করোনা কালিন সময়ে সিলেটের পর্যটন খাত বিপর্যয়ের মুখে।

এনাম রহমান, সিলেট জেলা প্রতিনিধি:  সিলেট সহ সারা দেশে করোনাভাইরাসের প্রার্দুভাবে প্রায় চার মাসের উপরে চলছে। এ সময়ে ঈদের দিন থেকে সিলেটের পর্যটন কেন্দ্র গুলিতে দর্শনার্থীদের উপচে ভিড়ে থাকতো মুখরিত, এখন কেবল স্মৃতি সে সব জায়গা গুলিতে।

এ সময় সিলেটের হোটেল মোটেল বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন এ খাতকে ঘিরে উপার্জন নির্ভরশীল ব্যবসায়ী ও কর্মীরা। সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির হিসাবে এ অঞ্চল বা বিভাগে পর্যটন খাতে প্রতিদিন প্রায় তিন কোটি টাকার মতো ক্ষতি হচ্ছে। আর গেল চার মাসে লোকসান দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৫০ কোটি টাকার উপরে।

সিলেট হোটেল অ্যান্ড গেস্ট হাউজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুমাত নবী চৌধুরী জুয়েল বলেন আমরা এক অনিশ্চিত সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে ঠিক নেই। যদি করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি মেলে, তবে এরপর অন্তত দেড় থেকে দুই বছর সময় লাগবে পর্যটন খাত স্বাভাবিক হতে। সিলেটের যেসব জায়গা দেশ বিদেশের পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে,

বিছনাকান্দি, জাফলং, রাতারগুল, লালাখাল, লোভা নদী, কোম্পানীগঞ্জ সাদাপাথর, চা বাগান, হাকালুকি হাওর অন্যতম। সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর, তাহিরপুরে টেকেরঘাট নিলাদ্রি, শিমুলবাগান পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের জায়গা।

এছাড়া মৌলভীবাজারের মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, হামহাম জলপ্রপাত, মনিপুরি পাড়া, শ্রীমঙ্গল চা বাগানসহ রয়েছে অসংখ্য পর্যটনকেন্দ্র।

সংশ্লিষ্টরা বলছে পর্যটন নগরী হিসেবে পরিচিত সিলেটে গত এক দশকে পর্যটক সমাগম বেড়েছে আকাশ চুয়া। তাই ছুটির দিনগুলোয় কোনো হোটেল মোটেলে কক্ষ খালি পাওয়া কঠিন এক ব্যাপার ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে এই খ্যাতে একেবারে বিপর্যন্ত হয়ে পড়েছে।

সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি শেষে ব্যবসা বাণিজ্যের অন্যান্য খাত সচল হতে শুরু করলেও পর্যটক নির্ভর সিলেটের হোটেল মোটেলগুলোয় এখনও স্থবিরতা কাটেনি। স্বাভাবিক সময়ে পর্যটকদের ভরপুর থাকে এসব হোটেল ও রেস্ট হাউজ কিন্তু অনেকেই হোটেলে রুম না পেয়ে নিজেদের গাড়িতে রাত্রি যাপন করতে হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে পর্যটক না থাকায় সব হোটেল মোটেল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এতে ছাঁটাই হওয়া কর্মীরা পড়েছেন সমস্যায়। সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবু তাহের মো. শোয়েব বলেন সিলেটের পর্যটন খাতকে ঘিরে হোটেল, রেস্ট হাউজ, পরিবহন, রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন ব্যবসা জড়িত। এসব ব্যবসা করোনা ভাইরাসের কারণে এখন গভীর সংকটের মধ্যে পড়েছে। পর্যটন বলতে শুধু পর্যটনকেন্দ্রই নয়, এর সঙ্গে অনেক মাঝারি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়িক খাত জড়িত রয়েছে। পর্যটন সংশ্লিষ্ট সব খাত এখন চরম সংকটের মধ্যদিয়ে যাচ্ছে।

এ সংকটে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা পথে বসার উপক্রম হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিলেট অঞ্চলে প্রতিদিন প্রায় ৩ কোটি টাকার উপরে ক্ষতি হচ্ছে পর্যটন খাতে। গত চার মাসে এ ক্ষতির পরিমান ৪৫০ কোটি টাকার মতো বলে জানান তিনি। সিলেট হোটেল অ্যান্ড গেস্ট হাউজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যভুক্ত সিলেটে প্রায় ২০০টি হোটেল,

মোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। সংগঠনের বাইরেও রয়েছে অনেক কুদ্র মাঝারি ধরনের ব্যবসায়ী এ অবস্থা চলতে থাকলে ওরাই ব্যবসা গুটিয়ে নেবে। কেবল হোটেল নয়, পর্যটক নির্ভর করে সিলেটে অনেক রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠেছে। তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এছাড়া বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রের নৌকার মাঝি, পরিবহন সেক্টর, ট্যুরিস্ট গাইড, কুদ্রব্যবসাহীসহ সবাই ক্ষতির মুখে পরেছে। সিলেটের একজন উদীয়মান হোটেল ব্যবসায়ী জুবের আহমদ বলেন গত বছর সিলেটের হোটেল, মোটেল, রিসোর্টে ঈদের এক মাস আগেই সব কক্ষ বুকিং হয়ে যায়।

কিন্তু এবার একবারেই শূন্য। কোনো অগ্রিম বুকিং নেই। পরিবারের অন্য খাত থেকে টাকা এনে কর্মচারীদের বেতন দিতে হচ্ছে । পর্যটন ব্যবসায়ীরা বছরে কোটি কোটি টাকা ভ্যাট-ট্যাক্স দেন। কিন্তু বিপদের এই সময় সরকারের সাহায্য সহযোগিতা প্রয়োজন মনে করেন।