কুমিল্লার হোমনায় দিন-দুপুরে ডাকাতি; ৬ জন গ্রেফতার

এম এ বাশার, কুমিল্লা (উত্তর)জেলা প্রতিনিধি: করোনার ভয়ে যখন সবাই ঘরবন্দি। এ সুযোগে কুমিল্লার হোমনায় একদল অস্ত্রধারী প্রাণ, গোল্ডেন এবং শামা রেজার কোম্পানীর হোমনা, তিতাস ও বাঞ্ছারামপুর এলাকার এক ডিষ্ট্রিবিউটরের কাছ থেকে টাকাসহ টাকার ব্যাগ লুণ্ঠন করে নিয়ে যায়।

হোমনা-গৌরিপুর রোডে উপজেলার ওপারচর গ্রাম এবং বশিরুল্লাহ মাজার রোডের সংযোগ রাস্তার এ ঘটনা ঘটে। মো. মহিউদ্দিন ওই দিনগত রাতে হোমনায় থানায় একটি ডাকাতি মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় শুক্রবার ৬ জনকে জেলা-হাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। গ্রেফতাররা হলো- একই উপজেলার মো. বশির সরকার (২৪), নসিমন চালক সৌরভ কুমার দাস (২০), মো. আলী আকবর প্রঃ আকবর (২০), মো নয়ন (১৯), মো জীবন (৩০), মো. মুক্তার হোসেন (৩০)। থানা এবং অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মো. মহিউদ্দিন তার হোমনা উপজেলার কৃষি ব্যাংকের কাছের গোডাউন থেকে কোম্পানীর বিভিন্ন ফুড প্রোডাক্টস- চিপস, চানাচুর, জুস ইত্যাদি মালামাল একটি নসিমন গাড়িতে ভরে নিয়া প্রতিদিনের মতো তিতাস থানাধীন বাতাকান্দি ও মাছিমপুর বাজারে নিয়ে যায়।

বাতাকান্দি ও মাছিমপুর এলাকায় মালামাল বিক্রি করে নগদ এক লাখ সাত হাজার টাকা নিয়ে মো. আকাশ ও অনিক সাহা নছিমনযোগে হোমনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। বেলা অনুমান বারোটার সময় হোমনা-গৌরিপুর রোডের হোমনা উপজেলার ওপারচর এবং বশিরুল্লাহ মাজার সংযোগ সড়কে পৌঁছামাত্র নছিমনের চালক গাড়ীর গতি কমিয়ে দেয়। তখন তিন জন অজ্ঞাতনামা ডাকাত ছোট লাঠি হাতে সিগনন্যাল দিয়ে উক্ত নছিমন গাড়ি থামায় এবং চালক সৌরভ ও আকাশকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে জোরপূর্বক বশিরুল্লাহ মাজার রোডের আনুমানিক এক শ’ গজ দুরতের¡ ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে এক জন মুখোশধারী ও তিনজন মুখোশবিহীন অজ্ঞাতনামা দাঁড়িয়ে ছিল। সেখানে আকাশের মাথায় লাঠি দিয়া আঘাত করে তার কাছে থাকা এক লাখ সাত হাজার টাকাভর্তি সাইড ব্যাগ ও আট হাজার মূল্যের একটি স্মার্ট ফোন জোরপূর্বক লুন্ঠন করে নিয়ে যায়। পরে ওই দিনগত রাতে ডিস্ট্রিবিউটর মো. মহিউদ্দিন বাদি হয়ে ৬/৭ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে হোমন থানায় একটি ডাকাতি মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনা জানতে পেরে হোমনা-মেঘনা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. ফজলুল করিম মালামাল উদ্ধারে এবং জড়িতদের গ্রেফতার অভিযানে বের হন। তিনিই প্রথমে এ ঘটনার ক্লু বের করে একজনকে গ্রেফতার করেন এবং তার দেওয়া স্বীকারোক্তিতে জড়িতদের পরিচয় উদ্ধার করেন। তারই চৌকস দিক নির্দেশনায় পুলিশের এস আই সুনিল পুলিশের ফোর্সসহ বাকীদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হন।

এ ব্যাপারে হোমনা-মেঘনা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. ফজলুল করিম বলেন, প্রথমে স্থানীয় একজনের মাধ্যমে মোবাইলে ডাকাতির খবর পাই। সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলেও যাই। সেখানে আশ-পাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে প্রথমেই নসিমনের চালককে গ্রেফতার করি। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডাকাতিতে জড়িত মোট ছয়জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই। এ ব্যাপারে দুইটি মোবাইল সেট ও এগারো হাজার পাঁচ শ’ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এব্যাপারে হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কায়েস আকন্দ বলেন, বুধবর প্রাণ কোম্পানির ডিস্ট্রিবিউটরের দুই জন কর্মচারী তিতাস থানা থেকে মালামাল বিক্রি করে হোমনায় ফিরে আসছিল। দুপুরে হোমনা-গৌরীপুর রোডে উপজেলার ওপারচর এলাকায় আসামাত্র ডিস্ট্রিবিউটরের দুই কর্মচারীকে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে মারধর করে বিক্রিত মালামালের এক লাখ সাত হাজার টাকা লুণ্ঠন করে নিয়ে যায়। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দুইটি মোবাইল সেট ও এগারো হাজার পাঁচ শ’ টাকা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। আসামীরাও টাকাসহ মালামাল লুণ্ঠনের কথা স্বীকার কারেছে। শুক্রবার আসামীদের কোর্টে চালান দেওয়া হয়েছে।