কিশোরগঞ্জে আক্রান্ত ১৪১, চিকিৎসক-নার্সই ৮৮ জন

কিশোরগঞ্জ জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে এখন ১৪১ জনে দাঁড়িয়েছে। তাদের মধ্যে ৪১ জন চিকিৎসক ও ৪৭ জন নার্স। অর্থাৎ ৮৮ জনই স্বাস্থ্য বিভাগের। এর বাইরে পাঁচজন পুলিশ সদস্য ও একজন সহকারী কমিশনার রয়েছেন।

জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ‘ব্যাপকহারে চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হওয়াতে জেলার বিভিন্ন উপজেলার সরকারি হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। গত ১৪ এপ্রিল করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। আরো দু-একটি হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রম অচল হওয়ার উপক্রম হয়েছে।’

জেলা বিএমএর সাধারণ সম্পাদক ডা. এম এ ওয়াহাব বাদল বলেন, ‘কিশোরগঞ্জ জেলায় এর মধ্যেই অনেক চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ ছাড়া আরো অনেকেই হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন। প্রধানত যথাযথ মানসম্পন্ন পর্যাপ্ত চিকিৎসা সামগ্রীর অভাব, চিকিৎসকের কাছে রোগীর তথ্য গোপন করা ও অনেক রোগীর প্রকাশ্য উপসর্গ না থাকার কারণেই তাঁরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন।’

জেলা সিভিল সার্জন অফিসের দেওয়া তথ্যমতে, তাড়াইল উপজেলায় সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের সাতজন চিকিৎসক, একজন নার্স ও নয়জন স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ ছাড়া হাসপাতালের বাকি পাঁচজন চিকিৎসককেও হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। কটিয়াদী উপজেলায় সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আটজন চিকিৎসক, দুজন নার্সসহ মোট ১০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ছয়জন চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী নয়জনসহ মোট ১৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তিনজন চিকিৎসক, একজন ব্রাদার ও আটজন স্বাস্থ্যকর্মীসহ মোট ১২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

এ ছাড়া হাসপাতালের বাকি ১১ জন চিকিৎসককেও হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আটজন চিকিৎসক, ১০ জন নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী মিলিয়ে মোট ১৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন। কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চারজন চিকিৎসক ও একজন সিনিয়র স্টাফ নার্সসহ মোট পাঁচজন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। ইটনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চারজন চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী মিলিয়ে মোট আটজন আক্রান্ত হয়েছেন।

এ ছাড়া সবার শুরুতে কিশোরগঞ্জ শহরের আলোর মেলা এলাকার বাসিন্দা একজন বেসরকারি চিকিৎসক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন। বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক ইন্টার্ন চিকিৎসক ও কিশোরগঞ্জ শহরে একজন বেসরকারি নার্স করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।