কোটালীপাড়ায় অসহায় শান্তি বিশ্বাসের শাপলাই একমাত্র ভরসা

জেমস বাড়ৈ, কোটালীপাড়া প্রতিনিধি: শাপলা বাংলাদেশের জাতীয় ফুল হলেও তরকারি হিসেবে অনেক সুপরিচিত। শুধুই গ্রাম-গঞ্জে নয় শহরের বেশ সমাদর রয়েছে। এই শাপলা বিক্রি করে গ্রামের অনেক পরিবার তাদের জীবিকা নির্বাহ করে। শুধু করোনা ভাইরাসের কারণে নয়। বর্ষাকালে তেমন কোন কাজন না থাকায় প্রতিবছরই কোটালীপাড়া উপজেলার বিভিন্ন কর্মহীন মানুষ তাদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য শাপলা বিক্রি জীবিকা নির্বাহ করতে হয়।

এখন বর্ষাকাল, পানি বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে বিলে শাপলাও বেশি করে জন্মাতে শুরু করেছে। কর্মসংস্থানের একমাত্র ভরসা হচ্ছে বিভিন্ন বিলবেষ্টিত এলাকা। এখানে সেখানে ঘুরে ঘুরে শাপলা তুলে বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করে যে অর্থ উপার্জন হয় তাই দিয়ে চলে তাদের সংসার। কোটালীপাড়া উপজেলার কলাবাড়ী ইউনিয়নের যদি একটি মাত্র অসহায় পরিবার থেকে থাকে সেই পরিবারটি হচ্ছে বুরুয় গ্রামের শান্তি বিশ্বাসের পরিবার।

তিন বছর যাবৎ শান্তি বিশ্বাস বহুমুত্র,কিডনি ও নানা জটিল রোগের সমস্যায় ভুখছেন। পাঁচ কাঠা জমি ছিল, বিক্রি করে নিজের চিকিৎসা ও বড় ছেলে শংকর বিশ্বাসের চিকিৎসার ব্যবস্থা করিয়েছেন, কিন্তু কোন লাভ হয়নি। ছেলে শংকর বিশ্বাস বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। বয়স ১৩বছর । ছোট সময় টাকার অভাবে ভাল চিকিৎসা হয়নি বলেই এখন পাগল। তিন মেয়ে, বড়কষ্ট করে দুই মেয়েকে বিয়ে দিছেন। এখন শান্তির সংসারে মোট পাঁচজন সদস্য। স্ত্রী সহ দুই ছেলে ও একটি ছোট মেয়ে রয়েছে। ছোট ছেলেটির বয়স মাত্র সাত বছর। সে কোন কাজকর্ম করতে পারেনা। ঘরে পরে থাকা স্ত্রী সেও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অসুস্থ।

সংসারে বড় অভাব। সংসারে মোট পাঁচজনের তিনজনই অসুস্থ। আয়ের কোন উৎস নেই শুধুই খরচ। শান্তির বাড়ী থেকে কিছু দূরেই বুরুয় গ্রামের বিল। বিলে ছোট ছোট শাপলা ফুল ফুটছে। শান্তির জীবনে ফুল না ফুটলেও শাপলা তুলে বাজার বিক্রি করে চলে তার পরিবারের ফুল। বহুমুত্র সহ নানা জটিল রোগ, কি কাজ করবে। জীবন তো চালাতে হবে। প্রতিদিন ভোর রাত হলেই শান্তি , তার পাগল ছেলে শংকর ও ছোট ছেলে স্বাধীন কে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে শাপলা তুলতে। বর্তমানে বাজারে শাপলার খুব চাহিদা। ২০টি শাপলা ১০ টাকা। প্রতিদিন তিনজনে মিলে যে শাপলা তুলে তা বাজারে বিক্রি করে। ৮০ থেকে ১০০ টাকা বিক্রি করে ‌। তাই দিয়ে চলে তাদের পরিবার।

এই শান্তির দারিদ্র্যতার বিষয়ে কথা বলতে গেলে, অঝোরে কেঁদে ফেলেন তিনি। শান্তি বলেন আমি তিন বছর ধরে বিছানায় পড়ে আছি। আমার সর্বস্ব বিক্রি করে আমার ছেলে শংকর এর চিকিৎসা এবং আমার চিকিৎসা করিয়ে আজ শেষ হয়ে গেছি। কোন সুফল পাইনি। বর্তমানে আমি খুবই অসুস্থ। বয়স ও বেশি নয়, মাত্র ৫৫বছর। অসুস্থতার কারণে যে কোন সময় মারা যেতে পারি। কি করব ,বড় ছেলেটার মাথায় সমস্যার কারণে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়। ছোট ছেলেটা এখনো কাজ করতে পারেনা।

তারপরও সাথে সাথে নিয়ে যাই শাপলা তুলতে। মাঝে মাঝে মনে হয় অভাবের তাড়নায় বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করি। কলাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাইকেল ওঝা বলেন , আমি নিজে উদ্যোগী হয়ে শান্তির বিশ্বাসের বড় ছেলে শংকর বিশ্বাস কে চিকিৎসা করিয়েছি। কোন লাভ হয়নি। শুধুই টাকা খরচ হয়েছে কিন্তু সুস্থ হয়নি। আমি যতটুুকু পেরেছি শান্তির পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।