গাজীপুরের শতশত শ্রমিকের মাঝে, তিনদিন ধরে করোনা পজেটিভ চার পোশাক শ্রমিক

আশজাদ রসুল সিরাজী, গাজীপুর প্রতিনিধি : করোনা সংকটে কারখানা ছুটিতে গাজীপুর সদর উপজেলা থেকে চার পোশাক শ্রমিক সুনামগঞ্জ ঘুরে ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ দিয়ে তিনদিন পর জানতে পারেন তারা সকলেই করোনা আক্রান্ত। তারা পরস্পরের আত্মীয়। তারা সম্পর্কে হলেন স্বামী-স্ত্রী ও ভাইবোন। সুনামগঞ্জের তাহেরপুর থানার কাওকান্দি গ্রামে তাদের বাড়ি। তাহেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মির্জা রিয়াদ হাসান জানান, গাজীপুরের পোশাক কারখানা থেকে সম্প্রতি (১৭এপ্রিল) তারা কাওকান্দি ফিরেছেন জানতে পেরে ২২এপ্রিল তাদের নমুনা সংগ্রহ করে প্রথমে সিলেট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা আইইডিসিআর-এ পাঠানো হয়।

দুইবারেই তাদের দেহে করোনা পজেটিভ হয়েছে। সর্বশেষ নমুনার রেজাল্টটি আসে ৫ মে। পরে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। খোঁজ নিয়ে তাদের সঙ্গে ফোন করে জানা গেছে, তারা গাজীপুর সদর উপজেলার বাঘের বাজারের শিরির চালা এলাকায় ভাড়া বাসা থেকে স্থানীয় পোশাক কারখানায় চাকুরি করেন। ওই শ্রমিকরা জানান, ২২এপ্রিল নিজ জেলায় স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন আমাদের দেহে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা নিয়ে যায়। দেহে করোনা সংক্রমনের কোন লক্ষণ নেই, আমাদের কোন সমস্যা মনে হয়নি। পরীক্ষার কোন ফলাফলও আমরা কেউ পাইিনি। তাই আমরা সকলে ৩মে থেকে নিজ নিজ কারখানায় কাজে যোগ দেই। ৫ মে কাজ সেরে বাসায় ফিরি। পরে পুলিশ ও স্থানীয় জন প্রতিনিধিরা রাতে আমাদের কারখানায় যেতে বারন করে বাসায় কোয়ারেন্টিনে থাকার কথা বলে।

আমাদের জানানো হয় আমরা করোনায় আক্রান্ত। গাজীপুর সদর উপজেলার জয়দেবপুর থানার ওসি জাবেদুল ইসলাম জানান, ৫মে রাত ৯টার দিকে তাহেরপুর থানার ওসি মোবাইল ফোনে তাদের আক্রান্তের খবর আমাকে জনালে রাতেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে তারা যে দুই বাড়িতে ভাড়া থাকেন সেই দুই বাড়ির তিনটি কক্ষ লকডাউন করা হয়েছে। গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম জানান, লকডাউন করা বাড়ির ওই চারজন কারখানায় চাকুরি করতে গিয়ে কিংবা ভাড়া বাড়িতে থাকাকালে যাদের সংস্পর্শে গেছেন তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে। কর্মস্থলে তারা যে লাইনে কাজ করেছেন এবং সংস্পর্শে থাকা সহকর্মীদের নমুনায় করোনা সংক্রমন পাওয়া গেলে তাদেরও আইসোলেশনে পাঠানো হবে। সংক্রমন বেশি হলে কারখানাও লকডাউন করা হবে।