খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে বিকল্প উপায় খুঁজছেন স্বজনরা

আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি রাজপথে আন্দোলনের পক্ষে বিএনপি।

 

জামিন আবেদন খারিজ হওয়ায় খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে বিকল্প উপায় খুঁজছেন স্বজনেরা। দলীয় প্রধানের মুক্তির জন্য আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি রাজপথে আন্দোলনের কথা বললেও তা নিয়ে দলে রয়েছে নানান মত। এদিকে, আন্দোলন চাঙ্গা করতে কমিটিতে দলের তরুণদের প্রাধান্য দেয়ার কথা বলছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ডাক্তার জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

সর্বশেষ আবেদনে নতুন কোনও কারণ না থাকায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন বৃহস্পতিবার খারিজ করে দেয় উচ্চ আদালত। পাশাপাশি খালেদা জিয়া সম্মতি দিলে দ্রুত তার উন্নত চিকিৎসা শুরু করারও আদেশ দেয়া হয়।

যদিও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন মনে করেন রাজনৈতিক কারণেই খালেদা জিয়ার জামিন হয়নি। তবে তার মতে, রাজপথে আন্দোলন করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার মতো সাহসী নেতৃত্বের অভাব রয়েছে দলে।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে এতোদিন কারাগারে রাখার ফলে যারা বিএনপি সমর্থন করে না তাদেরও তার প্রতি একটি সহমর্মিতা তৈরি হয়েছে। এছাড়া বিএনপির নেতৃত্বে আরও সৎ এবং সাহসী হতে হবে। তাহলেই রাজপথ উত্তপ্ত করে তাকে মুক্ত করা সম্ভব হবে।

এদিকে, জামিন আবেদন খারিজ হলেও খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসায় তার মুক্তির জন্য বিকল্প পথও খুঁজছেন স্বজনরা। খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম বলেন,এই অবস্থায় তাকে এখানে আর বেশিদিন রাখা ঠিক হবে না। আমরা চিন্তা করছি,তবে এখনও কিছু ঠিক করি নি।

পরিবারের পক্ষ থেকে প্যারোলের কথা বলা হলেও পাশাপাশি রাজপথের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে বিএনপির অনেকেই।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। আন্দোলন কখন যে টার্ন নিবে তা বলা যায়না। বেগম জিয়া জেলে থাকবে আর এদেশের মানুষ বের হবে না তা হয় না।

তবে আন্দোলন চাঙ্গা করতে দলের কাউন্সিলসহ স্থায়ী কমিটির শূন্য পদগুলো পূরণের তাগিদ দিলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ডাক্তার জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন,বিএনপির বিভাগীয় কাউন্সিল করা দরকার। স্ট্যান্ডিং কমিটিতে তাদের আরও নতুন ছয় সাতজন কম বয়সি লোক নেয়া দরকার। আমার মত বৃদ্ধদের নিয়ে কোন লাভ নেই।

খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনের সাথে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, ভারতে মুসলিমদের ওপর নির্যাতনসহ অন্যান্য জনসম্পৃক্ত ইস্যু নিয়ে আন্দোলন করারও পরামর্শ তার।