ঘূর্ণিঝড় আমফান মোকাবিলায় প্রস্তুত বাগেরহাটের ৩৪৫টি আশ্রয় কেন্দ্রে

মাহফুজুর রহমান বাপ্পী, বাগেরহাট প্রতিনিধি : বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় আমফানের প্রভাব মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাট। এরই মধ্যে জরুরি সভা করেছে দুর্যোগ প্রস্তুতি কমিটি জেলা ও ঝুঁকিপূর্ণ চার উপকূলীয় উপজেলা শরণখোলা, মোংলা, মোরেলগঞ্জ ও রামপালের প্রশাসন। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঝুঁকি এড়াতে আশ্রয় কেন্দ্র গুলোতেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে স্থানীয় লোকজন যাতে থাকতে পারে সেজন্য জেলার ৩৪৫টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র ছাড়াও স্ব স্ব উপজেলার স্কুল ও কলেজগুলো খুলে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ খাবার পানি ও শুকনা খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ জানান, ‘মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় আমফান মোকাবেলায় ইতোমধ্যেই জরুরী সভা হয়েছে। জেলা ও উপজেলাগুলোতে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। মাঠে থাকা বোরো ধান দ্রুত কেটে ঘরে তুলতে কৃষি বিভাগকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঝুকি এড়িয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে থাকার মতো করে ৩৪৫টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পর্যাপ্ত আশ্রয়ের সুবিধার্খে সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্কুল ও কলেজগুলো খুলে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি রাখতে বলা হয়েছে।

বাগেরহাটের কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক রঘুনাথ কর জানান, চলতি মৌসুমে বাগেরহাট জেলায় ৫২ হাজার ৯৩০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। চারটি কম্বাইন্ড হারভেস্টার, ৯৭টি রিপার, হ্যান্ড রিপার এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় ইতোমধ্যে মাঠের ৮৫ ভাগ ধান কেটে ঘরে তোলা সম্ভব হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় আম্পান আঘাত হানার আগে মাঠে থাকা বাকি ১৫ ভাগ ধান কেটে ঘরে তুলতে এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। স্ব স্ব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা তাদের সহযোগিতা করছেন। দুর্যোগ আঘাত হানার আগেই সব ধান কৃষকের ঘরে উঠে যাবে বলে মনে করছেন তিনি।