা কররছে।রেলওয়ের অনেক কিছুই ডিজিটাল প্রদ্ধতিতে করা হচ্ছে।তিনি আরো বলেন কিছুদিন পূর্বে আন্তঃনগর মেঘনা ট্রেন চলাচল শুরু করেছে।অন্যান্য ট্রেন অচিরেই চালু করা হবে।লাইন গুলো সচল কিনা তাদেখতে এলাম।বর্তমানে ২৫%জনবল দিয়য়ে কাজ করা হচ্ছে চব্বিশ ঘন্টা।করোনার কারণে আমরা কর্মকর্তাগন একত্রিত হতে পারিনি, আজকে সামাজিক দূরত্ব মেনে চাঁদপুর এসেছি।এই মুহূত্বে অবৈধ সকল স্থাপনা ও দখলদারদের উচ্ছেদ করা সম্ভব না।সপ্ল পরিসরের উচ্ছেদ গুলো করেছি।আগামীতে বড় উচ্ছেদ গুলো করা হবে।নব নির্মিত ওয়াসপিটটি আমরা অবজারভেসনে রেখেছি।

বিশুদ্ধ খাবার পানি চট্টগ্রামে ও নেই, সেখানে ফয়েসলেকের পানি সরবরাহ কররা হয়।চাঁদপুর রেলওয়ে স্টেশনের যাত্রি নিরাপত্তা, উন্নত মানের ক্যান্টিন,বিশ্রামাগার সহ যে সব বিষয় তুলে ধরা হয়েছে সে বিষয়ে তিনি বলেন, আপনাদের তুলে ধরা দাবী গুলো যৌক্তিক দাবী ভবিষতে এসব সমমস্যার সমাধান কি ভাবে করা যায় তা উদ্ধতন কতৃপক্ষকে জানাবো।তাছাড়া আমরা এসেছি যাত্রিদের সুযোগ সুববিধা দেখার জন্য।আমাদের অনেক কিছু বাধ্য বাধকতার রয়েছে।সরকার যদি আমাদের অনুমতি দেয় আপনাদের যুক্তিক বিষয় গুলোর বিষয়ে তাহলেই কাজ করা হবে। উল্লেখ্য, বিগত কয়েক বছর পূর্বে চাঁদপুর-লাকসাম সবকটি স্টেশন আধুনিকায়ন হয়েছে। যথাযথ পদক্ষেপের অভাবে চাঁদপুর রেলওয়ে স্টেশনটি বিভিন্ন সমস্যায় জর্জড়িত হয়ে যাত্রী সাধারণের দুর্ভোগ নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। যাত্রীদের বসার স্থান হিসেবে কিছু লোহার ব্রেঞ্চ দিলেও, তা পর্যাপ্ত নয়। ফলে যাত্রীরা বসার জায়গা না পেয়ে দূর-দূরান্ত থেকে আগত রোগীসহ অন্যান্য যাত্রীদের ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে ও প্লাটফর্মের মেঝেতে বসে থাকতে হচ্ছে।

চাঁদপুর থেকে প্রতিদিন এ স্টেশনের উপর দিয়ে চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর মেঘনা এক্সপ্রেস ও সাগরিকা এক্সপ্রেস ট্রেন এবং কুমিল্লা ও লাকসামগামী কমিউটার ডেম্যু ট্রেন চলাচল করতো।প্রতি দিন হাজার হাজার যাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানান ভুক্তভোগী যাত্রী সাধারণ। তাছাড়া চাঁদপুর বড়স্টেশন হচ্ছে পর্যটন এলাকা চাঁদপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সোয়াইবুল সিকদার জানান, বাংলাদেশ রেলওয়ের ১৭টি ডিপাটমেন্ট রয়েছে। তারমধ্যে একটি হচ্ছে ট্রাফিক যার দায়িত্বে রয়েছি আমি। আমার এ বিভাগে ৭৬ জন জনবল থাকার কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র ১৭জন। এ সীমিত জনবল দিয়ে রেলওয়ে ট্রাফিক বিভাগ পরিচালনা করতে হিমসিম খেতে হয়। তারপরও সেবা দিয়ে যাচ্ছি।রেলওয়ে স্টেশন সেখানে যাত্রীদের জন্য ২টি বিশ্রামগার রয়েছে। যা পর্যাপ্ত নয়।

চাঁদপুর-লাকসাম-কুমিল্লা-চট্টগ্রাম রুটে ৪টি ট্রেন প্রতিদিন চলাচল করতো। বর্তমান করোনার কারণে চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রুটে মেঘনা এক্সপ্রেস চলাচল করে।এখানেই যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে। তাই সাধারন যাত্রীদের দাবী এ খানে বিশ্রামাহার, উন্নতমানের ক্যান্টিন যেন করা হয়। চট্টগ্রাম রেলওয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থাপক সাদেকুর রহমানের সাথে আরো উপস্থিত ছিলেন ডি সি ও আনসার আলী,ডি এম ই ওয়াহিদুর রহমান,ডি এস টি ই জাহিদ হাসান পাটোয়ারী তম্ময়,ডি টি ও চট্টগ্রাম স্নেহশিষ,ডি ই ই সাকের আহমেদ,ডি ই ও মাহবুবুল করিম প্রমুখ।