চট্টগ্রামে প্রতিদিন হবে ৫শ’ জনের করোনা পরীক্ষা

মোঃ রাশেদ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামে প্রতিদিন হবে ৫শ’ জনের করোনা পরীক্ষা রিপোর্ট পাওয়া যাবে চারদিনের মধ্যে হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতাল পরিচালনা সরকারি ব্যবস্থাপনায় সার্কিট হাউসে সমন্বয় সভায় তথ্যমন্ত্রী। 

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, এখন থেকে চারদিনের মধ্যে করোনার নমুনা রিপোর্ট পাওয়া যাবে। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে আজকের সভায় বলা হয়েছে আগে টেস্টের রিপোর্ট পেতে সাতদিন লাগতো। এখন সেটি কমিয়ে চারদিনে এনেছে। আরো বেশি সংখ্যক মানুষকে করোনা চিকিৎসার আওতায় আনতে চট্টগ্রামে প্রতিদিন যাতে ৫শ’ জনের নমুনা পরীক্ষা করা যায় সেই চেষ্টাও চলছে বলে জানান তথ্যমন্ত্রী। গতকাল চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে করোনা প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সাথে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন আয়োজিত সমন্বয় সভা শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতাল সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা করা হবে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতাল আসলে কোন ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা করা হবে সেটি নিয়ে একটা সিদ্ধান্তহীনতা ছিল। আজকে আমরা স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি, সরকারি ব্যস্থাপনাতেই সেটি চালু করা হবে। সভার সিদ্ধান্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে দেয়া হবে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় চালু করতে হলেও কিছু আনুষাঙ্গিক কাজকর্ম আছে। সেগুলো করতে কিছুটা সময় লাগবে। চেষ্টা চলছে যতদ্রুত সম্ভব সেটা চালু করার।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ১০টি ভেন্টিলেটরসহ আইসিইউ চালু করা হয়েছে। হলিক্রিসেন্ট হাসপাতালের ২০টি আইসিইউ ইউনিট সরকারি ব্যবস্থাপনায় করোনা চিকিৎসায় ব্যবহৃত হবে। ৬০টি বেড আইসোলেশনের জন্য থাকবে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে করোনা সঙ্কটে চট্টগ্রাম জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিনের সঞ্চালনায় সমন্বয় সভায় সভাপতিত্ব করেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি। এতে বক্তব্য রাখেন সংরক্ষিত আসনের এমপি ওয়াসিকা আয়েশা খানম, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদ, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুখ, চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডরিমাল এস.এম. আবুল কালাম আজাদ, পুলিশ কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান, জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক হাসান শাহরিয়ার কবির ও সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি।

মার্কেটগুলোর প্রবেশ পথে ডিজইনফেকশন চেম্বার স্থাপন করতে হবে : স্পেন, ইতালি, সিঙ্গাপুরসহ পৃথিবীর অনেক দেশে যেখানে এখনো প্রতিদিন আড়াই থেকে তিনশ’ জন মানুষ মৃত্যুবরণ করছে সেখানে লকডাউন শিথিল করা হয়েছে। জীবন রক্ষা করার জন্য মানুষের জীবিকাকেও রক্ষা করতে হবে। কিন্তু সেজন্য আমাদেরকে অবশ্যই অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করেই এই কাজগুলো করতে হবে। সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে দোকানপাট সকাল ১০টা থেকে ৪টা পর্যন্ত সীমিত আকারে আগামী ১০ মে থেকে খোলার সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে। সেখানে কিছু নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের মার্কেটগুলোর প্রবেশ পথে ডিজইনফেকশন চেম্বার স্থাপন করতে হবে। মাস্ক স্যানিটাইজারের পাশাপাশি যদি মার্কেটে ঢুকার সময় ডিজইনফেকশন চেম্বারের মাধ্যমে প্রবেশ করেন তাহলে ডিজইনফেক্টেড হয়ে যাবে। প্রতিটি শপিংমল ও বিপনী বিতানের সামনে স্বাস্থ্য বিষয়ক সতর্কবাণী না মানলে মৃত্যুর ঝুঁকি আছে এমন ব্যানার সাঁটাতে হবে এবং প্রবেশ পথে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। এছাড়া ক্রেতা বিক্রেতা সবাইকে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, করোনা রোগী সনাক্ত হওয়ার কারণে বিভিন্ন জায়গায় লকডাউন করতে হচ্ছে। যেখানে লকডাউন হয় সেখানে দুপাশে পুলিশ থাকতে হয়। কিন্তু আমাদের পুলিশ ফোর্স সীমিত। আক্রান্ত আরো যখন বাড়বে তখন আরো বেশি পুলিশের প্রয়োজন হবে। তখন পুলিশের যে অন্যান্য কাজ সেগুলো ব্যাহত হতে পারে। সেজন্য আজকের সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে যেখানে লকডাউন সেখানে প্রয়োজনে আরো বেশি সংখ্যক আনসার ও স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা হবে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর থেকেই নানাবিদ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সেই পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করার কারণেই পৃথিবীর অনেক দেশের তুলনায় আমাদের দেশের পরিস্থিতি এখনো অনেকটা ভালো। তাই বলে সরকার বসে নেই। কারণ আপনারা দেখতে পাচ্ছেন সংক্রমণ বাড়ছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সেজন্য আমরা সবার সহযোগিতা নিয়ে কাজ করছি। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার দেশের একতৃতীয়াংশের বেশি মানুষকে নানাভাবে সহায়তার আওতায় এনেছে। এই বৈশ্বিক দুর্যোগের সময় পৃথিবীর খুব বেশি দেশে এভাবে একতৃতীয়াংশ মানুষকে সরকারি সহায়তার আওতায় আনেনি।

যেসমস্ত ব্যক্তি নমুনা পরীক্ষার জন্য দিয়েছে তারা যাতে আর কারো সাথে না মিশেন সেই অনুরোধ জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, তিনিতো নিজেকে সন্দেহ মনে করেই নমুনা পরীক্ষায় দিয়েছেন। পরীক্ষার জন্য পাঠানোর পর নিজের মধ্যে যেহেতু সন্দেহ হয় তখন থেকে যেন তিনি কারো সাথে মেলামেশা না করেন। মার্কেট ও মসজিদ খুলে দেয়ায় সংক্রমণ বাড়বে কিনা এক সাংবাদিকের প্রশ্নে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সবাই যদি সম্মিলিতভাবে মানুষকে সচেতন করতে পারি তাহলে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা অনেক সহজ হবে। এজন্য গণমাধ্যমকর্মীরা শুরু থেকেই প্রচারণা চালাচ্ছেন। কেউ যাতে অপ্রয়োজনে বাজারে না যান, মানুষ যাতে সমস্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে মার্কেট ও মসজিদে যান। সভায় বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও আরেকটি করোনা পরীক্ষার ল্যাব চালুর বিষয়ে চেষ্টা চলছে।