কোম্পানীগঞ্জে ভাঙ্গন অব্যাহত

হাসান ইমাম রাসেল,  নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালী’র কোম্পানীগঞ্জ বামনী নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে অস্তিত্ব সংকটে নোয়াখালী’ উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়ন। প্রতিদিন নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে বিস্তৃর্ণ হচ্ছে এই এলাকা।

এরই মধ্যে ফসলী জমি, মাছের ঘের, বসত ভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার মানুষ। গত কয়েক বছরে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে ৯ কিলোমিটার ভূমি। মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে চরলেংটা, চরবালুয়া, গুচ্ছগ্রাম, চরফকিরাসহ প্রায় ১৫টি গ্রাম। স্থানীয়রা মনে করছে এভাবে নদীর ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলে এক-দেড় বছরে চরএলাহী ইউনিয়ন বিলীন হয়ে যাবে।

এবারের বর্ষার মৌসূমে বামনীয়া নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে শত শত পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। হাজার হাজার একর ফসলী জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। চরএলাহী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড পুরো, ১ ও ৫নং ওয়ার্ডের এক-তৃতীয়াংশ নদীর অব্যাহত ভাঙনের ফলে ক্রমেই কোম্পানীগঞ্জের মানচিত্র ছোট হয়ে আসছে। এ সকল এলাকায় উপজেলার দরিদ্র কৃষকদের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র সম্বল ফসলী জমি,

মাছের ঘের, মুরগীর ফার্ম হারিয়ে পথে বসেছে শত শত কৃষক ও খামারী। ইতিমধ্যে পূর্ব চরলেংটা মৌজার বেশ কয়েকটি মসজিদ, কিল্লা, সাইক্লোন সেন্টার, চরলেংটা সরকারি প্রাইমারী স্কুল, মাদ্রাসা, দোকান-পাট নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দরিদ্র পরিবারগুলো মাথাগুজার একমাত্র সম্বল বসত ভিটি হারিয়ে আত্মীয়-স্বজন ও বিভিন্ন সরকারি ভবনে আশ্রয় নিচ্ছে।

তাদের শিশু সন্তান ও বৃদ্ধ সহ আশ্রয়ের একমাত্র অবলম্বন হিসেবে বেড়ী বাঁধের নিচ অথবা মানুষের বাগানে ছোট ছোট কুড়ে ঘর নির্মাণ করে আশ্রয় নিচ্ছে। নদী গর্ভে বিলীন হওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় সাড়ে তিনশত শিক্ষার্থীর পড়ালেখা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে অভিভাবকরা। সরকার নদীর ভাঙ্গনের দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো চরএলাহী ইউনিয়ন মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চরএলাহী ৯নং ওয়ার্ডে একটি ক্রসড্যাম ও ভাঙ্গনকবলিত এলাকায় ব্লক ও জ্যিওব্যাগ দিয়ে এ ভাঙ্গন রোধ করা জরুরী মনে করছে এলাকার মানুষ। নদী গর্ভে বিলীন হওয়া জমির মালিক আজহার মিয়া জানান,

ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বাগদা চিংড়ি চাষের ৩টি প্রজেক্ট করেছিলাম। আমার বসত ঘর সহ ৬০ একর জমি নদী গর্ভে হারিয়ে আজ আমি নিঃস্ব। আমার মত অনেক পরিবার আছে বিভিন্ন সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে ঘর নির্মাণ করার পর নদী গর্ভে বিলীন হলে অন্যত্র ঘর নির্মাণ করে সেটিও নদী গর্ভে চলে যায়। এভাবে শত শত পরিবার এখন বাড়ি ঘর, ফসলী জমি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। ক্ষতিগ্রস্ত চরএলাহী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সেক্রেটারী মহরম আলী জানান, আমার ৭০টি মৎস্য খামার, এরশাদ কলনী’র ২৫০টি পরিবার, একটি আশ্রয় কেন্দ্র,

দুইটি মসজিদ, ৮০টি মৎস্য প্রজেক্ট, নেপচুন নির্মিত বিশ্ব বেঁড়িবাঁধ, রেড ক্রিসেন্ট আশ্রয় কেন্দ্র, চরলেংটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৫ একর ফসলী জমি সম্প্রতি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে ৮/৯হাজার পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়ে। এ ব্যাপারে ৮নং চরএলাহী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুর রেজ্জাক জানান, মহিশমারা খালে দুই ব্যান্টের একটি স্লুইচ রয়েছে। ওখানে একটি প্যাকেজ কাজ চলমান। সেখান থেকে অপর একটি প্যাকেজ ব্লক ফেলার কাজ শুরু করলে চরএলাহী ইউনিয়নকে ভাঙ্গন থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে আমি মনে করি।

এ সম্পর্কে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (ইএমও) মোঃ নাছির উদ্দিন জানান, নোয়াখালী এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসন কল্পে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিস্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্পে মুছাপুর ইউনিয়ন থেকে চরএলাহী পর্যন্ত ১০কিলোমিটার কাজ সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে ৩শ ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান আছে। আমরা এটি সংশোধন করে আরো ১৬কিলোমিটার অন্তর্ভূক্ত করার জন্য প্রকল্প প্ল্যানিং মন্ত্রণালয়ে পাশ করার চাহিদা দিয়েছি।

অপরদিকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে আরো অতিরিক্ত ৬ কিলোমিটার পরিকল্পনা উন্নিত করার লক্ষে ডিও লেটার পাঠিয়েছেন। তীব্র এ ভাঙ্গনে ব্লক ও জ্যিওব্যাগ ফেলে নদীর ভাঙ্গন রোধ করা সম্ভব নয়। চরএলাহী ইউনিয়নে ক্রসড্যাম প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ওই নদী থেকে ১০হাজার হেক্টর ভূমি জেগে উঠবে এবং নদী ভাঙ্গন থেকে ওই এলাকা রক্ষা পাবে।