ঘাটছাড়া করার প্রতিবাদে সাম্পান মাঝিদের দিনব্যাপী অনশন

মোঃরাশেদ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় নির্দেশ সত্ত্বেও জন্মগত পেশাদার পাটনিজীবি (সাম্পান মাঝি) সমিতিকে ঘাট ইজারা না দেয়ার প্রতিবাদে নিজেদের সাম্পান নিয়ে কর্ণফুলী নদীতে দিনব্যাপী অনশন করছে আটটি মাঝিদের সংগঠন। মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত নগরীর সদরঘাটে নিজেদের সাম্পান নিয়ে নদীতে অনশন করে তিন শতাধিক সাম্পান মাঝি।
মাঝিদের অনশনের কারনে সকাল থেকে সন্ধ্যা সকল ঘাট বন্ধ রাখা হয়।

অনশন সমাবেশে বক্তারা বলেন, আড়াই হাজর বছর আগের সাম্পান ও সাম্পান মাঝি চট্টগ্রামের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আদেশ অমান্য করে জাহাজ মালিক সমিতির সভাপতি হাজী শফিক আহমদকে বাংলাবাজর ঘাট ও ব্যবসায়ীদের ১১ ও ১৪ নম্বর ঘাট ইজারা দিয়ে মাঝিদের ঘাট ছাড়া করাটা কিছুতেই মেনে নিবেনা চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষ। অনশনকারী সাম্পান মাঝিরা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মাঝিদের ঘাট ইজারা না দিলে সিটি কর্পোরেশন ঘেরাও ও আমরণ অনশনের ঘোষণা দেন।

অনশন কর্মসূচীতে মাঝিদের সাথে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন নেতা নাজিমুদ্দিন শ্যামল, হাসান ফেরদৌস, কর্ণফুলী গবেষক প্রফেসর ড. ইদ্রিচ আলী, চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আলীউর রহমান, কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশন সভাপতি এস এম পেয়ার আলী, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, বাংলাবাজার সাম্পান মাঝি কল্যাণ সভাপতি মোহাম্মদ লোকমান দয়াল, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইউছুপ, অর্থ সম্পাদক জসীম উদ্দিন, সদরঘাট সাম্পান সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী, সহ সভাপতি নাজির আলী, সাধারণ সম্পাদক নূর আহমদ, ইছানগর সদরঘাট সাম্পান সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, অর্থ সম্পাদক ফরিদ আহমদ, কর্ণফুলী ফিশিং জাহাজ যাত্রী পারাপার সাম্পান সমিতির সহ সভাপতি মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, ১১ নম্বর মাতব্বর ঘাট সাম্পান সমিতির সভাপতি আবদুর শুক্কুর, ১৪ নম্বর গুচ্ছ গ্রাম সাম্পান সমিতির মোহাম্মদ করিম ও মনির আহমদ প্রমুখ।

জানা যায়, গত ১লা বৈশাখ পেশাগত সাম্পান মাঝি (পাটনিজীবি) থেকে ঘাট কেড়ে নিয়ে পাটনীজীবি নীতিমালা লঙ্ঘন করে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের ইজারা দেয় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মফিদুল আলম। ঘাটহারা মাঝিরা অনিয়মের বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। উক্ত অভিযোগের ভিত্তিতে বিগত ২৯ এপ্রিল ২০২০ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রশাসন-২ শাখা কতৃক প্রেরীত পত্রে উপসচিব মোহাম্মদ ফজলে আজিম পেশাদার জন্মগত পাটনিজীবি সমিতিকে ঘাট ইজারা দেয়ার জন্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য নির্দেশ দেন। তৎকালীন মেয়র আজম নাসির উদ্দিন ঘাট মাঝিদের ইজারা দেওয়ার অনুরোধ জানালেও প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা এই বিষয়ে পুনঃরায় আইনি মতামতের জন্য নির্দেশনাটি চসিক আইন কর্মকর্তার নিকট প্রেরন করেন। এরপর বিগত ছয় মাসেও মাঝিদের ঘাট ফিরিয়ে দেয়নি চসিক। করোনার কারণে সাম্পান মাঝিরা এমনিতেই ক্ষতিগ্রস্ত। তার উপর নিজেদের ঘাট হারিয়ে এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে হাজারো সাম্পান মাঝি। অনেকে বাপ দাদা তিনপুরুষের এই পেশা ছেড়ে দিচ্ছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে আগামীতে কর্ণফুলী থেকে সাম্পান চিরতরে হারিয়ে যাবে বলে জানান।

মাঝিদের সাথে একাত্মতা জানিয়ে কর্ণফুলীতে ছুটে গেছেন সাংবাদিক নেতা নাজিমুদ্দিন শ্যামল, হাসান ফেরদৌস, প্রফেসর ড. ইদ্রিছ আলী। ক্যামরা নিয়ে ছুটে গেছেন, নিউজ টিভি সময় টিভি, চ্যানেল২৪,একাত্তর টিভি, একুশে টিভি,এটিএন নিউজ, আর টিভি, চ্যানেল এস সাংবাদিক ও ক্যামেরা সাংবাদিকবৃন্দ।
বৃষ্টি উপেক্ষা করে নদীতে এসেছেন প্রথম আলো, আজাদী, কালের কণ্ঠ, জনকণ্ঠ, দেশ রূপান্তর, বণিক বার্তা,the Business standard এর সাংবাদিক ও ফটো সাংবাদিকগণ।
গরীব অসহায় সাম্পান মাঝিদের সাথে এক হয়ে চট্টগ্রামের নিজস্ব ঐতিহ্য কৃষ্টি নানন্দিকতা রক্ষায় ছুটে আসে।