কাউন্সিলর পদ থেকে বিএনপির ৩০ বিদ্রোহী প্রার্থীকে সরে দাঁড়ানোর চিঠি

ঢাকার দুই সিটির কাউন্সিলর পদে দলের ৩০ বিদ্রোহী প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে চিঠি দিয়েছে বিএনপি। নির্বাচনের আগে তারা নিজেদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে দল সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করলে বহিষ্কার করার কথাও বলা হয়েছে চিঠিতে। তবে মাঠে থাকা এসব প্রার্থী নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে বলেছেন বহিষ্কার কিংবা পুরস্কার কোনো কিছুতেই তারা পিছু হটবেন না।

উত্তর-দক্ষিণে কাউন্সিলর পদে বিএনপির সামনে বড় প্রশ্নবোধক এঁকে দিয়েছে বিদ্রোহীরা। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী বুলবুল আহমেদ মল্লিক জানান, ‘চিঠি যদি আসে; যেহেতু আসেনি তাই কোন মন্তব্য করতে চাই না। তারপরও বলে রাখি যদি আসে আমি নির্বাচন থেকে ফিরে যাবার কোন কারণ দেখি না। জনগণও আমাকে মাঠ থেকে যেতে দিবে না।’

দফায় দফায় আলোচনার পরও দুই সিটির ১২৯ ওয়ার্ডে ৫৪ বিদ্রোহী এখনো রয়েছে নির্বাচনের মাঠে। চূড়ান্ত নির্দেশ হিসেবে  ২১ শে জানুয়ারি উত্তর-দক্ষিণে ৩০ বিদ্রোহীকে নির্বাচন থেকে সরে যেতে চিঠি দিয়েছে বিএনপি। তবে, বিদ্রোহীদের দাবি এধরনের কোন চিঠি তারা পাননি।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী রাহাদুল ইসলাম রিপন বলেন, ‘বহিস্কার বা আবিস্কারের কোন বিষয় নয়। আমরা সামাজিক বলয়ে শক্তিমান। দলের পদ নিয়ে শক্তিমান না।’

ঢাকা দক্ষিন সিটি করপোরেশনের ১৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী নাদিম চৌধুরী জানান, ‘দলের স্বার্থে, এলাকবাসীর স্বার্থে সর্বোপরি নেত্রীর মুক্তির স্বার্থে আমাকে সমর্থন দিয়ে ওদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করবেন বলে আমি আশাবাদী।’

বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরাও জানালেন, বিদ্রোহীদের না থামালে দলের পরাজয়ের কারন হবেন তারাই। ঢাকা দক্ষিন সিটি করপোরেশনের ১৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি বিএনপি’র একমাত্র সমর্থিত প্রার্থী। বাকী দুজন বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেকে উল্লেখ আছে।’

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আনোয়ার হোসেন এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘সরকার দলীয় যে প্রার্থী আছে তার সাথে যোগাযোগ করছেন, তার সাথে মিটিং করছেন। এভাবে তারা আমাদের হারানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছেন।’

অন্যদিকে, দলের নির্দেশ অমান্য করলে পরিণাম ভাল হবে না বলে জানিয়েছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আত্মপক্ষ সমর্থন তো গণতান্ত্রিকা প্রক্রিয়া, সে জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে। তারপরও যারা দলের স্বার্থের বাইরে কাজ করবে, কি সিদ্ধান্ত হবে গঠনতন্ত্রে তো তা বলাই আছে।’ পয়লা ফেব্রুয়ারি ঢাকার দুই সিটিতে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।