খুলনা জেলাসহ পাঁচ জেলার সকল জমি নিজের বলে দাবি করেন সামাদ, অফিস তালা দিলো প্রশাসন

মাহফুজুর রহমান বাপ্পী, বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ তৎকালীন খুলনা জেলার অধিন সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, বরগুনা জেলার সকল জমি ১৯৫৬ সালের সংশোধনী গেজেট অনুযায়ী সুন্দরবন লড প্রজাস্বত্ব এস্টেটের মালিক বলে দাবী করেন আঃ সামাদ। সেই দাবির প্রেক্ষিতে শরণখোলা ও মোরেলগঞ্জ উপজেলার সকল জমির মালিক দাবী করে স্থাপিত সুন্দরবন লর্ড প্রজাস্বত্ব এস্টেটের শরণখোলা অফিস বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

এসময় তাদের সাইনর্বোড, ব্যানার অপসরন করে জনসাধারনকে বিভ্রান্তি না হওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়। বুধবার দুপুরে এ পদক্ষেপ নেয় শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরদার মোস্তফা শাহিন। জানাগেছে, মোরেলগঞ্জ উপজেলার আকবর আলী হাওলাদারের পুত্র পিসি বাড়ইখালীর বাসিন্দা আঃ সামাদ হাওলাদার শরণখোলা ও মোরেলগঞ্জের সকল জমি নিজের বলে দাবী করেন। তিনি প্রাদেশিক সরকারের ১৯২৮ সালের ৮ বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন অনুযায়ী এস.এ (চলমান) ও বি.আর.এস (সংশোধনী) প্রাদেশিক সরকারের খাস রেকর্ড অনুযায়ী সুন্দরবন লর্ড চিরস্থায়ী প্রজাস্বত্ব এস্টেট কবলা সূত্রে নিজেকে মালিক ঘোষণা করেন।

ওই দাবীর প্রেক্ষিতে কয়েক বছর আগে তিনি পিসি বাড়ইখালির নিজ বাড়িতে সদর দপ্তর এবং গত ২৪ তারিখ শরণখোলা উপজেলার পাঁচ রাস্তার মোড় এলাকায় একটি অফিস নিয়ে সাইনবোর্ড স্থাপন করে। এরপর এলাকায় মাইকিং করে প্রচারনা চালিয়ে সাধারণ মানুষকে ভুল বুঝিয়ে জমি বন্দোবস্ত দেয়ার নামে টাকা পয়সা আদায় এবং খতিয়ান খুলে জমির পর্চা ও দাখিলা নিতে বলেন।

এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা রুহুল আমীন হাওলাদার অভিযোগ করে জানান, শরণখোলায় আঃ সামাদ বেশ কিছু এজেন্ট নিয়োগ দিয়ে গ্রামের সাধারণ মানুষকে ভুল বুঝিয়ে ইতিমধ্যে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এর মধ্যে রায়েন্দা ইউনিয়নের দক্ষিন রাজাপুর গ্রামের মুক্তা মুন্সি, মোজাম্মেল হোসেন, গোলাম রাব্বি, মাছের খাল পাড়ের লাইলী বেগম, উত্তর রাজাপুর গ্রামের আজিজ হাওলাদার, রহমান খান, লাকুড়তলার রেকসোনা বেগম, খাদা গ্রামের মাহামুদা বেগম এজেন্ট হিসাবে কাজ করছেন। উত্তর রাজাপুর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জাকির হোসেন খান জানান, ইতিমধ্যে তাদের এলাকার মতিয়ার হাওলাদার ও পান্না ঘরামীর জমি চাষে বাঁধা প্রদান করেছে আঃ সামাদ হাওলাদারের এজেন্টরা।

খোন্তাকাটা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক তাজু সরদার জানান, আঃ সামাদ তার এস্টেটের সদস্য হওয়ার জন্য দুই হাজার টাকা দাবী করেন এবং এরপর থেকে জমির খাজনা তার কাছে দিতে বলে মোরেলগঞ্জ উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বাচ্ছু জানান, আঃ সামাদের পিতা আগে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার পুত্র এখন নিজেকে জমিদার দাবী করে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারনা করে অর্থ বানিজ্য শুরু করেছে। এ ব্যাপারে প্রশাসনের কাছে আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহনের দাবী জানান তিনি।

এ ব্যাপারে তথাকথিত সুন্দরবন লর্ড প্রজাস্বত্ব এস্টেটের মালিক দাবীদার আঃ সামাদ হাওলাদার বলেন, জমিদারী আমলের কাগজপত্র ও আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী এ অঞ্চলের জমির মালিক আমি। আমার কাছ থেকে সবার নতুন করে জমি বন্দোবস্ত নিতে হবে। শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরদার মোস্তফা শাহিন জানান, তথাকথিত সুন্দরবন লর্ড প্রজাস্বত্ব এস্টেটের নামে তারা বাংলাদেশকে অস্বীকার করছে। বাংলাদেশে এখন আর কোন জমিদারী প্রথা নেই সকল জমির মালিক সরকার। তাই খবর পেয়ে তাদের অফিস বন্ধ করে সাইনবোর্ড অপসারন করা হয়েছে। শরণখোলায় এধরনের বেআইনী কার্যকলাপ চালিয়ে কেউ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করলে তাকে গ্রেফতার করে আইনানুগ ব্যাবস্থা নেয়া হবে।