কালিয়ায় প্রশাসনের হেয়ালিপনায় ক্ষতি হতে পারে শত কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত চাপাইল সেতুর

মো: হাচিবুর রহমান, কালিয়া প্রতিনিধি: কালিয়ায় প্রশাসনের হেয়ালিপনায় ক্ষতি হতে পারে শত কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত চাপাইল সেতুর “নিয়মের তোয়াক্কা না করে রাতের আধারে উত্তোলন করা হচ্ছে বালু”  নড়াইলের কালিয়া উপজেলার চাপাইল গ্রামে অবস্থিত সরকারের প্রায় শত কোটি টাকা ব্যায়ে মধুমুতি নদীর উপর নির্মীত চাপাইল সেতুটি প্রশাসনের নজরদরির অভাবে চরম ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে বালু উত্তোলনের জন্য প্রশাসনের হেয়ালিপনাকে দায়ী করছে স্থানীয় সচেতন মহল। বার বার প্রশাসনকে অবগত করা হলেও কোন ভাবে ই থামছে না অবৈধ ভাবে রাতের আধারে বালু উত্তোলন। নড়াইল এবং গোপালগঞ্জের সংযোগ সেতুটি রক্ষা করতে প্রশাসনের নজরদারির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্স এর মাধ্যমে ২০১৬ সালের ৩০ এপ্রিল উদ্ভোদন করেন চাপাইল ব্রিজ নামে প্রায় শত কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত এ সেতুটি। স্থানিয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ এলজিইডি এর তত্বাবধানে ৫৮৮ দশমিক ৬৫ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৯ দশমিক ৬ মিটার প্রস্থ এ সেতুটির আবস্থান কালিয়া উপজেলার চাপাইল এবং গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মানিকদাহ গ্রামে।

বালুমহাল ও মাটি ব্যাবস্থা আইন ২০১০ আনুযায়ী সেতু, কলভার্ট, সড়ক মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ন স্থাপনার পাশে ড্রেজার মেশিন বা আন্য কোন যন্ত্র দিয়ে বালু উত্তলন করা জাবে না। অথচ কিছু আসাধু বালু ব্যাবসায়ী নিয়মের তোয়াক্কা না করে সেতুর মাত্র কয়েকশত গজ দুর থেকে ৩ থেকে ৫ টি ড্রেজার দিয়ে অবাধে উত্তোলন করছে বালূ। এছাড়া বৃহৎ আকৃতির বলগেটগুলি প্রতিদিনই ব্রিজের নিচের পিলারের সাথে পার্কিং করছে

এর ফলে বলগেটের ধাক্কায় ক্ষতি হচ্ছে সেতুটির। স্থানিয়ররা জানান, এভাবে প্রতিদিন সেতুর কাছ থেকে বালূ উত্তোলন করা হলে এবং সেতুর পিলারের সাথে বলগেট ও কাটিং ড্রেজার রাখলে শিগ্রই বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে সেতুটি। অতিদ্রত এর প্রতিকারের দাবি জানিয়েছেন তারা।এব্যাপরে গোপালগঞ্জ এলজিইডি এর নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল হক এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,

“সেতুর কাছে খেকে বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমরা আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। আমরা অফিসিয়াল ভাবে জেলা প্রশসনকে অবগত করব।” কালিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নাজমুল হুদা বলেন, পূর্বে চাপাইল বালুমহালেন ইজারা থাকলেও সেতুর কারনে ঐ বালুমহালের সরকারি ইজারা বন্ধরয়েছে। তবে চরসিংগাতি বালুমহালের ইজারা দেওয়া হয়েছে।

চরসিংগাতি বালুমহালেন ইজারাদার তার সীমানা অতিক্রম করে চাপাইল বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলন করলে তার বিরুদ্ধে তিনি আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করবেন বলে জানান। নড়াইল জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা বলেন, “ সেতুর কাছ থেকে বালু উত্তলন করা হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।