গাজীপুরে দুই ওসি প্রত্যাহার

 মোঃআল-আমিন টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় ঘটে যাওয়া মা ও তিন সন্তানকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় সারাদেশে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছে। সর্বত্রই এখন আলোচনা গাজীপুরের চার জনকে গলা কেটে হত্যা। কেন ঘটেছে। এদিকে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার দুই পুলিশ পরিদর্শককে প্রত্যাহার করা হয়েছে। চার হত্যার ঘটনায় তদন্ত কমিটির দুই পুলিশ পরিদর্শক প্রত্যাহার। অনেকটা একই সূত্রে গাঁথা বলে মনে করছেন অনেকে। তবে গাজীপুর পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার বলেন, এই বদলি চার হত্যার সাথে কোন সম্পৃক্ততা নেই। এটি নিয়মিত কার্যক্রমের একটি। প্রত্যাহারকৃতরা হলেন- শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানা ও পরিদর্শক (অপারেশন) তারিকুজ্জামান।

যদিও হত্যার মূল হোতা পারভেজকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া পারভেজ চার হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে। জবানবন্দিতে পারভেজ জানায়, ২৩ এপ্রিল রাত সাড়ে ১২টার সময় কাজলের স্ত্রী ও বড় মেয়ের টাচ মোবাইল চুরির উদ্দেশ্যে প্রতিবেশী বাবুলের বাড়ির পেছনে যায়। সেখান দিয়ে ওই বাড়ির ছাদে ওঠে। পরে নিজের কাছে থাকা ব্লেড দিয়ে ছাদে কাপড় শুকানো রশি কাটে। রশি ছাদের গ্রিলের সঙ্গে বেঁধে দোতলার বাথরুমের ফাঁকা জায়গা দিয়ে ভেতরে ঢুকে। পরে সে নুরা ও হাওয়ারিনের রুমে প্রবেশ করে খাটের নিচে লুকিয়ে থাকে। তখন নুরার কানে হেডফোন ছিল ও ছোট বোন হাওয়ারিন ঘুমিয়ে ছিল। আনুমানিক ১ ঘণ্টা পর সবাই ঘুমিয়েছে ধারণা করে সে নিচ তলায় নেমে রান্না ঘরে প্রবেশ করে। রান্না ঘর থেকে ধারালো বটি নিয়ে মোবাইল নেওয়ার জন্য দোতলায় ওঠে। ঘরের দরজা খোলার শব্দে স্মৃতি ফাতেমা জেগে উঠে বাথরুমে ও আশপাশ কেউ আছে কিনা খোঁজ করে। স্মৃতি ফাতেমা তাকে চিনে ফেললে চিৎকার দেয়। তখন সে বটি দিয়ে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপায়।

তিনি অজ্ঞান হয়ে ফ্লোরে পড়ে যায়। শব্দ পেয়ে নুরা ঘুম থেকে জেগে উঠলে তাকেও কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে নুরার ছোট ভাই ফাদিল জেগে উঠলে তার মাথায় কোপ মারে, সে ফ্লোরে পড়ে গেলে তাকে জবাই করে নুরার খাটের নিচে রাখে। তারপর হাওয়ারিন ঘুম থেকে জেগে উঠে চিৎকার দিলে তাকেও কোপায়। পরে সে নুরাকে ধর্ষণ করে। নুরার মাকেওড়না দিয়ে হাত পা বেঁধে অর্ধমৃত হাওয়ারিনকেও ধর্ষণ করে। মৃত্যু নিশ্চিতকরার জন্য সবাইকে গলা কেটে হত্যা করে। এরপর নুরার মার গলায় একটি স্বর্ণেরচেইন, কানের দুল ও একটি কান ফুল ও একটি নাক ফুল খুলে নেয়। হাওয়ারিনের কান থেকেও স্বর্ণের রিং খুলে নেয়। পরে আলমারি খুলে দুটি স্বর্ণের চেইন, একটি আংটি, একটি লাল রংয়ের ছোট ডাইরি, নুরার মায়ের রুম থেকে দু’টি বড় টাচ মোবাইল নেয়। এরপর সে হাত মুখ ধুয়ে পেছনের গেট খুলে নিজ বাড়ি চলে যায়। গাজীপুর জেলা আদালতের ইন্সপেক্টর মীর রকিবুল হক জানান, সোমবার গাজীপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রে শরীফুল ইসলামের পারভেজকে আদালতে হাজির করা হয়।

ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে সে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পরে আদালত পারভেজের জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার জৈনাবাজার এলাকার একটি বাড়ি থেকে মা ও তিন সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের ধারণা- বুধবার (২২ এপ্রিল) দিবাগত রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা চার জনকে গলা কেটে হত্যা করেছে। নিহতরা হলেন- আবদার এলাকার প্রবাসী রেদোয়ান হোসেন কাজলের স্ত্রী ইন্দোনেশিয়ান নাগরিক স্মৃতি আক্তার ফাতেমা (৪৫), তার বড় মেয়ে সাবরিনা সুলতানা নূরা (১৬) , ছোট মেয়ে হাওরিন হাওয়া (১২) ও বাক প্রতিবন্ধী ছেলে ফাদিল (৮)।