চট্টগ্রামে উপকারভোগীদের মোবাইলে ম্যাসেজ ২৫০০ টাকা করে পাচ্ছে ১ লাখ ৮০ হাজার পরিবার

মো:রাশেদ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে চট্টগ্রামে কর্মহীন ১ লাখ ৮০ হাজার মানুষের কাছে নগদ অর্থ পাঠানো শুরু হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে এটা শুরু করা হয় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসন কার্যালয় থেকে। মোবাইল ব্যাংকিং পরিষেবার মাধ্যমে এ টাকা বিতরণ করা হচ্ছে। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর তাৎক্ষণিকভাবে চট্টগ্রামে ১০০ জনের মোবাইলে এসএমএস যায়। এতে প্রতিজনকে ২৫০০ টাকা করে এসএমএস এর মাধ্যমে পাঠানো হয়।
প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে কর্মহীন মানুষের জন্য মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নগদ অর্থ সহায়তা কার্যক্রমের উদ্বোধন হয় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে। এসময় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি, এবিএম ফজলে করিম এমপি ও মোছলেম উদ্দিন আহমেদ এমপিসহ চট্টগ্রামের আরো কয়েকজন সংসদ সদস্য, চসিক মেয়র আ. জ. ম. নাছির উদ্দীন, বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদ, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি, সিএমপি প্রতিনিধি এডিশনাল ডিআইজি, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন, সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, কয়েকজন উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপকারভোগীগণ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের সাথে সাথে উপকারভোগীদের মোবাইলে ম্যাসেজ আসে, উপস্থিত ব্যাংকিং এজেন্টের নিকট থেকে ক্যাশ করে উপকারভোগীদের হাতে টাকা তুলে দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেনের তত্ত্বাবধানে চট্টগ্রাম জেলায় উপকারভোগীদের তালিকা অনলাইনে আপলোড করা হয়েছে। এ বিষয়ে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন জানান, আমরা ইতোমধ্যে ১ লাখ ৮০ হাজার কর্মহীন মানুষের ডাটা এন্ট্রি করে টাকা পাঠানো শুরু করেছি। ডাটা এন্ট্রি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অর্থাৎ উপকারভোগী আরো বাড়বে। জেলা প্রশাসন কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, উল্লেখিত ১ লাখ ৮০ হাজার কর্মহীন মানুষের মধ্যে চট্টগ্রাম জেলার উপজেলাগুলোতে ১ লাখ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় ৮০ হাজার মানুষ বাছাই করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ২৫০০ টাকা করে নগদ অর্থ বাছাইকৃতদেরকে মোবাইল ম্যাসেজের মাধ্যমে পাঠানো হবে। এদিকে করোনার কারণে সারাদেশের ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ লাখ দরিদ্র পরিবারকে এককালীন আড়াই হাজার টাকা করে দেয়ার জন্য এক হাজার ২৫৭ কোটি টাকা ছাড় করে অর্থ মন্ত্রণালয়।
১১ মে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের দুই শাখা থেকে এ অর্থ ছাড় করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের পর ১০ লাখ পরিবারকে এ অর্থ দেয়া হবে। এর পরবর্তী চার দিন ৪০ লাখ পরিবারকে এ অর্থ দেয়া হবে। পরিবারগুলোকে টাকা দেয়া হবে মূলত মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে। এর মধ্যে রয়েছে বিকাশ, রকেট, নগদ এবং শিওরক্যাশ। অর্থাৎ নগদ সহায়তা হলেও কাউকে নগদে টাকা দেয়া হবে না। এ ক্ষেত্রে এমএফএসে বড় আকারের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে সরকারকে। টাকা পৌঁছানোর জন্য এমএফএসগুলো পাবে প্রতি হাজারে মাত্র ছয় টাকা। হাজারে ছয় টাকা হিসাবেই পৌঁছানোর মোট খরচ দাঁড়ায় সাড়ে সাত কোটি টাকা। এ টাকা সরকার বহন করবে। পরিবারগুলোর কোনো টাকা দিতে হবে না। এ কারণে খরচের জন্য আলাদাভাবে সাত কোটি টাকা ছাড় করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। মোট ৫০ লাখ পরিবারের কাছে টাকা পাঠানোর কাজের মধ্যে বিকাশের ভাগে রয়েছে ১৫ লাখের দায়িত্ব। সবচেয়ে বেশি ১৭ লাখ পরিবারের কাছে টাকা পাঠাবে নগদ। বাকি ১৮ লাখ পরিবারের কাছে এ টাকা পৌঁছাবে রকেট ও শিওরক্যাশ।