গাজীপুরে কর্মস্থলে ফেরা শ্রমিকদের ঢল অব্যাহত

মোঃ আল-আমিন, টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ করোনা ভাইরাসের সংক্রমনের ঝুঁকির মধ্যে দিয়ে গাজীপুরে খুলে দেয়া হয়েছে তৈরি পোশাক কারখানা। কর্মস্থলে যোগ দিতে গ্রামের বাড়ি থেকে শ্রমিকরা এখনো আসছেন গাজীপুরে। পথে পথে ভোগান্তি সহ্য করে পেটের দায়ে তারা নিজ কর্মস্থলে ফিরছেন বলে জানিয়েছেন আগত এসব শ্রমিকরা।

নাম না প্রকাশের শর্তে কিছু শ্রমিকরা জানান, আমাদেরকে অফিস থেকে জানানো হয়েছে, যদি সঠিক সময়ে কর্মস্থলে না আসো তাহলে পরবর্তীতে তোমাদের চাকরিতে রাখা হবে না। ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড় ও ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের শ্রীপুরের জৈনা বাজার এলাকা দিয়ে গত কয়েক দিনের মতো আজও দলে দলে গার্মেন্টস শ্রমিকরা গাজীপুর এবং ঢাকায় প্রবেশ করছেন।

গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ভেঙ্গে ভেঙ্গে ট্রাক, পিকআপ ও অন্যান্য হালকা যানবাহনে চড়ে শ্রমিকরা আসছেন নিজ নিজ কর্মস্থলে।

যাত্রাপথে সড়ক মহাসড়কে পুলিশের বাঁধা ও তল্লাশী ফাঁকি দিয়ে তাদের ভেঙ্গে ভেঙ্গে আসতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রমিকরা।

শ্রমিকদের অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গণপরিবহন না থাকায় ট্রাক, পিকআপ, অটো রিকশা করে ভেঙ্গে ভেঙ্গে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে কর্মস্থলে এসেছেন। দীর্ঘ পথে নানা ভোগান্তিসহ বাড়তি ভাড়ার মাসুল গুনতে হয়েছে তাদের। এদিকে, গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে ৫ শতাধিক কারখানা খুলে দেয়ায় কাজে ফিরছেন শ্রমিকরা। সকাল থেকে দলে দলে কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন তারা। করোনা ভাইরাস সুরক্ষায় কারখানার ভেতরে শ্রমিকদের হাত ধোঁয়ার ও সামাজিক নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে কারখানা কর্তৃপক্ষ যে ব্যবস্থা নিয়েছে তাতে কোনভাইবেই বিশ্বাস রাখতে পারছে না শ্রমিকরা।

একই টয়লেট অনেকে ব্যবহার, গাদাগাদি করে গার্মেন্টেসের ভেতরে ঢোকার কারনে একজনের থেকে ভাইরাস সবার শরীরে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছেও বলে জানান তারা।তবুও পেটের তাগিদে যোগ দিয়েছেন কর্মস্থলে। কোনাবাড়ি হাইওয়ে থানার ওসি মুজিবুর রহমান জানিয়েছেন, লকডাউন মানার জন্য মহাসড়কে চেকপোষ্টে গাড়িগুলোতে তল্লাসী জোরদার করা হয়েছে। কিন্তু শ্রমিকরা অনেক সময় চেকপোষ্টের আগেই নেমে হেঁটে চেকপোষ্ট অতিক্রম করছেন।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের দেয়া তথ্যমতে, জেলায় দুই হাজার ৭২টি কারখানার মধ্যে আজ ১ হাজার ৮১৪টি কারখানার কর্তৃপক্ষ তাদের শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ভাতা পরিশোধ করেছে। এখনো শ্রমিকদের বেতন বকেয়া রেখেছে ২৫৮টি শিল্প প্রতিষ্ঠান।

এছাড়া বর্তমানে বিজিএমইএ এর ৩০৩টি কারখানাসহ মোট ৫৫৪টি কারখানা খোলা রয়েছে। এই শিল্পাঞ্চলে সর্বমোট বন্ধ রয়েছে এক হাজার ৫১৮টি শিল্প প্রতিষ্ঠান। কারখানায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে ধাপে ধাপে খোলা হচ্ছে।