কলমাকান্দায় মৃত ব্যক্তির বয়স্ক ভাতা তুলে নিচ্ছে কে বা কারা?

জাহাঙ্গীর আলম, নেত্রকোণা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার ৩ নং পোগলা ইউনিয়নের (ইউপি) মেম্বার মোফাজ্জল হোসেন জুয়েল তার ওয়ার্ডের বয়স্ক ও বিধবা ভাতার কার্ড থেকে টাকা নেওয়া শুরু করে অসীমাহীন নানাবিধ অনিয়মে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এলাকাবাসি।

উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড সারারকোনা গ্রাম ঘুরে জানা যায়, গত ইউপি নির্বাচনে জুয়েল বিজয় লাভ করার পর থেকে জন্ম সনদের কার্ড হতে শুরু করে বয়স্ক-বিধবা ভাতা সহ এই পর্যন্ত সকল প্রকার অনিয়ম সহ নানা বিতর্কিত কাজ করে আসছেন তিনি।

এমনকি মেম্বার জুয়েলের বিরুদ্ধে ২ বছর আগে মৃত্যু হওয়া ব্যক্তির বয়স্ক ভাতার কার্ড ব্যবহার করে এখনো পর্যন্ত টাকা উত্তোলন করে আসছে এমন অভিযোগ করেছেন সারারকোনা গ্রামের মৃত মোসলেম উদ্দিনের স্ত্রী জাহেরা আক্তার ও স্থানীরা।

জাহেরা আক্তার জানান, আমার স্বামী মোসলেম উদ্দিনের মৃত্যুর বয়স হয়েছে ২ বছরের উপরে আমার স্বামী মারা যাওয়ার ১০ থেকে ১৫ দিন পর তার বয়স্ক ভাতার কার্ড নিয়া গেছে মেম্বার যার বই নাম্বার ৩৯৫৯ কোড নাম্বার ৩৪৪২। আর মেম্বার কইয়া গেছিন এই কার্ডটার বদলে আমারে একটা কার্ড করে দিবো। কিন্তু ২ বছর দুই মাসের উপরে হইয়া গেছে এখন পর্যন্ত বয়স্ক ভাতা বা বিধবা ভাতা কোন কার্ডেই পাইছিনা আমি। এরপর থেইকা আমরা এই কার্ডের কোন টাকা পয়সা পাইনা আর কার্ডটাও আমাদের দেয় নাই মেম্বার। কয়েকদিন আগেই জানতে পারলাম আমার মৃত স্বামীর বয়স্ক ভাতার কার্ড দিয়া নাকি এখনো টাকা তুলতাছে। মেম্বার তো দুই বছর আগেই আমাদের কাছ থেকে এই বয়স্ক ভাতার কার্ডটা নিয়ে গেছে। তাহলে এখন মেম্বার ছাড়া এই টাকা আর কেডা তুলবো।

ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়। শুধু বয়স্ক আর বিধবা ভাতার কার্ড নয় মাতৃকালীন কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে সারারকোনা গ্রামের চম্পা আক্তার নামে এক মহিলার কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা নিয়ে ছিলেন। আর এখন চম্পার বাচ্চার বসয় ৬ মাস চলছে কিন্তু এখনো পর্যন্ত তাকে কোন কার্ড বা টাকা দেওয়া হয়নি।

শুধু তাই নয় গ্রামে বিদ্যুৎ আসার পূর্বে বিদ্যুৎ দেওয়ার নামে মিটার প্রতি ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা করে উত্তোলনকারীদের তালিকায় রয়েছে মেম্বার ও তার মামা খোকনের নাম।

এমনকি করোনা পরিস্থিতিতে সরকারি ত্রাণ দেওয়ার কথা বলে গ্রামের প্রায় ২০০ জনের কাছ থেকে ২০ টাকা করে উত্তোলন করেন মেম্বারের মামা খোকন। টাকা দিয়েও করোনা কালীন সময়ে কোনো রকম সরকারি ত্রাণ বা অন্য কোনো সাহায্য সহযোগিতা পায়নি অসহায় ও দরিদ্র গ্রামবাসী।

এবিষয়ে মেম্বার মোফাজ্জল হোসেন জুয়েল এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমি মৃত মোসলেম উদ্দিনের বয়স্ক ভাতার কার্ডটি উপজেলা সমাজ সেবা অফিসে জমা দিয়ে ছিলাম। জমা দেওয়ার কয়েক দিন পরেই আবার কিছু টাকা ঘুষ দিয়ে বয়স্ক ভাতার কার্ডটি পুনরায় নিয়ে এসে ওই মৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যের হাতে তুলে দিয়েছি। আবার বলে ব্যাংক কর্মকর্তা কুদ্দুস সাহেব নামে ওই ব্যক্তির কাছে বয়স্ক ভাতার কার্ডটি আছে।

কিন্তু মেম্বার ঘুষ দিয়ে দ্বিতীয়বার এই বয়স্ক ভাতার কার্ডটি আনার বিষয়ে একদিকে উপজেলা সমাজসেবা অফিসের কথা বলছে। অন্যদিকে উপজেলার সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা কুদ্দুস সাহেবের কথাও বলছেন তিনি।

ইউপি সদস্য মোফাজ্জল হোসেন জুয়েল বিষয়ে জানতে চাইলে ৩ নং পোগলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিক সাহেব এর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন এরকম কোন কিছু যদি প্রমানিত হয় তাহলে তার বিরোদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তিনি আরো বলেন আমি নিজে গিয়ে ব্যাংকে দেখবো মৃত মোসলেম উদ্দিনের টাকা কে উত্তলন করে নিচ্ছে।

এদিকে কলমাকান্দা উপজেলা সমাজসেবা অফিসের অফিস সহায়ক আব্দুর রহমান মেম্বারের এই কার্ড জমা দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমাদের কাছে জুয়েল মেম্বার কোন মৃত ব্যক্তির বয়স্ক ভাতার কার্ড জমা দেয়নি। কার্ডধারী ওই ব্যক্তির মারা যাওয়ার বিষয়টা আমি এখনি জানলাম। আমাদের কাছে একজন মৃত ব্যক্তির কার্ড একবার জমা দিলে দ্বিতীয়বার এই মৃত ব্যক্তির কার্ড নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। মেম্বারের কথা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।

আর যদি কোন ব্যক্তি বয়স্ক ভাতার কার্ডের টাকা উত্তোলনের সময় ওই ব্যক্তি অসুস্থ বা স্বশরীরে উপস্থিত না থাকে তাহলে তার অনুপস্থিতিতে মেম্বার বা চেয়ারম্যান স্বাক্ষর থাকলে আমরাও ওই কার্ডে স্বাক্ষর দিয়ে দেই। তখন এই বয়স্ক ভাতার কার্ড দিয়ে যে কেউ টাকা উত্তোলন করতে পাড়ে।

কলমাকান্দা উপজেলার সমাজসেবা অফিসের কর্মকর্তা রেজাউল করিম এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ভাই আমি এই উপজেলায় নতুন এসেছি। মৃত ব্যক্তির বয়স্ক ভাতার টাকা উত্তোলনের বিষয়ে আমার কোন কিছু জানা নেই। পরিবারের কথামত মোসলেম উদ্দিন মারা গেছেন ২ বছর হয়েছে। কিন্তু এই দুই বছর যাবত মৃত ব্যক্তি টাকা উত্তোলন হয়ে আসছে। কে বা কিভাবে এই টাকা উত্তোলন করছে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।