করোনা মোকাবেলায় বাস্তব জীবনে হিরো আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান !

মোহাম্মদ বিপ্লব সরকার, চাঁদপুর প্রতিনিধি:  বৈশ্বিক কোভিড ১৯ বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ করোনা ভাইরাসের মহামারীর আতঙ্কে মানুষ গৃহবন্দী। একটু অসাবধানতায় জীবন পড়তে পারে চরম বিপর্যয়ের মুখে। এমনকি চিরদিনের জন্য জীবন প্রদীপও নিভে যেতে পারে। ঠিক সেই মুহুর্তে সাধারণ মানুষের সুরক্ষার জন্য দিনরাত নিরলসভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রাজস্ব) আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান।

২০১৮ সালের ৫ মে চাঁদপুরে যোগদানের পর থেকেই তিনি নিজেকে উজাড় করে চাঁদপুর জেলার মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। জেলার সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষের সাথে সমানতালে সুসম্পর্ক বজায় রেখে সততার সাথে তিনি তার দাপ্তরিক কাজ সম্পাদন করে চলেছেন।

ভয়ঙ্কর করোনা মহামারীতে নিজের স্বজনরা যেখানে তাদের আক্রান্ত প্রিয়জনকে ফেলে চলে যাচ্ছেন। সেখানে ভয়কে জয় করে পরম মমতায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিত্যদিনের চিকিৎসা, খাওয়া-দাওয়া, প্রতিবেশীদের অবহেলা ও দুর্ব্যবহার থেকে রক্ষাসহ যাবতীয় বিষয় দেখভাল করছেন তিনি। এমনকি আক্রান্তদের মৃত্যুর পরও জাত-ধর্ম ভেদ না করে নিজেই উপস্থিত থেকে সম্পন্ন করছেন শেষ বিদায়ের কাজ।

ঘরে স্ত্রী আর দুই সন্তান রেখেও নিজের দায়িত্ববোধ আর মানবিকতার তাড়নায় আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান দিনরাত অবিরাম ছুটে চলেছেন চাঁদপুরের প্রান্তিক জনপদের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। সবমিলিয়ে একের পর এক মহানুভবতার ঘটনায় তিনি হয়ে উঠেছেন চাঁদপুরের মানুষের বিশ্বস্ততা ও ভরসার প্রতীক।

একই মানুষের দিনরাত একসাথে এতো দায়িত্ব পালন, এ যেন গল্প-সিনেমার হিরোদেরকেও হার মানায়। সবকিছু ছাপিয়ে তার অতিমানবিক গুণ ও কর্মদক্ষতায় তিনি চাঁদপুর জেলার সকলের মাঝে হয়ে উঠেছেন একজন ‘বাস্তব জীবনের সুপার হিরো’।

জানতে চাইলে আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামানের সহধর্মীনি জানান, সংকট সারাজীবন থাকবে না। হয়তো চাকরির সময়ের পর আমাকে সময় দিতে পারতো। তাতে শুধুমাত্র আমি উপকৃত হতাম। এখন জেলার ২৬ লক্ষ মানুষ উপকৃত হচ্ছে। এই সংকটময় সময়ে সে চাঁদপুরের লাখো মানুষের পাশে থেকে সেবা দিতে পাড়ছে। এর চেয়ে খুশির আর কিছুই নেই। তার জন্য সবার কাছে দোয়া চাই। তিনি যেন এইভাবেই প্রশাসনে থেকে প্রান্তিক মানুষকে সেবা দিতে পারে।

এ ব্যাপারে চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রাজস্ব) আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আদর্শের প্রতি আমার দুর্বলতা রয়েছে। আমার ইচ্ছা জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তোলা।মহামারী করোনাকে কেন্দ্র করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের জনগনকে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে এবং সবাই স্বাস্থ্য সচেতনতায় সর্তক থাকতে বলেন। সেই সাথে সাথে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে চিকিৎসা, কোয়ারেন্টিন, আইনশৃঙ্খলা, ত্রাণ বিতরণ ও দুর্নীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে ৩১ দফা নির্দেশনা দেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেয়া নির্দেশনা গুলো কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করে চলেছেন চাঁদপুর জনবান্ধব অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান। যেকোন পরিস্থিতিতে দৃঢ় মনোবল নিয়ে কাজ করাই যেন তার শিক্ষা।

চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রাজস্ব) আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান জানান, চাঁদপুর জেলা এবং উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে অব্যাহত রয়েছে। করোনা পরিস্থিতিকে পুঁজি করে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রচেষ্টাকে কঠোর হস্তে দমন করা হবে। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণ, গণসচেতনতা সৃষ্টি ও বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টাইনে থাকার বিষয়ে সকলকে সচেতন করা হচ্ছে। এই সংকটের সময়ে মানুষের উপকারে আসাটাই বড় কথা। তার পাশাপাশি সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে রাষ্ট্রের দেওয়া সকল দায়িত্ব পালন করতে হবে।