গাজীপুরে ২৪ ঘন্টায় স্বামীর হাতে স্ত্রীসহ ৩ খুন

আশজাদ রসুল সিরাজী, গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুর মহানগরের পৃথক স্থানে ২৪ ঘন্টায় ৩টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর কামারজুড়ি এলাকায় গার্মেন্স শ্রমীক সহকর্মীকে ও রাত সাড়ে দশটার দিকে কোনাবাড়ি এলাকায় স্বামীর হাতে স্ত্রী এবং শুক্রবার সকালে পূবাইলে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে যুবককে খুনের ঘটনা ঘটেছে।

২৬ জুন(শুক্রবার)গাজীপুর মহানগরের পূবাইলে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে এক যুবককে খুন করেছে দুর্বৃত্তরা। সকালে নারায়ণকুল এলাকায় থেকে মেট্রোপলিটন পূবাইল থানা পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। নিহত আবুল কাশেম মোল্লা (২৭) উত্তর নারায়ণকুল এলাকায় আবুল কালাম আজাদের ছেলে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পূবাইল থানার এসআই মো: জাহাঙ্গীর আলম স্বজনদের বরাত দিয়ে জানান, ভোররাতে মোবাইলে ফোন পেয়ে আবুল কাশেম মোল্লা বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি।

সকালে নারায়ণকুল এলাকায় রাস্তার পাশে তার মৃতদেহ দেখে স্থানীয়রা থানায় ও স্বজনদের খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। নিহতের মাথার পেছন দিকের ডান পাশে, ডান চোখে ও ডান হাতের কুনুইয়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে হাতুরি বা লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হয়েছে।

অপরদিকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে দশটার দিকে মহানগরের কাশিমপুর রওশন মার্কেট এলাকায় স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন হয়েছে। নিহত ফিরোজা খাতুন (৪৫) ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা থানার বালা নয়াপাড়া গ্রামের মৃত্যু আব্দুল হাই এর ছেলে সুরুজ মিয়ার স্ত্রী। ঘটনাস্থল থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মেট্রোপলিটন কাশিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আকবর আলী খান জানান, বৃহস্পতিবার রাতে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। ঝগড়ার এক পর্যায়ে স্বামী সুরুজ মিয়া স্ত্রী ফিরোজা খাতুন কে পুতা দিয়ে মাথায় আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়।

এই ঘটনায় নিহতের স্বামী সুরুজ মিয়াকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া বৃহস্পতিবার দুপুরে গাজীপুর মহানগরের সাইনবোর্ড কামারজুরী এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জেরে কাঁচি দিয়ে আঘাত করে গার্মেন্স শ্রমীক সহকর্মীকে খুনের ঘটনা ঘটেছে। মেট্রোপলিটন গাছা থানা কামারজুরী এলাকার বালুমাঠে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শাহিন (৩০) গাইবান্ধা জেলার পলাশ বাড়ী থানার মেরির হাট এলাকার মমতাজ মিয়ার ছেলে।

মেট্রোপলিটন গাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মো: মালেক খসরু খান জানান, পোশাক শ্রমীক শাহীন এবং হত্যাকারী ওয়াজিদ দুজনেই কলমেশর এলাকায় বাসা ভাড়া থেকে কামারজুড়ি এলাকায় এনএস সোয়েটারে সাব কন্ট্রাকে লিংকিং সেকশনে কাজ করতো। বৃহস্পতিবার সকালে কারখানার ভেতরে তাদের দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। পরে কারখানার অন্য শ্রমিকরা তাদের দুজনকে বুঝিয়ে মিলমিশ করে দেয়। দুপুরে খাবার খাওয়ার জন্য বাসায় যাওয়ার সময়ে পাশ্ববর্তী বালুমাঠ নামক স্থানে দুজনের মধ্যে ফের কথা কাটাকাটি হয়।

এক পর্যায়ে ওয়াজিদের হাতে থাকা কাঁচি দিয়ে শাহীনের বুকের বাম পাশে আঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় তায়রুন্নেছা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে শাহীন মারা যায়। সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় নিহতের ফুফাতো ভাই আনিছুর রহমান বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। হত্যাকারীকে গ্রেফতার অভিযান চালানো হচ্ছে। হত্যাকারী ওয়াজিদের বাড়ী কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচড় থানার দাডিয়া কান্দা এলাকায় বলে জানা গেছে।