কুকুর অপসারণ নয়, বন্ধ্যাত্বকরণ করবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন

কুকুর নিধন, অপসারণ বা স্থানান্তর করে সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং জলাতঙ্কমুক্ত করা সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে বন্ধ্যাত্বকরণ এবং জলাতঙ্কের টীকা দিয়েই এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব ।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কুকুর অপসারণ শুরু করলেও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন সে পথে হাঁটছে না । কোন কুকুর অপসারণ বা স্থানান্তর করতে চান না ডিএনসিসি মেয়র।  বন্ধ্যাত্বকরণের মাধ্যমেই কুকুর নিয়ন্ত্রণ করতে চান তিনি।

রাজধানীতে কুকুর বেড়েছে অনেক; মানুষ কুকুরের জ্বালায় অতিষ্ঠ। এমন যুক্তি দেখিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকা থেকে কুকুর অপসারণ শুরু করেছে।  অচেতন করে কুকুরগুলোকে ফেলা হচ্ছে মাতুয়াইলের ময়লার ভাগাড়ে।

কিন্তু একটি এলাকা থেকে  কুকুর অপসারণ করলেই কি  সে এলাকার কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব? পিপল ফর এনিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান স্থপতি রাকিবুল হক এমিল জানান,’অপসারণ করে হয়তোবা সাময়িকভাবে অভিযোগকারী যারা আছেন তাদেরকে সন্তুষ্ট করা যায়। কিন্তু সুদুর প্রসারীভাবে আমি দেখি যদি, তাহলে সেখানে আবার কুকুরগুলো ফেরত চলে আসতে পারে। অথবা অন্য এলাকা থেকে আবার কুকুর চলে আসবে। সেখানে বন্ধ্যান্তকরণ হচ্ছে একটি কার্যকর পদ্ধতি। ঢাকায় যদি এই কুকুরগুলোকে ধারণ করতে না পারে। তবে মাতুয়াইলের মাত্র ৬০ একর জমিতে এই হাজার হাজার কুকুরগুলোকে কিভাবে ধারণ করবে?’

এক শ্রেণির মানুষের দাবি কুকুর বিনা প্ররোচনাতেই কামড় দেয়।  কিন্তু যারা দীর্ঘদিন ধরে কুকুর নিয়ে কাজ করছেন তারা কি বলছেন? ঢাকা উত্তর সিটি অভয়ারণ্য বোর্ড সদস্য নায়রা খান জানান,’অকারণে কুকুরেরে গায়ে পাথর ছোঁড়া, নির্যাতন করা, তখন কি কুকুর সেল্ফডিফেন্সে সে এ্যাটাক করবে না? ভুল মেথড যে কুকুরকে অপসারণ করতে হবে। আমাদেরকে মানুষকে এডুকেটেড করতে হবে যে, we have to live in harmony with nature.’

করপোরেশনের প্রাণি চিকিৎসা কেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন এমন একজন বললেন তার অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন,’কুকুরকে চাপাটি দিয়ে কুপিয়েছে। মাথায় গরম পানি ঢেলে দেয়। আসলে এগুলো আমরা যতদিন বন্ধ না করবো, কুকুর দিনে দিনে তত হিংস্র হয়ে যাবে।’

কুকুর নিয়ে নিজের  ইচ্ছের কথা জানালেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন,’কুকুরগুলোকে বন্ধ্যাত্ব করবো এরপর এগুলোকে জ্বলাতঙ্কের ভ্যাকসিন দিব। এবং তারপর এগুলোকে ছেড়ে দিবো। একটি কুকুরকে কোন এলাকার থেকে সরানো যাবে না।’

সব কিছু নিয়েই গড়ে উঠে বৈচিত্র্যময় পরিবেশ। মানুষের সঙ্গে গাছ, পশু, পাখিরা মিলেমিশে একাকার হয়ে রক্ষা করে পরিবেশের ভারসাম্য। ব্যতিক্রম হলেই নেমে আসে বিপর্যয়।

সূ্এ ;-ডিবিসি নিউজ