গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ আখ্যা দিয়ে বুধবার সারাদেশে বিএনপির বিক্ষোভ

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘দেশের স্বাধীনতার পর থেকে আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে তখনই দেশে স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে দেয়নি। প্রাণবন্ত গণতন্ত্রের জন্য যে দলীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং উদার সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রবণতা অপরিহার্য তা আওয়ামী লীগ কখনোই রপ্ত করেনি।

‘বাংলাদেশের নিজস্ব ভূমিতে যাতে গণতন্ত্রের শিকড় গজাতে না পারে সেজন্য তারা সবসময় সর্বশক্তি নিয়োগ করে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো কণ্ঠরুদ্ধ করার নানা কালাকানুন, গুম, অপহরণ, বিচারবহির্ভূত হত্যার অমানবিক নিষ্ঠুরতার সীমাহীন আবর্তের মধ্যে দেশকে ঠেলে দিয়েছে তারা। স্বাধীনতার অর্ধশতান্দি পরও গেল না আঁধার।’

‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ আখ্যা দিয়ে বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে বিএনপি। একই সঙ্গে সমাবেশ থেকে একাদশ সংসদ নির্বাচন বাতিল ও পুনর্নির্বাচনের দাবি জানাবে দলটি।

রাজধানীর নয়াপল্টনে অবস্থিত দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মঙ্গলবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, এটি পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি। বাংলাদেশের ইতিহাসকে কলঙ্কমুক্ত করতেই পুনর্নির্বাচনের দাবি জানাই আমরা।

রিজভী জানান, বুধবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সমাবেশে উপস্থিত থাকবেন দলের জাতীয় নেতারা। এছাড়া ওই দিন সারাদেশের জেলা ও মহানগরে বিক্ষোভ সমাবেশ হবে।

তিনি বলেন, ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কলঙ্কিত অধ্যায়। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের রাতে ‘ভোট ডাকাতি’ হয়েছে। তাই ৩০ ডিসেম্বর দিনটিকে দেশবাসী ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করে। পৃথিবীর ইতিহাসে অভাবনীয় রেকর্ড সৃষ্টিকারী রাতে ব্যালট বাক্স পূর্ণ করে ক্ষমতা ‘দখলের’ দুই বছর পূর্ণ হবে মঙ্গলবার রাতে। তাই ওই রাতটি দেশবাসীর কাছে ‘কালরাত’ হিসেবে কলঙ্কিত হয়ে থাকবে।