কলাপাড়ায় ফ্রি স্টাইলে সরকারী জমি দখল

আনোয়ার হোসেন আনু, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সরকারী সম্পত্তি দখল করে মাছের ঘের নির্মান করছেন প্রভাবশালীরা। শত শত ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগ স্থাণীয়দের।

গত কয়েকদিন যাবত এমন ধ্বংস যজ্ঞ চালিয়ে আসলেও রহস্যজনক কারনে বনবিভাগ নিরব রয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শুধু জমি দখলই নয়, উপজেলার চাকামইয়া ইউপির আনিপাড়া গ্রামে গত এক সপ্তাহ ধরে প্রকৃতির বিরুদ্ধেও ধ্বংস লিলায় মেতে উঠেছেন এ প্রভাবশালীরা।

ভেকু দিয়ে মাটি খননকালে কয়েক একর জমির গোলপাতার বন উজাড় করাসহ কেটে ফেলা হয়েছে একের পর এক ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বাইন, কেওড়াসহ অসংখ্য প্রজাতির গাছ। অনেকেই আবার ভেকু মালিক পক্ষের সাথে চুক্তির মাধ্যমে স্থানীয় ওই কচুপাতরা নদীতীর থেকে মাটি কেটে নিয়ে বাড়ির আঙ্গিনায় স্তুপ করে রাখছেন নতুন বাড়ি নির্মান কাজে ব্যবহার করবেন বলে।

দখলদার আবদুর রহমান মুন্সির সাথে কথা হলে তিনি প্রথমে তার রেকর্ডীয় সম্পত্তি দাবী করলেও পরে ভুল হয়েছে বলে জানান। সবাই দখল করে ঘের নির্মান করছেন তিনি করলে দোষ কি এমন মন্তব্য তার।

তিনি বলেন, ফরেস্টের স্যারেরা আর সাংবাদিক ভাইরা আইছেলে হ্যারা তো কিছু কয়নায়। আপনারা বসেন,বইসা কথা বলমু আনে। তবে তিনি গাছ কেটে কোথায় রেখেছেন তার সদুত্তর দিতে পারেননি। এদিকে প্রভাবশালী আবদুল মান্নান হাওলাদারের দখলের দৃশ্য ফ্রি স্টাইলে। অনেকটা সিনেমার দৃশ্যের মত। তার ভাষ্যমতে মিয়া আমার দাগের মাতার (সীমানার সামনে) জমি। ঘের বানাইতাছি তাতে কি হইছে। আর এসব গোল গাছ আমি লাগাইছি।

তিনি আরো জানান, স্থানীয় মামুন মেম্বর (সাবেক) তাকে ঘের নির্মানের অনুমতি দিয়েছেন। মামুন মেম্বরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অপেক্ষা তাদের রেকর্ডীয় আছে মনে হয়, আপনারা কতক্ষন আছেন দেখা করতে চাই। তবে স্থানীয়দের দাবী, বনকর্তাদের ম্যানেজের মাধ্যমে’ই চলছে এমন দখল কার্যক্রম। বেশ কয়েকবার ঘুরে এলেও দখলদারদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেইনি তারা।

উপজেলা বনকর্মকর্তা আবদুস সালামের কথায়ও উদাসীনতার সত্যতা মেলে। প্রথমে তিনি জানান, ওইগুলো তাদের রেকর্ডী সম্পত্তি। গাছ তাদের রেকর্ডী এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঠিক তা নয় পাচ পিচ গাছ জব্দ করা হয়েছে । পটুয়াখালী অফিসে যোগাযোগ করে মামলা করা হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু হাসনাত মো. শহীদুল হক জানান, আমি আপনাদের মাধ্যমে জানার পর বেশ কয়েকবার রেঞ্জ কর্মকর্তাকে দেখতে বলেছি। তিনি এখনও মামলা দেয়নি। আমি বিষয়টি দেখছি, আপনারা আমাকে তথ্য দিয়ে হেল্প করেন।