করোনা রোধে ও খাদ্য সহায়তায় দিন-রাত ছুটে চলেছেন কালিগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান

 সুকুমল কুমার প্রামানিক, রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার কালিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বাবলু মন্ডল বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্য সামগ্রী পৌছে দিচ্ছেন। এছাড়া করোনা ভাইরাস রোধে ইউনিয়ন জুড়েই দিন-রাত দৌড় ঝাঁপ করে সচেতনতায় কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। জানা গেছে, দেশে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পরলে সাধারণ মানুষদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে রাজনৈতিক, সামাজিক বিভিন্ন সংগঠন লিফলেট বিতরণসহ নানা ভাবে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
একের পর এক দেশের বিভিন্ন জেলা লকডাউন ঘোষনা করে খাদ্য সহায়তার ঘোষনা দিয়েছে সরকার। সরকারের এসব খাদ্যসামগ্রী সুষ্ঠু বন্ঠন করতে গ্রামে গ্রামে পাড়া-মহল্লায় ছুটে গিয়ে অসহায়, দু:স্থ্য, হতদরিদ্র, দিনমজুর, ভ্যান চালক, রিক্সা চালক, বিভিন্ন পরিবহন শ্রমিকদের তালিকা করে বাড়ি বাড়ি খাদ্য সামগ্রী পৌছে দিচ্ছেন তিনি। এসব তালিকায় কখনো সরকারী, কখনো ব্যক্তিগত আবার কখনো স্থানীয় এমপি মহোদয়ের বরাদ্দের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করছেন চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বাবলু মন্ডল। এছাড়া ইউনিয়নের অলংকারদীঘি গ্রামে আল আমিন নামে এক যুবক করোনা উপসর্গ নিয়ে রাজশাহী মেডিকেলে মারা গেলে মেনিনজাইটিস রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে ডাক্তার জানিয়েেিলন।
এসময়ও তিনি ওই যুবকের লাশ দাফন-কাফন করতে এগিয়ে আসলে গ্রামাসি এসে যুবকের লাশ দাফন করে। পরে ওই পরিবারে প্রায় এক মাসের খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম। এছাড়া গাইবান্দা থেকে আবাদপুকুর আসা চার জনকে খাদ্য সহায়তা দিয়ে লকডাউনের ব্যবস্থা করেন তিনি। পরে তাদের নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করান স্থানীয় এই চেয়ারম্যান। এছাড়া হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের খাদ্য সহায়তা ছাড়াও প্রতিনিয়ত খোঁজ খবর রাখছেন তিনি। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সাধারণ জনগনকে ঘরে থাকতে এবং সামাজিক জনদূরত্ব ও সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী নিয়ম মেনে চলতে সচেতনতায় কোন রকম নিজের করোনা নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই দিন-রাত ছুটে চলেছেন গ্রাম, পাড়া- মহল্লায়।
তিনি সাধরণ লোকজনের নিরাপত্তার কথা ভেবেই যেখানেই দু/চারজন লোক দেখছেন সেখানেই ছুটে গিয়ে করোনার ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করে ঘর মুখি করছেন। চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বাবলু মন্ডল বলেন, মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর নির্দেশে ইউনিয়নের যেখানেই সমস্যার কথা জেনেছি, সেখানেই ছুটে গিয়ে পাশ্বে দ্বাড়ানোর চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, অনেকেই ব্যক্তিগত ভাবে ত্রান বিতরণ করছেন। ত্রান পাবার যোগ্য নয় এমন ব্যক্তিকে ত্রান দিচ্ছেন ফলে ওই লোকজন কাজের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে বা অকেজো হয়ে পরছে। তাই যাচাই-বাছাই করে ত্রান বিতরণ করুণ।
এছাড়া সম্প্রতি শিলা বৃষ্টিতে যে সব এলাকার ধানসহ ফসল ও বাড়ি ঘরের ক্ষতি হয়েছে সে সব এলাকায় স্বল্প সুদে ঋণ দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বাবলু মন্ডল।