চট্টগ্রাম পর্বে জয় পেল ‍খুলনা টাইগার্স ও চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স

বিপিএলে চট্টগ্রাম পর্বের প্রথম ম্যাচেই ধামাকা। চলতি আসরের সর্বোচ্চ ১৮৯ রান করেও জিততে পারেনি রাজশাহী রয়্যালস। মুশফিকুর রহিমের ৯৬ রানের ড্যাশিং ইনিংসে ২ বল বাকি থাকতে ম্যাচ জিতে যায় খুলনা টাইগার্স।

চট্টগ্রাম পর্বের শুরুর ম্যাচটায় মুখোমুখি হয় প্রথম পর্বের দুই অপরাজিত টিম রাজশাহী আর খুলনা। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি রাজশাহীর। ২৬ রানেই আউট হন দুই ওপেনার। জাজাইয়ের পর প্যাভিলিয়নে ফেরেন ইনফর্ম লিটন দাসও।

তবে তৃতীয় উইকেটে আসে ৪০ রান। এরপর লিটনের মতোই ১৯ করে আউট হন আফিফ। বোপারাকে সঙ্গে নিয়ে উদ্ধারকর্তা হয়ে পাকিস্তানি অল-রাউন্ডার শোয়েব মালিক ব্যাট চালিয়েছেন ঝড়ো গতিতে, খেলেছেন ৫০ বলে ৮৭ এর ইনিংস আর বোপারা করেন ৪০। রাসেলের ৬ বলে ১৩ রান মিলিয়ে ২০ ওভারে রাজশাহী রয়্যালসের সংগ্রহ চলতি আসরের সর্বোচ্চ ১৮৯ রান।

জবাব দিতে নেমে ২৫ তুলতেই আউট দুই ওপেনার শান্ত আর গুরবাজ। এরপর আক্রমণ চালান রাইলি রুশো আর মুশফিক।  দু’জনে মিলে যোগ করেন ৭২ রান। ৪২ রানে আউট হন রুশো। তবে, মুশফিক ছিলেন স্বমহিমায় উজ্জ্বল। পেইস, স্পিন কোনো বোলারকেই ছাড় দেননি। ৫১ বলে ৯টি চারের সঙ্গে ৪টি ছক্কার মার ছিল তার ইনিংসে। চার রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করার আফসোস থাকতে পারে হয়তো, তবে ক্যাপ্টেন মুশিকে তৃপ্তি দেবে রেকর্ড চেইজে দলের জয়।

অপরদিকে চট্টগ্রাম পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে মাত্র ১২৯ রান তুলতে পেরেছিল সিলেট থান্ডার। কিন্তু প্রতিপক্ষের মতোই ব্যাটিং ব্যর্থতায় মাতলেন চট্টগ্রামের ব্যাটসম্যানেরা। বেশ উত্তেজনা ছড়িয়ে শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা জিতেই নিল চট্টগ্রাম। ২ ওভার হাতে রেখে ৪ উইকেটের জয় পেয়েছে স্বাগতিক দল। এ নিয়ে টানা চার ম্যাচে হারলো সিলেট থান্ডার। গেল চার ম্যাচের তুলনায় এই ম্যাচেই কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে সিলেট, তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি নুরুল হাসান সোহানের ব্যাটে।

টস জিতে সিলেটকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ব্যাট করতে নেমে গত তিন ম্যাচের মতোই ব্যাটিং করেছে থান্ডার্সের ব্যাটসম্যানরা। ওপেনার রনি তালুকদার ২ রানে ফিরলেও আন্দ্রে ফ্লেচার করেন ৩২ বলে ৩৮ রান। এটিই সিলেটের ইনিংসের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান।

এরপর টানা ব্যাটিং ব্যর্থতা। তার মাঝে দলের অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন করেন ৩০ রান। তাতে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১২৯ রান তুলতে পারে দলটি। চট্টগ্রামের হয়ে ৪ উইকেট নেন মেহেদী হাসান রানা। ২ উইকেট নেন রুবেল হোসেন।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে চট্টগ্রামের ওপেনার লেন্ডেল সিমন্স খেলেন ৩৭ বলে ৪৪ রানের ইনিংস। সিমন্স একপ্রান্ত আগলে রাখলেও টানা চার ব্যাটসম্যান পারেননি দশ রানের কোটা পার করতে।

শেষ ভরসা ছিলেন নুরুল হাসান সোহান। ক্যাসরিক উইলিয়ামসকে নিয়ে ৪৫ রানের জুটি গড়ে জিতে নেন ম্যাচ। সোহান অপরাজির থাকেন ৩৭ (২৪) রানে। উইলিয়ামসও করেন অপরাজিত ১৮ রান। সিলেটের হয়ে ৩ উইকেট নেন ক্রিশমার সান্টোকি। ১টি করে উইকেট নেন এবাদত ও দেলওয়ার হোসেন।