খুলনায় যৌনপল্লী শিশুদের আবাসিক শিক্ষা ও হোস্টেল নির্মাণ কার্যক্রমের উদ্বোধন

আঃ রাজ্জাক শেখ, খুলনা প্রতিনিধি: খুলনা’র সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় খুলনার দাকোপ উপজেলার বানিশান্তা যৌনপল্লীর শিশুদের আবাসিক শিক্ষা ও পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্প্রসারণ ও হোস্টেল নির্মাণ কার্যক্রমের উদ্বোধন রবিবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সুযোগ্য জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মাদ হেলাল হোসেন’র সভাপতিত্বে Zoom App এর মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে সংযুক্ত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ এমপি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে Zoom App এর মাধ্যমে আরো সংযুক্ত ছিলেন একাদশ জাতীয় সংসদের মাননীয় হুইপ পঞ্চানন বিশ্বাস এমপি এবং মাননীয় সংসদ সদস্য গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার। খুলনা জেলা প্রশাসনের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বানিশান্তা যৌনপল্লীর শিশুদের আবাসিক শিক্ষা ও পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্প্রসারণ ও হোস্টেল নির্মাণ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে।

বানিশান্তা যৌনপল্লীর গণিকাবৃত্তির দীর্ঘমেয়াদে অবসানের মাধ্যমে মানবকল্যাণ ও মানবতাবোধে সমাজ ও রাষ্ট্রকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন, খুলনা এই উদ্যোগ গ্রহণ করে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৮নং অনুচ্ছেদের ২নং দফায় অঙ্গীকার করা হয়েছে, ‘রাষ্ট্র গণিকাবৃত্তি নিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে’।

জনগণের প্রতি রাষ্ট্রের এই সাংবিধানিক অঙ্গীকার পূরণে দাকোপ উপজেলার বানিশান্তা পতিতালয়ের শিশুদের ভাগ্য পরিবর্তনে জেলা প্রশাসক, খুলনা ‘আমতলা বানিশান্তা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ সম্প্রসারণ ও হোস্টেল নির্মাণ’ কার্যক্রম গ্রহণ করেন।

এক্ষেত্রে দাকোপ উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং শিক্ষা অফিসার সরেজমিন পরিদর্শন করেন এবং দেখা যায় হাতেগোনা ২/৪টি শিশু এ বিদ্যালয়টিতে শিক্ষা গ্রহণ করে। জেলা প্রশাসক, খুলনার সার্বিক নির্দেশনায় মা ও অভিভাবক সমাবেশ করা হয়।

পতিতাপল্লীর ছেলেমেয়েদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করে শিক্ষার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির পদক্ষেপ নেন। সামগ্রিক পর্যালোচনা শেষে জেলা প্রশাসক, খুলনা এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা-৪ অর্থাৎ বৈষম্য নিরসন করে সকলের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে বানিশান্তায় এ অনন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পটির মাধ্যমে সামাজিক ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত পরিবর্তনসমূহ সাধিত হবে: • শিক্ষা নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। পেশা পরিবর্তনের সুযোগ সৃষ্টি হবে; • প্রকল্পটির ফলে এ এলাকার প্রায় ১০০ পরিবার সমাজের স্বাভাবিক ধারায় ফিরে আসবে; • নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টি হবে;

• অপরাধ প্রবণতা হ্রাস পাবে; • শিক্ষার প্রতি আগ্রহ তৈরি হবে; • সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয় রোধে এ প্রকল্প সহায়ক হবে; • শিশুদের মননে পরিবর্তন সাধিত হবে; • পুরনো প্রথা ভেঙ্গে সুস্থ জীবনে ফিরে আসতে এ প্রকল্পটি তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। • দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র ভেঙ্গে টেকসই উন্নয়নের পথ সুগম হবে।

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা অধিদফতর, খুলনা’র পরিচালক জনাব মোঃ আব্দুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), খুলনা জনাব গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান, সাবেক মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার অধ্যাপক আলমগীর কবির, রূপান্তরের নির্বাহী পরিচালকসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।