কুড়িগ্রাম বন্যার পানিতে পরে দুই শিশুর মৃত্যু

মজাহারুল ইসলাম মিলন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : কুড়িগ্রাম দুটি উপজেলায় বন্যার পানিতে দুটি শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও স্থানীয়রা। শুক্রবার দূপুরে চিলমারী উপজেলার রমনা বাঁধ এলাকায় বন্যার পানিতে গোসল করতে গিয়ে আদিলা (১১) নামে এক শিশু নিখোঁজ হয়। স্থানীরা অনেক খোঁজ করার পর না পেয়ে কুড়িগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল বিকেলে শিশুটিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। শিশুটি রমনা মুন্সিপাড়ার বাসিন্দা আমিনুরের কন্যা।

স্থানীয়রা জানান, দুপুর একটার দিকে গোসল করতে গিয়ে সে বন্যার স্রোতে নিখোঁজ হয়। পর স্বজনরা তাকে অনেক খুঁজে না পেয়ে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে খবর দেয়।

কুড়িগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের ডিএডি মনোরঞ্জন সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, চিলমারী ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় কুড়িগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল শিশুটিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে।

অপরদিকে উলিপুর উপজেলায় নিখোঁজের তিন দিন পর আকাশ (৩) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা। পৌর এলাকার ডারার পাড় গ্রামের মহসিন আলীর পুত্র।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার দুপুরে শিশু আকাশ সবার অজান্তে নিখোঁজ হয়ে যায়। পরে স্বজনরা অনেক খোঁজাখুজি করে তার কোন সন্ধান না পাওয়ায় উলিপুর ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দল বাড়ির আশপাশের কয়েকটি পুকুরসহ বিভিন্ন স্থানে কয়েক ঘন্টা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ব্যর্থ হয়ে ফিরে যায়। এ ঘটনার তিন দিন পর শুক্রবার দুপুরে বাড়ির পাশে বন্যার পানিতে তলিয়ে থাকা একটি জমিতে শিশুটির মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা। পরে তার মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে। এ ঘটনায় ওই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রুহুল আমিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তথ্যানুযায়ী জানাযায়, টানা এক মাসের বন্যা চলাকালীন সময়ে বানের পানিতে পরে জেলায় ২১ জনের প্রাণহানীর ঘটনা ঘটছে। এরমধ্যে ১৬ জনই শিশু।