কোম্পানীগঞ্জে বয়স্ক ভাতা তুলে ফেঁসে গেলেন সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক!

হাসান ইমাম রাসেল , নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েও বিশেষ বয়স্ক ভাতা উত্তোলন করে ফেঁসে গেছেন দিলিপ চন্দ্র মজুমদার।

দিলিপ চন্দ্র মজুমদার উপজেলার চর এলাহী ৯নং ওয়ার্ডের গাংচিল গ্রামের আশারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও একই এলাকার ৭নং ওয়ার্ডের দিলিপ ডাক্তার বাড়ির মৃত পুলি বিহারী মজুমদারের ছেলে।

উপজেলা সমাজসেবা অফিস সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক দিলিপ চন্দ্র মজুমদার তথ্য গোপন করে ওই ইউনিয়নের ওয়ার্ড মেম্বার মোজাম্মেল হোসেনের (হত্যা মামলায় বর্তমানে কারাগারে) যোগসাজসে দু’বছর ধরে বিশেষ বয়স্ক ভাতা উত্তোলন করে আসছেন। একই সময়ে তিনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে জনতা ব্যাংক বসুরহাট শাখা থেকে (হিসাব নং-টি-৬১) নিয়মিত বেতনও উত্তোলন করে আসছেন।

বিষয়টি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা অফিসে জানাজানি হলে রোববার (১২ জুলাই) সকালে শিক্ষক দিলিপ চন্দ্র মজুমদারকে ডাকা হয়। তিনি তার দোষ ও ভুল স্বীকার করেন। এরপর তার কাছ থেকে দলিত, হরিজন ও বেদে জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক ভাতা উত্তোলনের বই (হিসাব নং-৩৮০২৬০১০১৫০০১) জব্দ করা হয়। গত ৬ জুলাই সোনালী ব্যাংক বসুরহাট শাখা থেকে বয়স্ক ভাতার ৬ হাজার টাকা এবং একই দিন জনতা ব্যাংক বসুরহাট শাখা থেকে জুন মাসের বেতন উত্তোলন করেন দিলিপ চন্দ্র মজুমদার।

অভিযুক্ত শিক্ষক দিলিপ চন্দ্র মজুমদার বয়স্কভাতা নেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ভুল ও অন্যায় হয়েছে। ভবিষ্যতে আর কখনও এ ধরনের ভুল হবে না।

চর এলাহী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েও কীভাবে দিলিপ চন্দ্র মজুমদার বিশেষ বয়স্ক ভাতা পেয়েছেন তা আমার জানা নেই। স্থানীয় ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোজাম্মেল হোসেন এ অপকর্ম করেছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইলিয়াছের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অভিযোগ পেলে শিক্ষক দিলিপ চন্দ্র মজুমদারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রাসেল আহমেদ জানান, এখানে সমাজসেবা অফিসের কোন দায়বদ্ধতা নেই। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা ভাতার বিষয়ে কাগজপত্র প্রস্তুত করে পাঠানোর পর যাচাই-বাছাই করে ভাতার ব্যবস্থা করা হয়।