চট্টগ্রামে একদিনে ৫৭ রোগী

মোঃ রাশেদ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ অস্বাভাবিক গতিতে বাড়ছে করোনা রোগী। বৃহস্পতিবার ৭ মে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬১ নমুনার মধ্যে নতুন করে ৪০ জনের করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। এরমধ্যে ২৪ জনই নগরের বাসিন্দা এবং ১৪ জন বিভিন্ন উপজেলার, একজন কক্সবাজারের এবং অপরজন খাগড়াছড়ির বাসিন্দা। ৪০টি নমুনা পজিটিভ নমুনার মধ্যে ৩৯টি নতুন এবং একটি দ্বিতীয়বার টেস্টেও পজিটিভ এসেছে। দ্বিতীয়বার টেস্টে পজিটিভ হওয়া ব্যক্তি চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তিনি চকরিয়ার এসিল্যান্ড। এছাড়া ৩৯ জনের মধ্যে পজিটিভ হওয়া আরেকজন খাগড়াছড়ির হলেও তিনি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। ফলে চট্টগ্রামে নতুন করোনা রোগী ৩৮ জন। এর আগে বৃহস্পতিবার ৭ মে বিআইটিআইডির রিপোর্টে করোনা পজিটিভ হয়েছিল ১৮ জন এবং কক্সবাজারে টেস্টে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার একজন করোনা পজিটিভ হয়। সেই হিসেবে বৃহস্পতিবার একদিনে ৫৭ করোনা রোগী শনাক্ত হলো চট্টগ্রামে।

এদিকে শুক্রবার সকালে প্রকাশিত রিপোর্টে নতুন করে ৩৮ জন করোনা শনাক্ত হওয়ায় চট্টগ্রামে মোট ১৯৭ জন করোনা রোগী হলো। এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি গেছে ৪৮ জন এবং মারা গেছেন ১৩ জন। বৃহস্পতিবারের ৫৭ জনের মধ্যে মহানগরীতে আক্রান্ত হয়েছেন ৪২ জন ও মহানগরীর বাইরের উপজেলায় ১৫ জন।

রিপোর্টের বিষয়ে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বী বলেন, ‘চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃহস্পতিবারের ৭মে পরীক্ষার রিপোর্ট সেদিন বিস্তারিত পাওয়া যায়নি। আজকের (শুক্রবার) বিস্তারিত রিপোর্টে ৬১টি নমুনার মধ্যে ৪০ জনের পজিটিভ পাওয়া গেছে। এই ৪০ জনের মধ্যে একজন দ্বিতীয়বার পজিটিভ। তাহলে নতুন রোগী ৩৯ জন। এদের অধিকাংশ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এই ৩৯ রোগীর মধ্যে একজন খাগড়াছড়ির বাসিন্দা, যিনি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এদিকে নতুন শনাক্ত হওয়া ৩৯ জন সম্পর্কে জানা যায়, মহানগরীর ২৫ জন, সাতকানিয়ার সাত জন, সীতাকুন্ডের পাঁচজন, হাটহাজারীর একজন ও বোয়ালখালীর একজন। মহানগরীর ২৫ জনের মধ্যে সাগরিকা অংলকার এলাকার একজন, বহদ্দারহাট ফরিদের পাড়ার একজন, মধ্যম হালিশহরের তিনজন, কসমোপলিটন এলাকার একজন, আগ্রাবাদের একজন, মেহেদীবাগের একজন, বাকলিয়া চারজন, নাসিরাবাদ একজন, মোগলটুলী একজন, ইপিজেড এলাকা দুই জন, সরাইপাড়া একজন, ফিরিঙ্গীবাজার একজন, মীর্জাপুল একজন, সদরঘাট একজন, আইসফ্যাক্টরি রোড একজন, সাগরিকা কাজীরদীঘি একজন এবং চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি খাগড়াছড়ির একজন।

এদিকে চট্টগ্রামে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৯৭ জন হলো। ৬ মে ১১ জন করোনা পজিটিভ হওয়ার আগে ৫ মে সোমবারের ভেটেরিনারি রিপোর্টের ১৩ জন, ৫ মে বিআইটিআইডি এর রিপোর্টে ৯ জন (ঢাকা, কুমিল্লা ও কক্সবাজার থেকে আসা তিনজন রোগী সহ), ৪মে ১৬ জন, ৩ মে ১৩ জন, ২ মে তিনজন, ১ মে তিনজন, ৩০ এপ্রিল একজন, ২৯ এপ্রিল ৪ জন, ২৮ এপ্রিল তিনজন, ২৭ এপ্রিল নয়জন, ২৬ এপ্রিল সাতজন ( রাজবাড়ী থেকে আসে একজন), ২৫ এপ্রিল দুই জন ( ঢাকা থেকে আসে একজন), ২৪ এপ্রিল একজন, ২২ এপ্রিল তিনজন, ২১ এপ্রিল একজন, ১৩ এপ্রিল চারজন, ১৮ এপ্রিল একজন, ১৭ এপ্রিল একজন, ১৬ এপ্রিল একজন, ১৫ এপ্রিল পাঁচজন, ১৪ এপ্রিল ১১ জন, ১৩ এপ্রিল দুইজন, ১২ এপ্রিল পাঁচজন, ১১ এপ্রিল দুইজন, ১০ এপ্রিল দুই জন, ৭ এপ্রিল তিনজন, ৫ এপ্রিল একজন ও ৩ এপ্রিল একজন আক্রান্ত হয়েছিল। এরমধ্যে সাতকানিয়ার এক বৃদ্ধ একজন মারা যাওয়ার পর করোনা শনাক্ত হয়েছেন, পটিয়ায় ৬ বছরের এক শিশু মারা গেছে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার দেড় ঘন্টার মধ্যে, সরাইপাড়া লোহারপুল এলাকার এক নারী মারা যাওয়ার পর করোনায় শনাক্ত হয়েছেন, নিমতলা এলাকার এক নারী মারা যাওয়ার পর করোনা শনাক্ত হয়েছেন, সরাইপাড়া লোহারপুল এলাকায় এক ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর করোনা শনাক্ত হয়েছেন, সাগরিকার এক নাইটগার্ড মারা যাওয়ার পর করোনা শনাক্ত হয়েছেন, মোহরার এক নারী মারা যাওয়ার পর করোনা শনাক্ত হয়েছেন এবং সর্বশেষ এনায়েত বাজারের লোকটি মারা যাওয়ার পর করোনা শনাক্ত হলো। এছাড়া ৬ মে পাহাড়তলী লাকী হোটেল মোড় এলাকার বাসিন্দা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এছাড়া গত ৬ মে মারা যাওয়ার পর নমুনা রিপোর্টে করোনা শনাক্ত হয়েছেন তিনজন, ৭ মে বৃহস্পতিবার সাগরিকা এলাকার এক ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর করোনা শনাক্ত হয়েছেন। এনিয়ে চট্টগ্রামে করোনায় মৃতের সংখ্যা ১৩ জনে দাঁড়ালো। এছাড়া সুস্থ হয়ে বাড়ি গেছেন ৪৮ জন।