কুমিল্লা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ করোনা পরীক্ষায় হিমশিম, পিসিআর ল্যাবে হাজারের অধিক সেম্পল জমা

বশিরুল ইসলাম, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি: কুমিল্লা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জেলার ১৭টি উপজেলাসহ কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের করোনা আক্রান্ত বা করোনা উপসর্গের রোগীদের পরীক্ষা করতে হিমশিম খাচ্ছে। লোকবল সংকট আর সেম্পল কালেকশানের সমস্যার কারণে সঠিক সময়ে রোগীদের পরীক্ষা করতে পারছেনা।
এ দিকে কুমিল্লা জেলার ৬০লাখ মানুষের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। কি হবে এখন? কোথায় যাবে তারা? জেলা জুড়ে গুঞ্জন উঠেছে করোনা পরীক্ষার মেশিনটি নষ্ট। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকম ফলস রিপোর্ট আসছে। যার কারণে জেলার একমাত্র মেশিনটির উপরও ভরসা রাখতে পারছেনা কুমিল্লার মানুষ । কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো: মোস্তফা কামাল আজাদের নিকট এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, পিসিআর মেশিন নষ্ট এরকম কিছু আমার জানা নেই। ফলস রিপোর্ট বলতে মানুষ কি বলছে তা বুঝতে পারছিনা। এখানে সেম্পল কালেকশানের কারণে ফলস নেগেটিভ অথবা ফলস পজেটিভ আসতে পারে। সাধারণত সেম্পল দুই স্থান থেকে কালেকশান করতে হয়। এক স্থান থেকে কালেকশান করলে সঠিক রিপোর্ট পাওয়া যায়না। ঢাকা থেকে আসা বিশেষজ্ঞরা তখনো বলেছে যে সেম্পল কালেকশান সঠিকভাবে হচ্ছেনা।
বিষয়টি সিভিলসার্জনকে জানানো হয়েছে। তিনি লোকবল সংকটের কথা বলেছেন। লোকবল সংকটের কারণে দুই জায়গা থেকে সেম্পল নেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা। সেম্পল কালেকশান করতে হয় একটি গলার ভেতর থেকে অন্যটি নাকের ভেতর থেকে। শুধু গলা অথবা শুধু নাকের সেম্পল কালেকশান করলে এরকম ফলস রিপোর্ট আসতে পারে। প্রথমে সেম্পল কালেকশানের জন্য যে টিউব এসেছিল সেগুলো ছিল কাঠের । কাঠের হওয়ার কারণে সেগুলো শুষে নিতো। যার কারণে ফলস নেগেটিভ অথবা ফলস পজেটিভ আসতো। বর্তমানে ৫হাজার প্লাস্টিকের টিউব এসেছে। সেগুলো আমি সিভিল সার্জন অফিসে পাঠিয়েছি। প্লাস্টিকের টিউবে সেম্পল নিলে সেগুলো নস্ট হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। জীবানুটা জীবিত থাকার জন্য সেম্পলে মিডিয়া থাকা লাগে সেটা আগে ছিলনা ।
এখন মিডিয়া এসেছে সেটিও আমি পাঠিয়েছি। সমস্যা গুলো আস্তে আস্তে ইমপ্রোভ হচ্ছে। তাছাড়াও আন্তজার্তিক স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী ৩০% ফলস নেগেটিভ অথবা ফলস পজেটিভ হতে পারে। আসলে মেশিন বন্ধ নাই। মেশিন রেস্টে দিতে হবে। ল্যাবটাকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করতে হবে। এজন্য আগামী দুই দিন বন্ধ থাকবে। আমরা সিভিল সার্জনের সাথে আলোচনা করেছি। ঢাকাতে কিছু সেম্পল পাঠিয়ে পরীক্ষা করার জন্য। আমাদের ল্যাবে দুই শিফটে ১৮০টি সেম্পল পরীক্ষা করা যায় । প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪শ থেকে সাড়ে ৪শ সেম্পল আসে। যার কারণে সেম্পল জমে যাচ্ছে। তাছাড়া সেম্পল ৩ থেকে ৫দিন পর্যন্ত রাখা যায়।
আমাদের কুমিল্লায় প্রায় ৬৫লাখ মানুষের জন্য একটি পিসিআর মেশিন। অধিকাংশ মানুষ সচেতন না। মাস্ক ব্যবহার করছেনা। যাতায়াতের সময় স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। এতো সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হলে পরীক্ষা করা যেমন কঠিন তেমন হাসপাতালে স্থান দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। তাছাড়া ঢাকাতেও অনেক সেম্পল জমে আছে। তবে সিভিল সার্জন জানিয়েছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, আমাদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। জেলায় ৫হাজার রোগীর চাহিদা থাকলে আমিতো একই সময়ে ৫হাজার রোগীকে পরীক্ষা করা সম্ভব না। প্রতিদিন আমাদের ১৮০টি সেম্পল পরীক্ষার সক্ষমতা আছে। তাই সকলকে আমরা সিরিয়াল অনুযায়ী ধীরে ধীরে করছি। একসাথে সকলকে পরীক্ষা করা সম্ভব নয়।