কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা এখনো মাঠে

কেন্দ্র থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি আর সতর্কবার্তার দেয়ার পরও কাজ হয়নি।

 

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা এখনো মাঠে। তাদের থামাতে কঠোর হুঁশিয়ারি আর সতর্কবার্তা সত্ত্বেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। অনেকের দাবি দলীয় সমর্থন না পেলেও কেন্দ্রীয় নেতাদের সিগন্যাল পেয়ে মাঠে রয়েছেন তারা। তবে দলের সাধারণ সম্পাদক বলছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীর বিষয়টি গুরুত্ব দেয়ার কিছু নেই।

দক্ষিণ সিটির ৫৬ নম্বর ওয়ার্ড। দল সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীর বিরুদ্ধে একাট্টা অন্য  চার প্রার্থী। যারা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বলে পরিচিত। গেলো কয়েকঘন্টায়  আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর সঙ্গে তাদের হয় দফায় দফায় মারামারি।

দলের কঠোর হুশিয়ারির পরেও মাঠ না ছাড়ার কারণ কি-

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৬৯ নম্বর ওয়ার্ডের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাজী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, এখনও কি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নমিনেশন বিক্রির মাধ্যমে মনোনয়ন দিচ্ছে আমার প্রশ্ন রয়ে গেছে।

ঢাকা উত্তর সিটি ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের স্বতন্ত্র প্রার্থী সলিমুল্লাহ সলু বলেন, আমার ওয়ার্ডে বেশিরভাগই বিতর্কিত। যারা সত্যিকারের আওয়ামী লীগ, দলের পরীক্ষিত কর্মী তারা অনেকেই বাদ পরেছেন। পেশি শক্তির মাধ্যমেই তারা নির্বাচত হতে চাচ্ছে।

আবার কোন ওয়ার্ডে একাধিক প্রার্থীর দলের সমর্থন পাওয়ার দাবিও আছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি ১২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মামুন রশিদ শুভ্র বলেন, যখন নমিনেশন ঘোষণা করে হয় তখন থেকেই এলাকায় আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে।কিন্তু পরে এটি নিয়ে একটি ভুল বুঝাবুঝি হলে আমরা নেত্রীর সঙ্গে দেখা করে সমাধান করি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি ২৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন মিয়া বলেন, আমাকে এই আসনের এমপি মহোদয় গণভবনে নেত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিল। তখন নেত্রী আমাকে বলেছে তোমার ওয়ার্ড উন্মুক্ত থাকবে।

দলের সমর্থন না পেয়ে  সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ছাড়াও তার নির্বাচনি এলাকায় ৭টি ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী দেয়ার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি ৩০ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ইরফান সেলিম  বলেন, আমার পরিবার রাজনৈতিক পরিবার। আমার পরিবারের সবাই আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গেই যুক্ত। আমি জনগণের সেবা করার জন্যই দাঁড়িয়েছি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি ২৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোহাম্মদ হাসিব উদ্দিন রসি বলেন, আমার বাবা-মা দুইজনই এই ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার ছিলেন।১৯৯৬ সালে তাকে হত্যা কর। আমাকে আমার এলাকার জনগণই নির্বাচনে দাঁড়াতে উৎসাহ দিয়েছে।

দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে এমন বিদ্রোহী প্রার্থী থাকেই, এ  নিয়ে আমরা ভাবছি না।

তবে ভোটারটা বলছেন, দল নয়, কাউন্সিলর পদে প্রার্থী দেখে ভোট দিবেন তারা।