চট্টগ্রামে বন্ধ হচ্ছে হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতাল

 মোঃ রাশেদ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে হাসপাতাল ও আইসোলেশন সেন্টার। কিন্তু চলতি মাসের শুরুতে রোগীর অভাবে বন্ধ করতে হয় দেশের প্রথম ফিল্ড হাসপাতাল হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতালটি। তার পরপরই বন্ধ হয়ে যায় নগরীর পরিচিত আরও দুই আইসোলেশন সেন্টার। এবার একই পথে হাঁটতে হচ্ছে নগরীর খুলশীস্থ হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতালটিরও। নানান আলোচনা-সমালোচনার মধ্য দিয়ে ‘বিশেষায়িত’ ঘোষণা দিয়ে চালু হওয়ার মাত্র চার মাসের মাথায় বন্ধ হতে যাচ্ছে এ হাসপাতালটি।
ইতোমধ্যে বন্ধের প্রাথমিক সিদ্ধান্তও নিয়েছে হাসপাতালটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা স্বাস্থ্য বিভাগ। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আগামী সপ্তাহে সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এর আগে গেল ২০ মে সরকারি ব্যবস্থাপনায় কোভিড রোগীদের চিকিৎসায় চালু করা হয় একসময়ের অভিজাত এ হাসপাতালটি। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এ হাসপাতালটি চালু করতে অর্থায়ন করেন চট্টগ্রাম প্রাইভেট ক্লিনিক ওনার্স এসোসিয়েশন। কিন্তু হাসপাতালটি চালু হওয়ার পর থেকেই রোগী শূন্যতায় ভোগতে হয়। এরমধ্যে যারাই চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন, তাও ছিল সীমিত সংখ্যক। আবার চিকিৎসা নিতে ভর্তি হওয়াদেরও দুর্ভোগের অভিযোগ কম ছিলনা। এমনও হয়েছে, সকালে ভর্তি হয়ে রাতেই অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর হয়েছেন কেউ কেউ। এমন অবস্থার মধ্যেই গেল কয়েক সপ্তাহ থেকে নেই কোন রোগী।
ডাক্তার-নার্স অন্য সদস্যরা নিয়মিত থাকলেও রোগী পাওয়াই দুষ্কর হয়েছে সেখানে। তাই এ পরিস্থিতিতে হাসপাতালটি বন্ধের কথা ভাবতে শুরু করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। যার বিষয়ে গেল বৃহস্পতিবার বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, জেলা সিভিল সার্জন ও হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্বে থাকা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কসহ পরিচালনা কমিটির সদস্যদের প্রাথমিক পর্যালোচনাও হয়েছে। যাতে হাসপাতালটি বন্ধের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে জানিয়েছেন বিশ্বস্ত সূত্র। জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর বলেন, ‘প্রাথমিক পর্যায়ে পরিচালনা কমিটি কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তা বিভাগীয় কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করা হবে।
যেহেতু বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এটি অর্থায়ন করেছে, তাই তাদের সাথেও বসে আলোচনা করা হবে। করোনার পরিস্থিতি উন্নতির দিকে বলেই হাসপাতালটিতে এখন রোগী নেই। তাই বন্ধ করাটাই প্রয়োজন বলে মনে করছি। তবে এ বিষয়ে সপ্তাহখানেক পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’ এদিকে, হাসপাতালটি বন্ধ হলেও নিয়োজিত থাকা তিন কনসালটেন্টসহ ১১ জন চিকিৎসককে অন্য হাসপাতালে বদলি করা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার নাথ।
তিনি বলেন, ‘সংশ্লিষ্টদের সাথে কথার বলার পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে বন্ধ হলেও চিকিৎসক-নার্সদের জেনারেল হাসপাতাল কিংবা অন্য হাসপাতালে পাঠানো হবে।’ উল্লেখ্য: রোগী শূন্যতা ও অর্থের অভাবে গত ১৫ সেপ্টেম্বর বন্ধ হয় নগরীর হালিশহরের করোনা আইসোলেশন সেন্টার। তার আগে চলতি মাসের শুরুতে বন্ধ করা হয় দেশের প্রথম ফিল্ড হাসপাতাল ‘চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতাল। এর আগেই রোগী না থাকায় বন্ধ হয়ে যায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অর্থায়নে নগরীর আগ্রাবাদে গড়ে ওঠা আইসোলেশন সেন্টারটিও।