খুলনার আঠারোবাঁকী নদীর উভয় পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

আঃ রাজ্জাক শেখ, খুলনা প্রতিনিধিঃ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে খুলনায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে খুলনার আঠারোবাঁকী নদীর রূপসা ও তেরখাদা উপজেলার সীমান্ত চানপুর- ছাগলদাহ এলাকায় নদীর পাড়ে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব এ এইচ এম আনোয়ার পাশা। এসময় তিনি একটি করে আম ও নিমের চারা রোপণ করেন। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, খুলনা পওর বিভাগ-১ এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করেন ।

সংশ্লিষ্ট সূএে জানা যায়, বাংলাদেশে যাতে বনায়ন ও সবুজ বেষ্টনীর সৃষ্টি হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখেই ১ কোটি গাছের চারা রোপণের কার্যক্রম হাতে নেয় সরকার। এরই অংশ হিসাবে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ১০ লক্ষ বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এ লক্ষ্যে খুলনা পওর বিভাগ-১, (বাপাউবো) খুলনার অধীনে রূপসা ও তেরখাদা উপজেলায় সদ্য সমাপ্ত আঠারোবাঁকী নদীর উভয় পাশের^ পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বৃক্ষরোপণ সংক্রান্ত নির্দেশাবলী অনুসরণ করে ১৫,০০০টি গাছের চারা রোপণের কার্যক্রম শুরু করে।

দেশের ভূ-প্রকৃতির অবস্থা পরিবেশ প্রতিবেশ এর বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বৃক্ষরোপণের জন্য বন বিভাগ ও মন্ত্রণালয় কর্তৃক গাছের তালিকা হতে বৃক্ষের প্রজাতি নির্ধারণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে পাখিদের আহার ও বাসস্থানের উপযোগী, ছায়াদানকারী ক্যানোপি সৃষ্টি, লবণাক্ত পানির সহিষ্ণুতা এসকল বিষয়সমূহ লক্ষ রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে একটি চারা থেকে আরেকটি চারার দূরত্ব গাছের ক্যানোপি (পাতার বিস্তার) অনুযায়ী ৬.০০ মিটার বা ২০ ফুট নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বনায়নের মাধ্যমে প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় কিছুটা সহায়ক হবে। তবে আঠারোবাঁকী নদীর বাকী অংশে নদীর উভয় পাশের খাস জমিতে আরো প্রায় এক লক্ষ গাছ লাগানো সম্ভব। এসব গাছ লাগানোর মাধ্যমে যেমন ভূমিদস্যুদের দখলমুক্ত থাকবে অন্যদিকে প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা ও দেশের জনগণের খাদ্য পুষ্টি চাহিদা মেটাতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধনকালে উপস্থিত ছিলেন, খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সৈয়দ হাসান ইমাম পিইঞ্জ, খুলনা পওর বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম, খুলনা পওর বিভাগ-১ এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শেখ হুমায়ূন কবীর, তেরখাদা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ শহীদুল ইসলাম, রূপসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাসরিন আক্তার, তেরখাদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিমুল সাহা, তেরখাদা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. শরাফাত হোসেন (মুক্তি), তেরখাদা পওর শাখা, বাপাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও মো. আবদুস সোবহান হাওলাদার প্রমুখ। এ সময় আঠারোবাঁকী নদীর পাড়ে আম, নিম, কড়ইসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়।