ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানের এক বছর: ৩২ মামলায় ২৬ চার্জশিট

ক্যাসিনো সংস্লিষ্টদের অবৈধ সম্পদের বিরুদ্ধে দুদকের ২২ মামলা।

ব্যাপক অভিযান গ্রেপ্তার ক্যাসিনোকান্ডের এক বছরে বত্রিশ মামলার ২৬ টির তদন্ত শেষ হয়েছে। তবে অভিযান স্তিমিত, আসামীদের কয়েকজন আছেন জামিনে। গ্রেপ্তার এড়াতে পালিয়ে থাকা দু-একজন ফিরেছেন দেশেও। অভিযোগ আবারও ক্যাসিনো চালু করার তৎপরতায় আছেন তারা। র‌্যাব বলছে প্রমাণ মিললে আবারও অভিযান চলবে।

গেল বছরের ১৮ সেপ্টম্বর, ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে  শুরু হয় ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান। টানা দেড় মাস ধরে চলা এই অভিযানে গ্রেপ্তার হন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ওরফে সম্রাটসহ আনেকেই। সেসময় বলা হয় তা ছিল শুদ্ধি অভিযান।

অভিযান চালানো হয় ঢাকা ও চট্টগ্রামের ১১টি ক্লাবে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে- সেসময় গ্রেপ্তার কয়েকজন এখন জামিনে।তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মোহামেডানে ক্লাবের লোকমান ভুইয়া, কলাবাগানের শফিকুল আলম ফিরোজ।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বলছে প্রায় সবকটি মামলার তদন্ত শেষ করা হয়েছে।

র‌্যাবের লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া উইং পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, ক্যাসিনো একটি বিশেষায়িত অভিযান ছিল। সরকারের নির্দেশেই র‌্যাব এই অভিযান করেছে, যেটি বর্তমানে অব্যাহত আছে। সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাসিনোর দৃশ্যমান কোন অভিযান না দেখা গেলেও র‌্যাব এসব অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

ক্যাসিনো কান্ডে মানি লন্ডারিং ১৩ টি মামলার তদন্ত শুরু করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। তদন্তে শেষে ৯টি মামলায় অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে।

সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান বলেন, আরও কয়েকটা মামলা প্রসেসিং এ আছে। কিন্তু যেহেতু এই মূহুর্তে এখনো এই মামলাগুলোর কাজ শেষ হয় নাই, তাই নতুন করে কিছু হচ্ছে না। তদন্তে আমরা এসব আসামির বিরুদ্ধে আরও কিছু অভিযোগ পাচ্ছি যেমন মানি লন্ডারিং,ব্লাক মানি। তাই এসবের বিরুদ্ধেও আমরা ব্যবস্থা নিব।

এছাড়া ৬টি মামলার তদন্ত করছে ডিবি এবং পুলিশ। যাদের মধ্যে ৪টি মামলারই অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে। ক্যাসিনোকান্ডে যাদের নাম এসেছিল তাদের অবৈধ সম্পদের প্রমান পেয়ে ২২টি মামলা দায়ের করেছিল দুদক, যার তদন্ত  এখনও চলমান।