গ্যাসে প্রিপেইড মিটার পাচ্ছেন আরো এক লাখ গ্রাহক

মোঃ রাশেদ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ দ্বিতীয় দফায় (৩য় প্রকল্পের আওতায়) আরো এক লাখ প্রিপেইড মিটার পাচ্ছেন কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) আবাসিক গ্রাহকরা। নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ২৫৮ কোটি টাকার এই প্রকল্পে ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি পেয়েছে কেজিডিসিএল।

যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষে আগামী এক মাসের মধ্যেই টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরুর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। এর আগে প্রস্তাবিত দুই লাখ প্রিপেইড মিটার সংযোজনে হাতে নেয়া ‘দ্বিতীয় প্রকল্পে’ বৈদেশিক অর্থায়ন নিশ্চায়ন না হওয়ায় সেটি আলোর মুখ দেখেনি।

কেজিডিসিএল সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামে আবাসিক গ্রাহকদের ব্যবহৃত গ্যাসের অপচয় রোধের লক্ষ্যে ‘ন্যাচারাল গ্যাস ইফিসিয়েন্সি প্রজেক্ট (ইন্সটলেশন অফ প্রি-পেইড গ্যাস মিটার ফর কেজিডিসিএল পার্ট-৩)’ নামের তৃতীয় প্রকল্প হাতে নেয় কেজিডিসিএল। এক লাখ গ্রাহককে প্রিপেইড মিটার সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে প্রায় ৭ মাস আগে নেয়া প্রকল্পটিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫৮ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।

প্রাথমিক পর্যায়ে চলতি বছরের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত তিন বছরের মধ্যে প্রকল্পটি মেয়াদ নির্ধারণ করা হলেও সময় কিছুটা পিছিয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সর্বশেষ গত ২ সেপ্টেম্বর প্রকল্প ব্যয়ের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে সম্মতি পেয়েছে বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান কেজিডিসিএল। প্রস্তাবিত প্রকল্পটির আওতায় নগরীর বায়েজিদ, চান্দগাঁও,

পাঁচলাইশ, চকবাজার, পাহাড়তলী, খুলশী, বাকলিয়া, সদরঘাট, কোতোয়ালী, হালিশহর, ডবলমুরিং, বন্দর, ইপিজেড, পতেঙ্গা, আকবরশাহ ও জেলার কর্ণফুলী, হাটহাজারী, সীতাকুণ্ড, মীরসরাই, পটিয়া, বোয়ালখালী, চন্দনাইশ, আনোয়ারা উপজেলা এলাকায় প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হবে। সূত্রে জানা গেছে, জাইকার অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রথম প্রকল্পের ৬০ হাজার প্রিপেইড গ্রাহক পিওএস (পয়েন্ট অব সেলস) স্টেশন থেকে স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে ক্রেডিট কিনে প্রিপেইট মিটার রিচার্জ করে গ্যাস ব্যবহার করেন।

এ প্রস্তাবিত প্রকল্পে গ্রাহকরা ঘরে বসেই মোবাইল ব্যাংকিং ও অনলাইনের মাধ্যমেও প্রি-পেইড বিল পরিশোধ করার সুবিধা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। কেজিডিসিএলের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় বলেন, ‘গণমাধ্যমে কথা বলার বিষয়ে নতুন করে পরিপত্র জারি করা হয়েছে। এখন কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া সাংবাদিকদের সাথে কথা বলা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, ‘জাইকার অর্থায়নে প্রথম প্রকল্পে ৬০ হাজার প্রিপেইট মিটার সংযোজন প্রকল্পে ব্যাপক সাড়া পেয়েছে কর্ণফুলী গ্যাস। প্রকল্পটিতে সংযোজিত মিটারগুলো জাপানি হওয়ায় টেকসইও হয়েছে। এখনও পর্যন্ত মিটারগুলোতে বড় কোনো যান্ত্রিক সমস্যা পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, ‘প্রি-পেইড হওয়ার আগে গ্রাহকরা গড়ে মাসে ৬৬ ঘনমিটার গ্যাস ব্যবহৃত করতেন।

এখন তা ৪০ ঘনমিটারে নেমে এসেছে। এতে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় হ্রাস পেয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় প্রথমে দুই লাখ মিটার সংযোজনের জন্য বিদেশী অর্থায়নে দ্বিতীয় প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখনো বিদেশী অর্থায়ন নিশ্চিত না হওয়ায় প্রকল্পটি নিয়ে আগানো যায়নি। তবে এক লাখ প্রি-পেইড মিটার সংযোজনের প্রকল্পটির পুরোটাই কর্ণফুলী গ্যাসের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্প ব্যয়ের বিষয়ে দুদিন আগে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতিপত্র পাওয়া গেছে।

সবমিলিয়ে আগামী একমাসের মধ্যে প্রকল্পের পরবর্তী কার্যক্রম শেষ করা যাবে। আশা করা হচ্ছে, অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহের দিকে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হবে।’ প্রসঙ্গত, ‘ন্যাচারাল গ্যাস ইফিসিয়েন্সি প্রজেক্ট’ নামে ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর ২২২ কোটি ৪৮ লাখ টাকায় ৬০ হাজার প্রিপেইড মিটার সংযোজনের প্রথম প্রকল্প অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

গত বছরের ৩০ জুন শেষ হওয়া ওই প্রকল্পে শেষ পর্যন্ত প্রায় ৭৩ কোটি টাকার অধিক ব্যয় সাশ্রয় হয়। সবমিলিয়ে ১৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬০ হাজার প্রিপেইড মিটার সংযোজন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে কেজিডিসিএল।