কলাপাড়ায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ১৬’শ কৃষককে কৃষি প্রনোদনা

আনোয়ার হোসেন আনু, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: করোনা পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যবস্থাকে সচল রাখতে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপকূলীয় এলাকার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে সরকারের বিশেষ কৃষি প্রনোদনা বিতরন করা হয়েছে। সরকারী নিষেধাজ্ঞা ও স্বাস্থ্য বিধি মেনে কৃষকদের কৃষি কাজে উৎসাহী করে তুলতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে কৃষি বিভাগ।

এতে গ্রামীন জনপদের মাঠে মাঠে এখন চোখে পড়ছে কৃষকের তৈরী উফশী জাতের আউশ ধানের বীজ তলা। আর এটি ক্রমশ: চ্যান্স ক্রোপ বা সুযোগী ফসল হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কৃষকদের মাঝে। কেননা আউশ ধান চাষাবাদে কৃষকের সেচ খরচ, পোকা নিধনে কীট নাশক খরচের লাঘব হওয়া সহ ফসল বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে কম পরিশ্রম হয় কৃষকের। আর এমন সময় কৃষকের গোলা ভরে ওঠে পাকা আউশ ধানে যখন গ্রামের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের ঘরে ধান চালের সংকট দেখা দেয়।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও দু’টি পৌরসভার ১হাজার ৬’শত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে কৃষি বিভাগ থেকে সরকারের বিশেষ প্রনোদনা পৌঁছে দেয়া হয়েছে। স্থানীয় সাংসদ, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও ও কৃষি কর্মকর্তার উপস্থিতিতে এ কৃষি প্রনোদনা বিতরন করা হয়। এতে প্রতি কৃষককে ৫ কেজি উফশী জাতের আউশ ধানের বীজ, ২০ কেজি ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সার ও ১০ কেজি মিউরিয়েট অব পটাশ (এমওপি) সার দেয়া হয়। যা দিয়ে একজন ক্ষুদ্র কৃষক ১ বিঘা জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের আউশ ধানের চাষাবাদ করতে পারবে। এছাড়া কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের আউশ ধান চাষাবাদের জন্য ১হাজার ২’শ কেজি উফশী জাতের আউশ ধানের বীজ বিনামূল্যে বিতরন করা হয়। যা হেক্টর প্রতি ৩.৫ মেট্রিক টন থেকে ৪ মেট্রিক টন ফলন হয়ে থাকে। কৃষি বিভাগ সূত্রে আরো জানা গেছে, এবছর উপজেলায় ২হাজার ৮শত ৬১ হেক্টর জমি উফশী জাতের আউশ ধান চাষাবাদের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। আউশ ধানের চাষাবাদে কৃষকরা আগ্রহী হয়ে ওঠায় চাষাবাদের এ লক্ষ্য মাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে। কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পাশে থাকায় চ্যান্স ক্রোপ ও সুযোগী ফসল চাষাবাদে দিন দিন কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল মন্নান বলেন, এ বছর কলাপাড়া উপজেলায় লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে বেশী উফশী জাতের আউশ ধানের চাষাবাদ হবার সম্ভাবনা রয়েছে। আউশ ধানের চাষাবাদ শুরু করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ১হাজার ৬শত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে বিশেষ প্রনোদনার আওতায় আনা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাঠ পর্যায়ে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের পরামর্শ প্রদান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এলাকার কৃষকরা দিন দিন উফশী জাতের আউশ ধানের চাষাবাদে আগ্রহী হয়ে উঠছে। তারা এখন বীজ তলা তৈরী কিংবা জমি প্রস্তুত করে বীজ বুনতে শুরু করেছেন। কেননা আউশ ধানের চাষাবাদ কৃষকের কাছে চ্যান্স ক্রোপ বা সুযোগী ফসল। এরজন্য ধান ক্ষেতে সেচের তেমন প্রয়োজন পড়েনা। অল্প বৃষ্টি কিংবা জোয়ারের পানি চাষাবাদে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। প্রখর রোদ থাকায় ক্ষেতে পোকা মাকড়ের তেমন উপদ্রব দেখা না দেওয়ায় কীট নাশক খরচ বাঁচে। জুন-জুলাই মাসে কৃষক আউশ ধান কেটে ঘরে তোলে যখন তাদের গোলা ধান শূন্য থাকে। এছাড়া আউশ ধানের খড় কুটো গবাদি পশু ভাল খায়। ধানের বাজার মূল্য যদি অটুট থাকে কৃষকের উফশী ধানের চাষাবাদে আগ্রহ আরও বাড়বে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহম্মদ শহিদুল হক বলেন, বর্তমান সরকার কৃষি বান্ধব সরকার। কৃষকের স্বার্থে সরকার কৃষি ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রনোদনার ঘোষনা দিয়েছে। ইতোমধ্যে কৃষকদের মাঝে সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে কৃষি প্রনোদনা দেয়া হয়েছে। কৃষি ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা অর্জনে সরকারের এ প্রনোদনা অব্যাহত থাকবে। এছাড়া মাঠ পর্যায়ে কৃষি কাজের জন্য কৃষি বিভাগ থেকে সার্বক্ষনিক পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় সরকার মাঠ পর্যায়ে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ন্যায্য মূল্যে ধান ক্রয় করছে।