গাজীপুরে ছঁটাইয়ের গুজবে বেতনের দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ, ভাংচুর

আশজাদ রসুল সিরাজী, গাজীপুর প্রতিনিধি: শ্রমিক ছাঁটাইয়ের গুজবে এবং বেতনের দাবিতে গাজীপুরে তিনটি কারখানায় বৃহস্পতিবার শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও ভাংচুর করেছে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্র্রণ করেছে।

শিল্প-পুলিশ গাজীপুর-২ এর ইন্সপেক্টর রেজাউল করিম রেজা জানান, গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ভান্নারা এলাকায় দেইয়্যু ফ্যাশন লিমিটেড নামে একটি তৈরি পোশাক কারখানায় ছাঁটাইয়ের গুজবে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয়। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে কারখানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে শ্রমিকরা। পরে কতৃপক্ষের সঙ্গে শিল্প পুলিশ আলোচনা করে কাউকে ছাঁটাই করা হবে না মর্মে আশ্বাস দিলে তারা আন্দোলন ত্যাগ করে।

কারখানার শ্রমিক রাসেল জানান, ১৬ এপ্রিল শ্রমিকদের মার্চ মাসের বেতন দেওয়ার পর ৬ মে পর্যন্ত কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। ওই দিন কিছু শ্রমিককে জোড়পুর্বক অব্যহাতিপত্রে স্বাক্ষর নেয় কর্তৃপক্ষ বাকীদের নিতে না পারলেও চার শতাধিক শ্রমিককে মোবাইলে ফোন দিয়ে জানানো হয় তাদের চাকরিচ্যুতি করা হয়েছে তাদের কারখানায় আসার প্রয়োজন নেই। ফোন উপেক্ষা করে বৃহস্পতিবার সকালে যথারীতি কারখানায় সামনে ওইসব শ্রমিকদের কারখানায় ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। এর প্রতিবাদে শ্রমিকরা সকাল থেকে কারখানার সামনে অবস্থান করে বিক্ষোভ করতে থাকে।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুশান্ত সরকার জানান, গাজীপুর মহানগরীর ভোগড়া এলাকার সেইলর মুন নামের কারখানায় বৃহস্পতিবার মার্চের বেতন দেয়ার তারিখ ছিল। সকাল থেকেই শ্রমিকরা কারখানায় বেতনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু কারখানা কতৃপক্ষ ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে না পারায় বিকেলেও বেতন দিতে পারেনি। এর প্রতিবাদে শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও কারখানার ভাংচুর চালায়। পরে রোববার বেতন দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হলে শ্রমিকরা চলে যায়।

এই কারখানার শ্রমিক সোহেল জানান, মার্চের বকেয়া বেতন দেয়ার একাধিকবার আশ্বাস দিলেও কারখানা কতৃপক্ষ তা পরিশোধ করেনি। এভাবে এপ্রিল মাসও পার হয়ে গেছে। তারপরও মার্চের বেতন দেয়নি।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুশান্ত সরকার জানান, গাজীপুর মহানগরীর সাইবোর্ড এলাকায় বেন্ডো ফ্যাশন লিমিটেড নামের পোশাক করাখানায় শ্রমিকরা করোনা সংক্রমনরোধে তাদের সুরক্ষা ব্যবস্থাকরণ ও শতভাগ বেতনের দাবিতে বৃহস্পতিবার শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করে।

করোনা সংকটে লকডাউন চলাকালে যারা কাজে যোগ দিতে পারেনি তাদের জন্য ৬০ ভাগ বেতন ভাতা দেয়ার আশ্বাস দেয় বানিজ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু শ্রমিকরা তা না মেনে শতভাগ বেতনের প্রদান ও করোনা সংক্রমন থেকে তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে। পরে শ্রমিকদের বুঝিয়ে সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। শনিবার থেকে শ্রমিকরা কাজে যোগ দেবে বলেও জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা।