কুয়াকাটায় সাবমেরিন ক্যাবল কাটা পড়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন, ইন্টারনেটে ধীরগতি

আনোয়ার হোসেন আনু, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা এলাকায় অবস্থিত দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলস (এসএমডব্লিউ-৫) ল্যান্ডিং স্টেশনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় দেশজুড়ে ইন্টারনেটে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন সড়কের কোল্ড ষ্টোরেজ এলাকায় ভেকু দিয়ে মাটি কাটতে গিয়ে ক্যাবল কাটা পড়ায় ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) কর্তৃপক্ষ লাইন মেরামতের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন।

রবিবার (৯ আগস্ট) বেলা ১১টায় প্রথমবারের মতো সাবমেরিন ক্যাবলের লাইনে এমন সমস্যা হয় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিসিএল) কোম্পানি সচিব মোঃ আব্দুস সালাম খান।

তিনি বলেন, কুয়াকাটায় অবস্থিত এসএমডব্লিউ-৫ ল্যান্ডিং স্টেশনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। চালুর পর আমরা এর আগে কখনো এ ধরনের সমস্যার মুখে পরিনি।

আব্দুস সালাম খান বলেন, আমরা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি। আজকের মধ্যেই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে কাজ চলছে। যেহেতু প্রথমবার আমরা এমন সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি, তাই কতক্ষণের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে তা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না।

২০১৪ সালে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি এসএমডব্লিউ-৫ কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে কুয়াকাটায় দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলে যোগদান ও মালিকানা নিশ্চিত করে।
২০১৭ সালের ১০ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে এর উদ্বোধন করেন। এসএমডবিøউ-৫ ক্যাবল সংযুক্ত হওয়ার মাধ্যমে বিএসসিসিএল-এ ১৫০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ যোগ হয়।
দেশে যে ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করা হয়, তার প্রায় অর্ধেক দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল থেকে সরবরাহ করা হয়। ফলে এই লাইন বন্ধ থাকায় সারাদেশে গ্রাহকরা ধীরগতির সমস্যায় পড়েছেন।

এ বিষয়ে বিএসসিসিএলের সচিব আব্দুস সালাম খান সাংবাদিকদের বলেন, কুয়াকাটায় দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল থেকে অর্ধেক ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করা হয় কি না, এটা নিশ্চিত করে বলা যাবে না। তবে ব্যান্ডউইথের বড় অংশই কুয়াকাটা দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়।

এদিকে বিএসসিসিএলের এক কর্মকর্তা সুত্রে জানা গেছে, কুয়াকাটায় ক্যাবল কাটা পড়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রকৌশলীরা পরিদর্শন করে পুনরায় সংযোগ চালু করতে কাজ চলছে। এখন শুধু সিমিউই-৪ এর মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবা সচল রাখা হয়েছে। স্যাটেলাইটের সক্ষমতা কম থাকায় পুরোপুরি ব্যাকআপ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। কুয়াকাটায় যে সমস্যা দেখা যাচ্ছে, তা আজ সমাধান নাও হতে পারে এমনটাই জানা গেছে।

কুয়াকাটা দ্বিতীয় সাবমেরিন ল্যান্ডিং ষ্টোশনের এ্যাট্রেট ম্যানেজার সুভ্রম বলেন, বর্তমানে দেশে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ ব্যবহারের পরিমাণ ১ হাজার ৭০০ জিবিপিএস। এর মধ্যে সর্বাধিক পরিমাণ ব্যান্ডউইথ (১০০০-১১০০ জিবিপিএস) সিমিউই-৫ এর মাধ্যমে আসে। গুরুত্বপূর্ণ এই সাবমেরিন ক্যাবলটি কাটা পড়ায় ৬০ শতাংশ ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে সিমিউই-৪ এর মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবা সচল রাখা হয়েছে। তিনি আরোও বলেন, দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলকে অবহিত না করে স্থানীয় হোসেন মোল্লা মাটি ভরাটের কাজ করতে গিয়ে ইন্টারনেট সংযোগ ক্যাবল কেটে ফেলেছে।