কুড়িগ্রামে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ঐতিহাসিক বড়াইবাড়ী দিবস পালন

মজাহারুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: আজ ঐতিহাসিক বড়াইবাড়ি দিবস। করোনা পরিস্থিতিতে দিবসটি উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও পুষ্পমাল্য অর্পণের মধ্য দিয়ে নিহতদের স্মরণ করা হয়। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সীমিত আকারে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কুড়িগ্রামের ঐতিহাসিক রৌমারী বড়াইবাড়ী দিবস পালিত হয়েছে।

এ উপলক্ষে শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে জেলার রৌমারী উপজেলার বড়াইবাড়ি ক্যাম্প সংলগ্ন শহীদদের স্মৃতি স্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন সাবেক এমপি মো. রুহুল আমিন, বড়াইবাড়ী বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার নায়েক সুবেদার মো. আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ। পরে নিহতদের স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, ২০০১ সালের এই দিনে বিডিআর ও বিএসএফ’র মধ্যে অনাকাঙ্খিত যুদ্ধ সংঘটিত হয়। যুদ্ধে রৌমারীর বড়াইবাড়ী গ্রামের সাধারণ মানুষ অংশগ্রহন করে। এসময় ৩ জন বিডিআর ও ১৬ জন ভারতীয় বিএসএফ সদস্য নিহত হয়। শহীদদের আত্মার শান্তির জন্য প্রতিবছর এই দিনটিতে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন বড়াইবাড়ীর ইতিহাস জানতে পারে সেজন্যে একটি স্মৃতিসৌধ এখানে স্থাপন করা হয়েছে।

জানা যায়, ২০০১ সালের ১৮ এপ্রিল ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ কোনো কারণ ছাড়াই আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ১০৬৭/৩ অতিক্রম করে অতর্কিতভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। এসময় তারা কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বড়াইবাড়ীতে বাংলাদেশ ভূখন্ডে বড়াইবাড়ী তৎকালীন বিডিআর ক্যাম্পসহ আশপাশের গ্রাম দখলে নেয়ার পায়তারা করে। কিন্তু বিডিআর জওয়ান এবং গ্রামবাসীরা তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুললে পিছু হটে বিএসএফ। এসময় বিএসএফ’র এলোপাথারী গুলিতে শহীদ হন ৩৩-রাইফেল ব্যাটালিয়নের ৩ বীর সদস্য ল্যান্স নায়েক ওহিদুজ্জামান, সিপাহী মাহফুজার রহমান ও ২৬-রাইফেল ব্যাটালিয়নের সিপাহী আব্দুল কাদের। আহত হন হাবিলদার আব্দুল গনি, নায়েক নজরুল ইসলাম, ল্যান্স নায়েক আবু বকর সিদ্দিক, সিপাহী হাবিবুর রহমান ও সিপাহী জাহিদ নবী।

এছাড়াও বিএসএফ’র আক্রমনে আহত হন বড়াইবাড়ী গ্রামের ছবিরন বেওয়া (৮০), মোস্তফা মুন্সিসহ (৪৫) আরও অনেক মানুষ। পাল্টা প্রতিরোধে বিএসএফ’র অফিসারসহ নিহত হয় ১৬ জন। সেদিন বিএসএফ’র তান্ডবে সীমান্ত এলাকার হাজার হাজার মানুষ ঘর ছাড়া হয়। পুড়িয়ে দেয়া হয় তাদের বাড়িঘর। বিস্ফোরিত গ্রেনেডের স্প্রিন্টারের অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে এখনো বেঁচে আছেন অনেক মানুষ। ভয়াল সেই দিন এখনো ভুলতে পারেন না এলাকাবাসী।

১৮ বছর ধরে সেই দু:সহ স্মৃতি বহন করলেও সীমান্ত এলাকায় ফিরে আসেনি পূর্ণ শান্তি। বড়াইবাড়ি গ্রাম এখন আর ভারতের দখলে নেই। তারপরও ভয় আর আতংক নিয়ে বেঁচে আছেন এখানকার মানুষ। এখনো অনেকে বাড়িঘর হারিয়ে ছাপড়া ঘরে বসবাস করছেন। এখানকার অধিবাসীসহ রৌমারীবাসীর দাবি এদিনটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা হোক। আর আত্মমর্যাদার দাবি সেই সব লড়াইয়ে অংশগ্রহন করা পরিবারগুলোর। কথিত রয়েছে, সিলেটের পাদুয়ায় অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে জবর দখল করতে গিয়ে বিডিআর জওয়ানদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে শোচনীয় পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতেই ভারতের বিএসএফ’র সদস্যরা রৌমারীর বড়াইবাড়িতে আক্রমণ চালায় বলে একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে।