গুরুতর অসুস্থ এটিএম শামসুজ্জামান

আবারো গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন কিংবদন্তি চলচ্চিত্র অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান। শারীরিক নানা সমস্যায় ভুগছেন তিনি। তাই শনিবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে তাকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি করা হয়েছে।

পারিবারিক শুত্রে জানাযায় শুক্রবার তিনি বেশ দুর্বল হয়ে পড়েন। একেবারেই চলাফেরা করতে পারছিলেন না। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। তবে গতকালের থেকে শারীরিক অবস্থা একটু ভালো। বেশ কয়েক মাস আগে এটিএম শামসুজ্জামানের বাম চোখের ছানি অপারেশন হয়। ডাক্তার বলেছেন সম্ভবত চোখ দিয়ে কোনও ভাইরাস আক্রমণ করেছে। আজ নতুন কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল রাতে বাসায় হঠাৎ অসুস্থ হন এটিএম শামসুজ্জামান। তাঁকে রাজধানীর গেণ্ডারিয়ার আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অস্ত্রোপচার করা হয়।  টানা ৫০ দিন সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। চিকিৎসা শেষে ১৫ জুন তাকে শাহবাগের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নেয়া হয়। চিকিৎসা শেষে তিনি রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার মেয়ের বাড়িতে ছিলেন। সেখানে থেকে ৬ অক্টোবর চোখের ছানি অপারেশন করান। গত ২৫ নভেম্বর আন্ত্রিক প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়। সে সময়ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে পরে বাসায় নেয়া হয়।

১৯৪১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর দৌলতপুরে এটিএম শামসুজ্জামান জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬১ সালে উদয়ন চৌধুরীর ‘বিষকন্যা’ সিনেমায় সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করে ক্যারিয়ার শুরু করেন তিনি। প্রথম চিত্রনাট্যকার হিসেবে তিনি কাজ করেছেন ‘জলছবি’ সিনেমায়। এ পর্যন্ত শতাধিক চিত্রনাট্য ও কাহিনী লিখেছেন বর্ষীয়ান এ অভিনেতা। একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য এ অভিনেতার একমাত্র পরিচালিত সিনেমা ‘এবাদত’। এর আগে পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন এ কিংবদন্তি।

কাজী হায়াতের ‘দায়ী কে’ সিনেমার জন্য দুটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পান তিনি। এরপর ‘চুড়িওয়ালা’, ‘মন বসে না পড়ার টেবিলে’ এবং ‘চোরাবালি’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য একই পুরস্কার লাভ করেন এটিএম শামসুজ্জামান।

গেল ৮ ডিসেম্বর এটিএম শামসুজ্জামান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের ‘আজীবন সম্মাননা’পুরস্কার গ্রহণ করেন।