কোরআন পোড়ানোর প্রতিবাদে সুইডেনে বিক্ষোভ

ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল-কোরআন পোড়ানোর ঘটনা ঘটেছে সুইডেনে। এর প্রতিবাদে সেখানে বসবাসরত মুসলিমরা বিক্ষোভ করেছেন। দেশটির পুলিশ বিক্ষোভকারীদের অন্তত ২০ জনকে আটক করেছে। যারা কোরআন পুড়িয়েছে, তারা হাস্যকর যুক্তি দিয়ে বলেছে যে, মত প্রকাশের স্বাধীনতার অংশ হিসেবে তারা এ কাজ করেছে।

জানা যায়, সুইডেনের তৃতীয় বৃহত্তম শহর মালমোতে ওই প্রতিবাদ বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। মালমোর অভিবাসী অধ্যুষিত রোজেনগার্ড শহরতলীতে সাইকেল চালানোর একটি রাস্তায় কোরআন পোড়ানো হয়েছে এবং সেই দৃশ্য ধারণ করে অনলাইনে আপলোড করা হয়। এর পরই শহরের ক্ষুব্ধ মুসলিমরা বিক্ষোভ করেন।

স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৩০০ মুসলিম ওই বিক্ষোভে অংশ নেন। যাদের অধিকাংশই তরুণ। বিক্ষোভ চলাকালে কিছু তরুণ গাড়িতে আগুন দেয় এবং পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় পুলিশ অন্তত ২০ জনকে আটক করেছে।

জানা যায়, ঐশী গ্রন্থ আল-কোরআন পোড়ানোর ওই ঘটনায় অংশ নিতে চেয়েছিলেন ডেনমার্কের কট্টর দক্ষিণপন্থী রাজনীতিক রাসমুস পালাদুন। অবশ্য সুইডেনের পুলিশ তাকে ঢুকতে দেয়নি। তবে তার সমর্থকরা ঠিকই ন্যাক্কারজনক ওই ঘটনায় অংশ নেয়।

বাংলাদেশি সাংবাদিক তাসনীম খলিল থাকেন সুইডেনের ওই মালমো শহরে। তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, রাসমুস পালাদুনের সমর্থকরাই কোরআন পুড়িয়েছে।

তিনি জানান, তারা গোপনে সাইকেল চালানোর একটি রাস্তায় কোরআন পোড়ায়। আবার তারা নিজেরাই ঘটনাটি ভিডিও করে একটি ওয়েবসাইটে আপলোড করেছে। এ ঘটনায় সুইডিশ পুলিশ তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

তাসনীম খলিল বলেন, ন্যাক্কারজনক এই ঘটনার পক্ষে তারা একটি হাস্যকর যুক্তিও উপস্থাপন করেছে। তারা বলছে, মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্যই নাকি তারা এই কাজ করেছে। এ ঘটনার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষের প্রতি ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে। যা সুইডেনের আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ।