গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে শিশুসহ ১৮জেলে ২১দিন ধরে নিখোঁজ

 আনোয়ার হোসেন আনু,  কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:  বঙ্গোপাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ১৮ জেলে সহ এফবি আল-হাসান নামের একটি মাছধরা ট্রলার ২১দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। এদের মধ্যে বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার বগিরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সাকিল (১৪) নামে এক শিশু রয়েছে। করোনাকালীন সময়ে স্কুল বন্ধ থাকায় রোজগারের উদ্দেশ্যে চাচাতো ভাই শামিম এর সাথে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যায়। গত ১০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় এফবি আল-হাসান নামের মাছধরার ট্রলারটি মহিপুর বন্দরের মেসার্স মনোয়ারা ফিশ নামক মৎস্য আড়ৎঘাট থেকে গভীর সমুদ্রের উদেশ্যে ছেড়ে যায়।

এরপর থেকে জেলেসহ ট্রলারটির আর ফিরে আসেনি। নিখোঁজ জেলেদের বাড়ি পটুয়াখালীর কুয়াকাটা,মহিপুর,লক্ষীপুর জেলার রামগতি ও বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলায় বলে জানা যায়। এঘটনায় ট্রলারের মালিক মোঃ আবু হানিফ ৩১ ডিসেম্বর মহিপুর থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেন। নিখোঁজ জেলেরা হচ্ছেন- কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নে মুসুল্লীয়াবাদ গ্রামের ট্রলার মাঝি মো. নজরুল ইসলাম (৬৪) (নজির মাঝি), মহিপুর সদর ইউনিয়নের নজিবপুর গ্রামের আল-আমিন (২১), বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার ছোট বগি এলাকার শাকিল (১৪), শামিম (৩৮), তোফাজ্জেল হোসেন ফকির (৫২), রমজান তালুকদার (৫০), শাহ আলম (৪০), আজিজ (৪৩), খলিল (৩৯), হোচেন (৩৮) এবং লক্ষীপুর জেলার রামগতি উপজেলার বিভিন্ন এলাকার হাফিজুল্লাহ (৫০), কাশেম (৫০), ইউসুফ (৪২), বাবুল (৪২), আবুল কাশেম (৪২), কবির হোসেন (৪২), বাবলু (৪২) ও শ্রী জগানাথ (৪৮)। এদিকে নিখোঁজ জেলেদের খোঁজ পেতে সমুদ্র উপকূলের বিভিন্ন স্থানে খুঁজে বেড়াচ্ছে।

স্বজনদের দাবী, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে ধরতে বৈরী আবহাওয়ায় শ্রোতের তোরে পার্শ্ববতী দেশ মিয়নমার,থাইল্যান্ড কিংবা কাছাকাছি অন্য কোন দেশে গিয়ে আটকা পরেছে বলে তাদের সন্দেহ রয়েছে। নিখোঁজ জেলেদের খুঁজে পেতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন স্বজনরা। ওই সকল পরিবারের মাঝে উদ্দেগ উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে। ট্রলার মালিক আবু হানিফ বলেন,১০ ডিসেম্বর সকালে মহিপর বন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়ার পর ফিরে না আসায় বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি করে না পেয়ে অবশেষে মহিপুর থানায় হারানো গিয়েছে মর্মে সাধারন ডায়েরী করা হয়েছে। এবিষয়ে মহিপুর থানার ওসি মোঃ মনিরুজ্জান বলেন,সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে ১৮ জেলে নিখোঁজ রয়েছে দাবী করে ট্রলার মালিক একটি হারানো ডায়েরী করেছে। এর তদন্ত চলছে।