কুলিয়াচরের পেয়ারা চাষে পাল্টে যেতে পারে স্থানীয় অর্থনীতির চিত্র

জয়নাল আবেদীন রিটন, ভৈরব প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে পিয়ারা চাষ । বাণিজ্যিক ভাবে পিয়ারা চাষ করে কুলিয়ারচরের চাষীরা ব্যাপক লাভবান হচ্ছে। এখানকার মাটি ও আবহাওয়া পেয়ারা চাষের উপযোগী হওয়ায় চাষীরা উদ্বুদ্ধ হচ্ছে পেয়ারা চাষে।

মাত্র কয়েক বছর আগেও লাভজনক পেয়ারা চাষ খুব বেশি একটা হত না। বর্তমানে অধিকাংশ কৃষক পেয়ারা চাষ করে তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছে। কুলিয়াচরের পেয়ারা খেতে অত্যান্ত সুস্বাদু হওয়ায় দেশ ব্যাপী এর চাহিদা রয়েছে। এখানকার পেয়ারা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রতি মৌসুমে কুলিয়ারচর থেকে শত শত মণ পেয়ারা চলে যাচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

ফলে পেয়ারার চাষে পাল্টে যেতে পারে স্থানীয় অর্থনীতির চিত্র। কৃষি অফিস সুত্র জানায়, কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের মাটি পেয়ারা চাষের জন্য উপযোগী। বিগত ১০থেকে ১৫ বছর পূর্বে বসত ভিটা বা বাড়ির আঙ্গিনায় কিছু কিছু পেয়ারা গাছ দেখা গেলেও গত ৭/৮ বছরে পাল্টে গেছে দৃশ্যপট। এখন কুলিয়াচরে বাণিজ্যিক ভাবে শুরু হয়েছে পেয়ারা চাষ।

মানসম্মত পেয়ারার আবাদ করে লাভবান হচ্ছে ওই এলাকার কৃষকরা। এক সময় ওই অঞ্চলের জমি গুলোতে ধানসহ বিভিন্ন ধরণের শাক-সবজি চাষ করা হতো। তাতে তেমন লাভ হতো না। পেয়ারার চাষ করে লাভজনক হওয়ায় অন্যান্য ফসল উৎপাদন কমিয়ে দিয়ে এখানকার শত শত কৃষক পেয়ারা চাষ শুরু করেছে। কৃষকরা জানায়, ধান-পাট ও অন্যান্য রবি-শষ্য উৎপাদন করে বিঘাতে সর্বোচ্চ ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা লাভ করা অনেকটাই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।

কিন্তু বিভিন্ন জাতের পেয়ারা চাষে বিঘা প্রতি ১ লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব হচ্ছে। পেয়ারা চাষে বিঘা প্রতি খরচ হয় ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা। কম খরচে অধিক লাভ হওয়ায় চাষীদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে পেয়ারা চাষ। জমিতে একবার পেয়ারার চারা রোপন করলে ২ থেকে ৩ বার ফলন পাওয়া যায়। এতে করে কৃষকরা লাভের মুখ দেখতে শুরু করে। পেয়ারার বাম্পার ফলন পাওয়ায় কৃষকদের মুখেও হাসি ফুটেছে।

তাদের উৎপাদিত পেয়ারা বিক্রি করে অনেকের সংসারে স্বাচ্ছন্দ্য ফিরে এসেছে। তাই এ অঞ্চলের কৃষকদের মাঝে দিন দিন পেয়ারার আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে অনেক চাষীদের আয়ের প্রধান উৎস এখন পেয়ারা চাষ। শুধু মাত্র পেয়ারা বিক্রি করেই চাষীরা তাদের সংসারের স্বচ্ছলতা আনতে সক্ষম হয়েছে। দিন দিন সম্ভাবনমাময় এই সুস্বাদু পেয়ারার চাহিদা বাড়ার কারণে আরও অনেকেই নতুন করে বাগান করতে শুরু করেছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে এখানকার উৎপাদিত পেয়ারা।

পেয়ারা চাষীরা জানায়, এক সময় এ অঞ্চলের জমি গুলোতে আমরা ধানসহ বিভিন্ন ধরণের শাক-সবজি চাষ করতাম। তাতে লাভের পরিবর্তে লোকশানই হতো বেশি। কৃষি অফিসের পরামর্শে পেয়ারার চাষ করে এখন আমরা অনেক লাভবান। তাই অন্যান্য ফসল উৎপাদন কমিয়ে দিয়ে এখানকার শত শত কৃষক পেয়ারা চাষ শুরু করেছে। ব্যাপারীরা বলেন, এই অঞ।

চলের পেয়ারা খেতে অনেক সুসাধু ও স্বাস্থ্য সম্মত। আমরা এখান থেকে পেয়ারা কিনে নিয়ে বিভিন্ন স্থানের হাট বাজারে বিক্রি করে এখন অনেকটাই লাভবান হয়েছি। কুলিয়ারচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল্লাহ-আল মামুন জানান, পেয়ারা পুষ্টিকর ও ভিটামিন সি যুক্ত ফল । এখানকার কৃষকগণ কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় পেয়ারার আবাদ করে আসছে।

এ চাষ বেশ লাভজনক হওয়ায় দিন দিন কৃষক আগ্রহী হয়ে উঠছে। এখনকার পেয়ারা খেতে খুব সুস্বাদু বিধায় এর চাহিদা রয়েছে প্রচুর। ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে এখানকার পেয়ারা বিক্রি হচ্ছে দেদারছে । চাষীদৈর বিশ।বাস বাজারজাত করনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা গড়ে তোলা হলে পাল্টে যেতে পারে স্থানীয় অর্থনীতির চিত্র।