খালিয়াজুরিতে কোয়ারেন্টানের নামে এলাকাবাসীর অমানবিক আচরণ

জাহাঙ্গীর আলম, নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধিঃ নারায়নগঞ্জ ও ঢাকা থেকে গার্মেন্টসে কাজ করে নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলায় আসা ১৭টি পরিবারের ৬০জন সদস্যকে গ্রামবাসী কোয়ারেন্টিনের নামে নির্জন হাওরে অমানবিক জীবন ধারণে বাধ্য করার ১৩দিন পর তাদেরকে উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে খালিয়াজুরী উপজেলার নগর ইউনিয়নের চানপুর কসমাকান্দা হাওর থেকে তাদের উদ্ধার করে বাড়িতে ফিরিয়েছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ। ওই ১৭টি পরিবারে রয়েছে অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ। তারা প্রত্যেকেই চানপুর গ্রামেরই স্থায়ী বাসিন্দা।

উদ্ধার হওয়া একটি পরিবারের অভিভাবক মঙ্গল দাস (৪০) জানান, ঢাকায় গার্মেন্টস বন্ধ হওয়ায় ওই সব পরিবারগুলো নিজেদের বাড়িতে এসেছিলেন ছুটির দিনসমূহ কাটাতে। কিন্তু বাড়িতে আসার পর গ্রামেই ইউপি সদস্য দেবাশীষ দাস ও আওয়ামী লীগ নেতা দীপক দাসের নেতৃত্বে অধিকাংশ গ্রামবাসী মিলে তাদেরকে হাওরে খোলা আকাশের নীচে ১৩দিন ধরে কোয়ারেন্টিনে থাকতে বাধ্য করেছে। অথচ, তারা তাদের বাড়িতেই কোয়ারেন্টিনে থাকতে প্রস্তুত ছিলেন।

উদ্ধার হওয়া কিশোরী রীতা রানী (১৮) বলেন, দাঁড়ানো যায় না খরের এমন একটি চালা তৈরি করে হাওরে দু’টি সপ্তাহ কাটাতে হয়েছে নিরাপত্তা হীনতায়। সেখানে তাদের ভোগতে হয়েছে খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও পয়ঃনিস্কাশন সমস্যার দুর্বিষহ যন্ত্রনায়।

খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার এএইচএম আরিফুল ইসলাম জানান, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে ওই পরিবারগুলোকে যারা কোয়ারেন্টিনের নামে হাওরে অমানবিক ভাবে থাকতে বাধ্য করেছে তারা কাজটির মাধ্যমে অপরাধ করেছে। ওই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত তাদেরকে তৎক্ষনাৎ পাওয়া গেলে ভ্রাম্যমান আদালতের আওতায় আনা হতো।

তবে, পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে ওই অপরাধীদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। কেউ অভিযোগ করলে পরেও তাদেরকে আইনের আওতায় আনা যাবে। এদিকে, বর্বরতার শিকার ১৭টি পরিবারকে নিজেদের বাড়িতে ফিরিয়ে দেয়াসহ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদেরকে কয়েক দিনের খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে বলেও জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।