গাজীপুরে নমুনা পরীক্ষার অব্যবস্থাপনায় চাকরি হারানোর শঙ্কা শ্রমিকদের

আব্দুল আলীম, গাজীপুর প্রতিনিধি : গাজীপুরে করোনা পরীক্ষার কীট সঙ্কট, হয়রানি ও রিপোর্ট পেতে বিলম্বের কারণে বাড়ছে সংক্রমণের ঝুঁকি। জেলায় তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন কারখানায় কাজ করছেন লাখ লাখ শ্রমিক। এসব শ্রমিকসহ নানা পেশার মানুষ করোনা উপসর্গ নিয়ে পরীক্ষার জন্য সময়মত নমুনা দিতে পারছেন না।

আর নমুনা দেওয়ার পর রিপোর্ট পেতে বিলম্ব হচ্ছে। এদিকে ভুক্তভোগিরা জানান, চরম ভোগান্তির পর পরীক্ষায় নেগেটিভ এলেও মিলছেনা স্বাস্থ্য বিভাগের সনদ। এতে চাকরি হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন তারা। তবে গাজীপুরে কীট সঙ্কট নেই জানিয়ে জেলা প্রশাসক তরিকুল ইসলাম জানান, এখন শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল হাসপাতালের দুটি ল্যাবে তিনশ’র মতো করোনার নমুনা নেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। তবে রোগীর চাপ থাকায় কিছুটা ভোগান্তি রয়েছে।

এসময় শ্রমিকদের কাছে অযথাই যাতে কারখানা কর্তৃপক্ষ করোনা সার্টিফিকেট না চায় এ বিষয়টি নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। জানা গেছে, কিট সঙ্কট, নমুনা সংগ্রহের সীমাবদ্ধতা, লোকবলসহ নানা কারণে সময়মতো নমুনা দিতে পারছেন না অনেকেই। প্রতিদিন নগর ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে নমুনা দিতে ভিড় করছেন শত শত শ্রমিক। দিনের পর দিন ঘুরে যেমন নমুনা দিতে পারছেন না তারা। নমুনা প্রদানকারী এক রোগী স্বজন বলেন, ২০ জুন নমুনা দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছিল সাতদিনের মধ্যে ম্যাসেজ যাবে। কিন্তু মোবাইলে কোন ম্যাসেজ যায়নি।

পরবর্তীতে যোগাযোগ করা হলে সিভিল সার্জন অফিসে যেতে বলা হয়। সেখানে থেকে চান্দনা স্কুল মাঠে পাঠানো হয়। এ অবস্থায় রাস্তায় ঘুরাঘুরি করে কী রোগী নিয়ে মরব। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পোশাক শ্রমিক বলেন, কারখানায় প্রায়ই মাথাব্যাথা হয়। তাই কারখানা কর্তৃপক্ষ বলছে, পরীক্ষা করতে হবে না হলে চাকরি থাকবে না। গত ১০ জুন অনেক ঝগড়া করে চান্দনা স্কুল মাঠে নমুনা দিয়েছি। এরপর ৪-৫ দিন রিপোর্টের জন্য গেছি। এখন পর্যন্ত রিপোর্ট পাই নাই। অফিসে যাই, সেখানে ঢুকতে দেয় না, বেতন আটকে দিছে।

বাড়িওয়ালা ঘর ভাড়া দিতে না পারায় বের করে দেওয়ার কথা বলছে।’ রিপোর্ট দিতে বিলম্বের বিষয়টি স্বীকার করে জেলা সিভিল সার্জন খায়রুজ্জামান জানান, জেলায় মাত্র সাতটি বুথের মাধ্যমে নুমনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। নেগেটিভ সার্টিফিকেট অনেক ক্ষেত্রেই দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে বিজিএমইএ’র পরিচালক নাসির উদ্দিনের দাবি, শ্রমিকদের থেকে করোনা নেগেটিভের সার্টিফিকেট সংগ্রহের কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের পরীক্ষার ব্যবস্থা নেবে।

কোনো মালিক নেগেটিভ সার্টিফিকেটে চেয়ে থাকলে তা ঠিক করেননি। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দেয়া সর্বশেষ তথ্যমতে, জেলায় এ পর্যন্ত ৩২৭০ জন করোনা রোগ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৩৮ জনের। জেলায় করোনা পরীক্ষার জন্য সরকারিভাবে দু’টি ও বিজিএমইএ’র একটি পিসিআর ল্যাব রয়েছে। এদিকে করোনা মহামারিতেও চারদিকে অর্থনীতি সংকুচিত হয়ে পড়ার সময়েও গাজীপুরে চালু রয়েছে দেড় হাজারের বেশি পোশাক কারখানা। বিশ্ব বাজার ধরে রাখতে এসব কারখানায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন অন্তত ২২ লাখ শ্রমিক।