খুলনায় দুবৃর্ত্তদের ছোড়া গুলিতে ২জন নিহত, আহত ৯

আঃ রাজ্জাক শেখ, খুলনা প্রতিনিধিঃ খুলনার খানজাহান আলী থানার মশিয়ালী এলাকায় দুর্বৃত্তের ছোড়া গুলিতে দুইজন নিহত হয়েছেন। জখম হয়েছেন আরো ৯জন। আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ একাধিক ব্যক্তিও রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে এই ঘটনা ঘটে। খানজাহান আলী থানার এসআই শওকাত আলী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিহত দুইজন হলেন নজরুল ইসলাম (৪৫) ও গোলাম রসুল (৩৫)। নিহত নজরুল মশিয়ালি গ্রামের রফিক শেখের ছেলে। রসুল একই গ্রামের ইউনুস শেখের ছেলে। অভিযোগ করা হচ্ছে, শ্রমিকনেতা জাকারিয়া ও তার দুই ভাইয়ের ছোড়া গুলিতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। আহতদের ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে।

সেখান থেকে ৯জনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনার হয়েছে। খবর পেয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গেছেন। আহতদের মধ্যে সাইফুল, আফসার, শামিম, রবি, খলিল, রানাসহ কয়েকজন রয়েছে। এছাড়াও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মশিয়ালি গ্রামের প্রভাবশালী হাসান মাস্টারের তিন ছেলে। এই তিন ছেলে জাফরিন, জাকারিয়া ও মিলটন এলাকায় নিজস্ব বাহিনী গড়ে তুলেছে। এ বাহিনীর সদস্য মুজিবরকে পুলিশ দিয়ে ধরানোকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছিল।

তাদের সঙ্গে এলাকার ফকির গোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের শত্রুতা রয়েছে। আজ বিকেলে ফকির গোষ্ঠীর সঙ্গে মেয়েলি একটি ব্যাপার নিয়ে মিলটনের কথাকাটাকাটি হয়। পরে ফকির গোষ্ঠীর লোকেরা ওই তিন ভাইয়ের বাড়িতে হামলা চালাতে যায়। এসময়ে তারা তিন ভাই জাকারিয়ার নেতৃত্বে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলে দুইজন মারা যান। ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে গুলিবিদ্ধ নজরুল ও রসুল নামে দুইজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন কর্তব্যরত ডাক্তার। অভিযুক্ত জাফরিন খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। তাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

তার ভাই জাকারিয়া আলিম জুটমিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সহ-সম্পাদক বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তিনি থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-প্রচার সম্পাদক। ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ লোকজন জাকারিয়ার বাড়িতে আগুন দিয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ যায়। এখন পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানান ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।