কিশোরী মারুফা ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল পুরো জেলা

জাহাঙ্গীর আলম, নেত্রকোণা প্রতিনিধিঃ কিশোরী মারুফা ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল পুরো জেলা। ক্রমশ এ অন্দোলন বেগবান হয়ে শহর থেকে গ্রামে-গঞ্জে ছড়িয়ে পড়ছে। নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মধ্য দিয়ে সঠিক বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা এ আন্দোলন অব্যাহত রাখবে বলে ঘোষণা দেয় বিক্ষোব্ধ জনতা। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (২৩মে) বিকেলে বারহাট্টার কয়েকটি এলাকার জনগণ মারুফা হত্যার বিচারের দাবিতে মল্লিকপুর ব্রিজের সামনে থেকে ব্যানার পেষ্টুন নিয়ে অতিথপুর বাজার পর্যন্ত পদযাত্রা করে করে।

উপজেলার মল্লিকপুর গ্রামের সাগর, ইমন, চন্দ্রপুর গ্রামের এনামুল, অতীতপুর গ্রামের রমেন, বাপ্পি, সুজাত, ইসলামপুর গ্রামের হান্নান ও বারেকের নেতৃত্বে ওইসব গ্রামের শতাধিক মানুষ অংশ নিয়ে কিশোরী মারুফা ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদ জানায়। আন্দোলনকারীরা বলেন, মারুফার শরীরে আঘাতের চিহ্নই বলে দেয় তাকে হত্যা করা হয়েছে। শুরুতে এটিকে আত্মহত্যা বলে চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হলেও সেটিকে প্রতিহত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত এই ঘটনাকে অন্যের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা চলছে।

সেইসাথে অভিযুক্ত কাঞ্চন চেয়ারম্যানকে বাঁচানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত আছে তার সহকর্মীরা। তাদেরকে হুঁশিয়ার করে আন্দেলনকারীরা বলেন, এসব কোনো চেষ্টাই কাজে আসবে না, কোন ধামাপাচাই কাজে আসবে না। তরুণরা জেগেছে, সাধারণ জনতা জেগেছে আসল অপরাধীকে জেলে না ঢুকানো পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরবো না। উল্লেখ্য, গত ৯মে (শনিবার) বিকালে বারহাট্টা সিংধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ মাহবুব মোর্শেদ কাঞ্চনের মোহনগঞ্জের হাসপাতাল রোডের বাসায় কিশোরী মারুফা আক্তারের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। কিশোরী মারুফা আক্তার আত্মহত্যা করেছে বলে লাশ নিয়ে চেয়ারম্যান কাঞ্চন নিজেই হাসপাতালে যান। পরে শিশুটির গায়ে শরীরের স্পর্শকাতর বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন দেখে হাসপাতালের এবং স্থানীয় মানুষদের মাঝে সন্দেহ হলে থানায় খবর দেয়। পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। ময়নাতদন্তের পর লাশ মারুফার বাবার বাড়ি সিংধা এলাকায় চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশে হওয়ায় ভয়ে কলমাকান্দা নানার বাড়িতে নিয়ে দাফন কার্য্য সম্পন্ন করে।

চেয়ারম্যান বিভিন্ন ভাবে মারুফার মা আকলিমা আক্তারকে ভয় ভীতি দেখিয়ে আত্মহত্যা মামলা লিপিবদ্ধ করানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করে। পরে বিভিন্ন প্রতিকূলতা পেরিয়ে ঘটনাস্থল মোহনগঞ্জ থানা ১১ মে (সোমবার) অভিযোগ দাখিল করেন। পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে চেয়ারম্যানকে ওইদিন সন্ধ্যায় আটক করে ১২মে (মঙ্গলবার) আদালতে প্রেরণ করে। পরে অভিযুক্ত চেয়ারম্যানকে প্রথমে নিম্ন আদালতে হাজির করা হলে জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান আদালত । ১৪মে (বৃহস্পতিবার) জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আপিল করলে চার্জশিট আদালতে প্রেরণের আগেই জামিনে বেরিয়ে যান কাঞ্চন চেয়ারম্যান। মারুফা ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে জেলার বিভিন্ন সংগঠন ও সাধারণ জনগণ তাদের কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে।