কানাডায় ‘ঘাতক দল’ পাঠানোর কথা অস্বীকার যুবরাজ সালমানের

সৌদি আরবের সাবেক এক গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে হত্যার জন্য কানাডায় ঘাতক দল পাঠানোর অভিযোগ পুরোপুরি নাকচ করেছেন প্রভাবশালী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।

গেল সোমবার (৭ ডিসেম্বর) সৌদি যুবরাজের আইনজীবী তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা খারিজের আবদন করে জানান, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে, সাবেক ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে হত্যার জন্য কানাডায় বিশেষ ঘাতক দল পাঠিয়েছিলেন সালমান।

কানাডায় অবস্থান করা সৌদির নির্বাসিত সাবেক ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তার নাম সাদ আল-জাবরি। গত আগস্টে সৌদির নির্বাসিত এই সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ১০৬ পৃষ্ঠার একটি মামলা দায়ের করেন। তিন বছর আগে তিনি সৌদি আরব থেকে পালিয়ে কানাডা যান। হত্যাচেষ্টার অভিযোগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে যুবরাজ সালমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় জাবরি অভিযোগ করেন, তিনি প্রায় তিন বছর আগে সৌদি থেকে পালিয়ে কানাডায় আশ্রয় নেন। এমনকি সেখানেও তাকে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়।

কানাডায় নির্বাসিত জাবরির ভাষ্য, তিনি যুবরাজ এবং সৌদির অনেক ভয়ংকর গোপনীয় তথ্য জানেন। এতেই তাকে হত্যা করতে চান সৌদির যুবরাজ সালমান।

মোহাম্মদ বিন সালমান সৌদির কার্যত শাসক হিসেবে গণ্য। তিনি বলেছেন, জাবরি নিজের অপরাধ গোপন করার চেষ্টা করছেন। এদিকে জাবরির দাবি, তাকে সৌদি আরবে ফিরিয়ে আনার জন্য বারবার চেষ্টা চালিয়েছেন যুবরাজ।

জাবরি বলেন, ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর তুরস্কে সৌদির সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যার দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের ব্যবধানে তাকে হত্যার জন্য ঘাতক দল কানাডায় গিয়েছিল। ওই দলের নাম দেয়া হয় ‘টাইগার স্কোয়াড’।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের অক্টোবরে ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ওই হত্যাকাণ্ড ঘটানোর জন্য ১৫ সদস্যের একটি বিশেষ বাহিনী সৌদি আরব থেকে তুরস্কে যায়। বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হলে খাশোগিকে হত্যার কথা স্বীকার করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় কর্মকর্তাদের হাতে ভুলে নিহত হন ওই সাংবাদিক। তবে তার মৃতদেহের কোনও সন্ধান দেয়নি তারা। তবে জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে সাজা দিয়েছেন সৌদির আদালত। এখনো চলছে বিচারকাজ। যদিও তাদের পরিচয় প্রকাশ হয়নি। পরিচয় না প্রকাশ করায় সাজার বিষয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

বিন সালমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তিনি লেবানন, লিবিয়া, ইয়ামেন, ফিলিস্তিনসহ বিভিন্ন দেশে গৃহযুদ্ধের মদদ দিচ্ছেন। ইয়েমেনে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষ হত্যা করছেন। ক্রমেই বিধ্বংসী হয়ে উঠছেন এই সৌদি যুবরাজ।