গাজীপুরে অপহৃত শিশু উত্তরা থেকে উদ্ধার: গ্রেফতার চারজন

আশজাদ রসুল সিরাজী, গাজীপুর প্রতিনিধি : গাজীপুরে পাঁচলাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে এক শিশুকে অপহরণের পর ওই অপহৃত শিশুকে উদ্ধার ও চার অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১ এর সদস্যরা। অপহৃত শিশুর নাম মোঃ সাব্বির হোসেন (৬) সে গাজীপুর মহানগরীর ১৫নম্বর ওয়ার্ডের বাসন সড়ক এলাকার জমির উদ্দিনের বাড়ির ভাড়াটিয়া আবু বকর সিদ্দিকের একমাত্র ছেলে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- বাসন সড়ক এলাকার জমির উদ্দিনের বাড়ির ভাড়াটিয়া মোঃ নাজমুল হুদা ওরফে শামীম (২৮) তার স্ত্রী মোসাঃ সুমা আক্তার (২৫), মালেকের বাড়ি এলাকার নজরুলের বাড়ির ভাড়াটিয়া মোঃ নয়ন মিয়া (৩৪) ও স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার শিউলি (২৬)। র‌্যাব-১ এর গাজীপুরের কোম্পানী কমান্ডার লে. কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, রবিবার সকাল ৯টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর বাসন সড়ক এলাকার জমির উদ্দিনের বাড়ির ভাড়াটিয়া মোঃ আবু বকর ছিদ্দিকের একমাত্র শিশু সন্তান মোঃ সাব্বির হোসেন (৬) তার বাসা হতে অপহরণ করা হয়। শিশুটির পরিবারের লোকজন সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজ করে না পেয়ে রাতে বাসন থানায় একটি অপহরণের মামলা দায়ের করেন।

পরে বিষয়টি র‌্যাবকে জানালে সোমবার ভোর আনুমানিক ৩টার দিকে র‌্যাব-১ সদস্যরা গাজীপুর ও রাজধানীর উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মুক্তিপণের টাকা লেনদেনের সময় অপহরণকারী চক্রের ওই চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। পরে গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যমতে র‌্যাব রাজধানীর উত্তরা এলাকার একটি ফ্ল্যাটের পরিত্যাক্ত গোপন কক্ষ হতে মুমূর্ষ অবস্থায় অপহৃত ভিকটিম মোঃ সাব্বির হোসেন কে উদ্ধার করে। গ্রেপ্তরকৃতদের কাছ থেকে ৪টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

ওই র‌্যাব কর্মকর্তা আরো জানান, অপহরণ চক্রের দুইজন মোঃ নাজমুল হুদা ওরফে শামীম ও মোসাঃ সুমা আক্তার ভিকটিমদের সাথে একই বাড়ীতে ভাড়া থাকত। ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া মোঃ নাজমুল হুদা ওরফে শামীম ও তার বন্ধু নয়ন মিয়ার শিশু সাব্বিরকে নিয়ে একটি বাসায় লুকিয়ে রাখে এবং তারা স্বাভাবিক কাজকর্ম করে। সন্ধ্যায় তারা ভিকটিমের বাসা পরিবর্তন করে। র‌্যাব অভিযান শুরু করলে রাতে তারা উত্তরার ৯নং সেক্টরের নির্মাণাধীন বাসায় শিশুটিকে লুকিয়ে রাখে এবং ধরা পড়ার ভয়ে হত্যার পরিকল্পনা করে।

জিজ্ঞাসাবাদে আসামীরা র‌্যাবকে জানায়, তারা পেশায় গার্মেন্টস কর্মী। তাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল যেকোন উপায়ে বিপুল টাকা উপার্জন করে গাজীপুর শহরে একটি ফ্ল্যাট বাসা ক্রয় করে সুন্দর ভাবে জীবন-যাপন করবে। তাদের এই স্বপ্ন পূরণ করার জন্য তারা এই অপহরণ করেছে বলে স্বীকার করে এবং তারা ধনী পরিবারের শিশুদেরকে টার্গেট করে অপহরণ করে।